| |

ময়মনসিংহে ব্রম্মপুত্র নদে হিন্দু সম্প্রদায়ের অষ্টমী স্নান পুলিশ ও মেয়রের সহযোগিতায় সুষ্টু ভাবে সম্পন্ন

আপডেটঃ 12:11 am | April 05, 2017

Ad

সুমন ঘোষ ॥ ময়মনসিংহের ব্রম্মপুত্র নদের দুইপাড়ে জেলা পুলিশ ও পৌর মেয়র এর সহযোগিতায় হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবল্বীদের অষ্টমী স্নানোৎসব সুষ্ট ভাবে শেষ হয়েছে। গত সোমবার ৩মার্চ বিকাল থেকেই ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সনাতন ধর্মাবল্বীরা ময়মনসিংহ মহানগরে ব্রম্মপুত্র নদে স্নান করার জন্য আসতে শুরু করে।

রঘুনাথ জিউর আখড়া, দুর্গাবাড়ী, অনন্তময়ী আশ্রমে রাত্রিযাপনের জন্য ভীড় জমায়। সোমবার রাত্র থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত পুন্যস্নানের জন্য আগত ভক্তদের মাঝে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খিচুরী বিতরন করে।

রঘুনাথ জিউর আখড়ার সভাপতি এডভোকেট পীযুষ কান্তি সরকার, সাধারন সম্পাদক ও মহানগর পুজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক প্রদীপ ভৌমিক জানান, সোমবার রাত্র থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত রঘুনাথ জিউর আখরার কর্তৃপক্ষ প্রায় ১০ হাজার লোকের মাঝে খিচুরী বিতরন করেছেন।

“গীতাঞ্জলী ফোরাম” নামক একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সকাল বেলায় নদীর ঘাটে স্নান করার পর পুন্যার্থীদের মাঝে চিড়া, বাতাসা, কলা,পানির বোতল এবং বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরন করেছে।

“গজ্ঞা মন্দির” ও দুর্গাবাড়ী কমিটির পক্ষ থেকেও পুন্যস্নান করতে আসা ভক্তদের মাঝে খিচুরী বিতরন করা হয়। অষ্টমীস্নান উৎসবকে সুন্দর ও সুষ্ট ভাবে পালনের লক্ষ্যে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, পৌরসভার মেয়র, পুজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে প্রথম বারের মত মতবিনিময় করেন।

যা ইতিপুর্বে আর কোন দিন হয়নি। ময়মনসিংহ পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারের নির্দেশে নেয়া হয়ে ছিল বিশেষ নিরাপত্তা মুলক ব্যবস্থা। প্রত্যেকটি মন্দিরে ব্রম্মপুত্র নদের দুইপাড়ে নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: কামরুল ইসলাম জানায়, অষ্টমী পুন্যস্নান শেষ না হওয়া পর্যন্ত মডেল থানার অফিসারবৃন্দ ও অন্যন্য পুলিশ সদস্যরা বিশেষ নজরদারী করেছেন। যাতে করে দুস্কৃতিকারীরা কোন প্রকার অঘটন ঘটাতে না পারে। সারারাত ব্যাপী পুলিশের ছিল বিশেষ টহল ব্যবস্থা।

স্নান চলাকালীন সময়ে নদীতে ফায়ার সার্ভিসের একটি টহল দল কর্তব্যরত ছিল। ময়মনসিংহ পৌরসভার পক্ষ থেকে নদীর ঘাটে স্নান সমাপ্তের পর ভেজা কাপড় বদলানোর জন্য অস্থায়ী সেড নির্মান করা হয়ে ছিল।

দর্শনার্থীদের প্রয়োজনের তুলনায় সেড এর পরিমান ছিল কম। যার ফলে পুন্যার্থী মহিলাদের দীর্ঘক্ষন দাড়িয়ে থেকে ভেজা কাপড় পরিবর্তন করতে দেখা গেছে তা সত্বেও কোন প্রকার বিশৃংখল পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। স্থানীয় কমিশনার এর তৎপরতা প্রতি বৎসরের চাইতে এবার কম পরিলক্ষিত হয়েছে।

“শারদাঞ্জলী ফোরাম” এর পক্ষ থেকেও মহিলাদের ভেজা কাপড় বদলানোর জন্য অস্থায়ী সেড নির্মান করা হয়ে ছিল বলে জানিয়েছেন ফোরামের উপদেষ্টা প্রদীপ ভৌমিক। এ উপলক্ষে দুর্গাবাড়ী রোডে এক মেলার আয়োজন করা হয়। উক্ত মেলায় সব ধর্মের নারী পুরুষ ও শিশুদের তাদের প্রয়োজনীয় জিনিষ পত্র ক্রয় করতে দেখা গেছে।

স্নান চলাকালীন সময়ে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, পৌর মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটু, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব এহতেশামুল আলম, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অষ্টমী স্নানের ঘাট গুলি পরিদর্শন করেছেন ও পুন্যার্থীদের সাথে কুশল বিনিময় করেছেন।

poja pic 01

মহানগর পুজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক প্রদীপ ভেমিক, সদস্য সচিব উত্তম চক্রবর্তী রকেট, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি এডভোকেট বিকাশ রায়, জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট প্রনব সাহা রায়, সাধারন সম্পাদক এডভোকেট রাখাল সরকার, পৌর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনকে অষ্টমী স্নান সুষ্ট ভাবে সম্পন্ন করার সহযোগিতার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ