| |

ছয় মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন ত্রিশালে ইউপি সদস্য মোনায়েম হত্যারহস্য উন্মোচন

আপডেটঃ 12:20 am | April 05, 2017

Ad

ফয়জুর রহমান ফরহাদ ॥ ডাক্তারের রিপোর্টেই পাল্টে যায় চাঞ্চল্যকর ইউপি মেম্বার মোনায়েমের হত্যার রহস্য। হত্যাকে আত্বহত্যার রিপোর্ট দিয়ে রহস্যজনক কারনে ধামাচাপা দেয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোখলেছুর রহমান। ময়মনসিংহের ত্রিশালের রামপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোনায়েম খাঁ’র মৃত্যুর রহস্য নিয়ে রহস্য  জালের সৃষ্টি হলেও অবশেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই)’র তদন্তে ছয় মাস পর মূল ঘটনার উন্মোচন হয়েছে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকায় অভিযোগে তিনজনকে আটকের পর তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে আদালতের নির্দেশে লাশ উত্তোলন করে পুনঃময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। জানাযায় গত বছরের ২৪ অক্টোবর ত্রিশাল উপজেলার চকরামপুর নিজ বাড়ির পাশেই একটি গাছে ফাসিঁতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় রামপুর ইউনিয়নের ৯নং ওর্য়াডের ইউপি সদস্য মোনায়েম খাঁর।

মেম্বারের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। ওই ঘটনায় ত্রিশাল থানা পুলিশ আত্বহত্যার কারনে মৃত্যু হয়েছে বলে লাশ পোষ্টমর্টেমের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে পাঠায়।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ থেকে আত্বহত্যার জনিত মৃত্যু হয়েছে বলে রিপোর্ট প্রদান করলে ত্রিশাল থানা পুলিশ আত্বহত্যা হিসেবে রিপোর্ট প্রদান করে। পরে নিহতের পিতা জামাত আলী বাদী হয়ে ময়মনসিংহ আদালতে একই এলাকার তারা মিয়াসহ সাতজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত ত্রিশাল থানা পুলিশকে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ত্রিশাল থানার ওসি মনিরুজ্জামান এসআই লিটনকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।

তিনি ঘটনাস্থলে না গিয়ে মনগড়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। ওসি মনিরুজ্জামান একই কর্মকর্তাকে বারবার তদন্তের দায়িত্ব দিলে বাদী চূড়ান্ত প্রতিবেদনের আপত্তি জানায়। পরে আদালত পিবিআই এর মাধ্যমে তদন্তকার্য সম্পন্ন করার জন্য জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর পিবিআই তদন্ত করে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকায় অভিযোগে ফাখরুল ইসলাম, হত্যায় ব্যবহ্রত সিএনজি চালক মোস্তাকিম ও নাঈম নামে তিনজনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে।

পরে তারা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ওই তারা মিয়া সহ ১১ জন মিলে কিভাবে হত্যাকান্ড ঘটিয়ে মোনায়েমকে রাতের আধারে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখে আদালতে তার বর্ণনা দেন। এদিকে ফরেনসিক বিভাগ ময়নাতদন্তের রির্পোটও আসামীদের পক্ষে দিয়েছে এমন অভিযোগ তার পরিবারের।

সঠিক তথ্য উঠে আসার জন্য ত্রিশাল থানা পুলিশকে বাদ দিয়ে পিবিআই’য়ের সহযোগিতায় আদালতের মাধ্যমে পুনরায় ময়না তদন্তের দাবি জানালে গতকাল মঙ্গলবার সকালে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজাফর রিপন, ময়মনসিংহ পিবিআই এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বকর সিদ্দিক, এসআই ফিরোজ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এ সময় হাজার হাজার উৎসুক জনতা সেখানে ভীড় জমায়। এদিকে জনপ্রিয় মেম্বার হত্যার বিচারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভও করছেন তারা।

পাশাপাশি যে ডাক্তারের মাধ্যমে ফরেনসিক রিপোর্ট পাল্টানো হয়েছে তার বিচার দাবী করেছেন। মোনায়েম খাঁ’কে জননন্দিত মেম্বার হিসেবে উল্লেখ করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হক বলেন এটি হত্যাকান্ড হলে অবশ্যই তাঁর সঠিক বিচার হওয়া উচিত।

মোনায়েমের পিতা জামাত আলী খান বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের ডাক্তার কাজী মোখলেছুর রহমান মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ময়নাতদন্তে আতœহত্যা বলে রিপোর্টটি চালিয়ে দেওয়ায় চেষ্টা করেছে।

ত্রিশাল থানা অফিসার ইনচার্য মনিরুজ্জামান বলেন আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ ত্রিশাল থানায় নিয়ে আসার পর ডাক্তারের প্রাথমিক তদন্তে আত্বহত্যার রিপোর্ট দেয়ায় আমরা অপমৃত্যর মামলা নিয়ে লাশ দাফন করি। পরবর্তীতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ থেকে আত্বহত্যা জনিত মৃত্যু হয়েছে বলে রিপোর্ট দিলে ডাক্তারের সার্টিফিকেটের উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞ আদালতে রিপোর্ট প্রদান করি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুবকর সিদ্দিক বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে মামলার পুনঃ তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে মুল রহস্য উদঘাটন করেছি। ইউপি মেম্বার মোনায়েমকে পার্শবর্তী একটি বাড়িতে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল বলে আসামীরা স্বীকার করেছে। অল্প সময়ের মধ্যে আমরা বাকী আসামীদের গ্রেফতার করা হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ