| |

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ভারী বর্ষণে পাহাড়ী ঢলে বহু বোরো ফসল তলিয়ে গেছে

আপডেটঃ 8:08 pm | April 22, 2017

Ad

মো. জয়নাল আবদিন,ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি: গত ২ দিনের ভারী বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে ৩টি নদী দিয়ে প্রবল বেগে পাহাড়ী ঢলের পানিতে ঝিনাইগাতী উপজেলার বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

প্রবল বেগে পানি নেমে আসার কারণে মহারশী নদীর পাড় উপচে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ ও ঝিনাইগাতী সদর বাজারে ৩ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়।

পাহাড়ী ঢলের বন্যার পানিতে বহু নতুন নতুন এলাকার বোরো ফসল ঢলের পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতি দেখে কৃষকেরা হতাশ হয়ে পড়েছে। প্রথম দফার বন্যায় বিলাঞ্চলের বোরো ফসল নষ্ট হয় এবং শীলাবৃষ্টিতে পাহাড়ী অঞ্চলের বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়।

যে সমস্ত এলাকা প্রথম দফার বন্যায় ধলি, গজারমারী, বালিয়া, বাগজানি, কান্দুলী ও বগাডুবিসহ আরও অনেক অঞ্চলের ফসলের ক্ষতি সাধন হয়েছে।গতরাতের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে দ্বিতীয় দফার আবারও বন্যার পানিতে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের আরও বহু এলাকার বোরো ফসল ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।

প্রথম দফা ও দ্বিতীয় দফার বন্যায় বোরো ফসলের পাশাপাশি সবজিসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে। বন্যার ক্ষতির কারণে অত্র অঞ্চলের দরিদ্র ও প্রান্তিক চাষীরা কিংকতর্ব্য বিমুঢ় হয়ে পড়েছে।

এবছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে চৈত্রী’র প্রথম থেকেই কাল বৈশাখী ঝড় ও শীলাবৃষ্টি শুরু হয়েছে। এখন আবার ভরা বর্ষার মৌসুমের ন্যায় ভারী বর্ষণ হচ্ছে। প্রতিনিয়ত বর্ষণের কারণে নিচু জমিসহ উঁচু জমিতেও বন্যার পানি জমে যাওয়ার কারণে সব ধরণের সবজির গাছ নষ্ট হয়ে গেছে।

এতে সবজির ব্যাপক সংকট দেখা দিতে পারে। ভারতের মেঘালয় প্রদেশ থেকে ঢলের পানি মহারশী, সোমেশ্বরী, কালঘোষা, কর্ণঝোড়া ও চেল্লাখালি এসমস্ত নদী দিয়ে প্রবল বেগে বন্যার পানি প্রবাহের ফলে বহু এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে।অসময়ের বন্যার পানিতে রাস্তা-ঘাট, বাড়ি-ঘর, শাক-সবজির ও ফসলাদির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, শেরপুর জেলার সিংহাগ লোক দরিদ্র কৃষক। কৃষি ফসল উৎপাদন করে তাদের পরিবার-পরিজ্বনের চাহিদা মিটায় এবং বাড়তি ফসল বাজারে বিক্রি করে আনুসাঙ্গিক চাহিদা পূর্ণ করে থাকে।

প্রকাশ থাকে যে, এবছর ধানের বাজার ভাল থাকায় অত্র জেলা ও উপজেলার কৃষকেরা বোরো ফসল বিগত বছরের চেয়ে বেশী উৎপাদন করেছে। আর এই উৎপাদিত বোরো ফসল অসময়ের বন্যায় সিংহভাগ ফসল ক্ষতিগ্রস্থ্য হওয়ায় দরিদ্র কৃষকের মাথায় যেন বজ্রাঘাত।

বন্যায় প্লাবিত এলাকা ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.জেড.এম শরীফ হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. লাইলী বেগম, ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ পরিদর্শন করেছেন।

এব্যাপারে কৃষি অফিসার আলহাজ্ব মো. কোরবান আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,  বন্যা জনিত কারণে কিছু বোরো ফসল ও সবজি ফসলের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রথম দফা ও দ্বিতীয় দফা বন্যায় উৎপাদিত ফসলের ১০/১৫ ভাগ ফসল নষ্ট হয়েছে, তবে উঁচু জমির ফসলগুলি অন্যান্যা বছরের তুলনায় ভাল হয়েছে।

প্রকৃতিগত ক্ষতির কারণের কাহারো কিছু করার থাকেনা। এটাকে মোকাবেলা করেই উৎপাদন করতে হবে। আবহাওয়া সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃষকের চাষাবাদ করতে হবে। তাহলেই ক্ষতির হাত থেকে অনেকটা কাটিয়ে উঠা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

ব্রেকিং নিউজঃ