| |

সুনামগঞ্জ এর হাওরে চলছে অশ্রুহীন কান্না

আপডেটঃ 10:21 pm | April 22, 2017

Ad

এইতো কদিন আগে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি বাঁধ ভেঙে তলিয়ে দিল সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার সব কটি হাওর। পানির নিচে পচতে হয়েছে কৃষকের বাৎসরিক ফসল বোরো ধান। হাওরের বাতাসে ভাসছে পচা ধানের গন্ধ। বোরো ধান পচা পানির বিষক্রিয়ায় এইবার মরে যাচ্ছে কৃষকের অন্যতম সম্বল মাছ। মরে যাচ্ছে হাঁস। এর পেছনে ইউরেনিয়ামের অবদানের কথা ও দৃষ্টিগোচরে আসছে।

হাওর পারের মানুষের দীর্ঘশ্বাসে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠবে সেটাই স্বাভাবিক। চারদিকে এমন হাহাকারের মধ্যেই এনজিওর ঋণের কিস্তির টাকা আদায় এনজিওলাদের নৈতিক দ্বায়িত্বে পরিণত হয়েছে।

এনজিও প্রতিনিধিদের ভয়ে এক গ্রামেরই ছয়টি পরিবারের খোঁজ পাওয়া গেছে যারা কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পেরে তাদের বাপ-দাদার ভিটে ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

জানা গেছে, মোহনগঞ্জের ডিঙ্গাপোতা হাওরে ৪০০ টন মাছ মরে গেছে। বছরের একমাত্র ফসল বোরো ধান নষ্ট হওয়ায় উপজেলার কৃষিনির্ভর শতাধিক গ্রামে চলছে হাহাকার। সরকারিভাবে ৫ হাজার ২০০ কৃষককে কিছু ত্রাণ দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ২০০ কৃষকের ভাগ্যে কোনো সহায়তা জোটেনি। আবার ওই নিঃস্ব কৃষকের ওপর কিস্তি আদায়ে এনজিওগুলোর ‘অমানবিক’ তৎপরতা আসলেই সাহসিকতার পরিচয়।

চলতি সপ্তাহে ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর মোহনগঞ্জের ডিঙ্গাপোতা হাওরের ৪০০ টন মাছ মরে গেলেও মোহনগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা অবশ্য ২০০ টন মরে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। বিষাক্ত গ্যাস সৃষ্টি হয়ে অক্সিজেনের অভাবে মাছগুলো মারা যাচ্ছে। মাছের অব্যাহত মড়ক পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দীন আহাম্মেদ কয়েক দফা হাওর অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন বলে ও জানা যায়।

মোহনগঞ্জ কৃষি বিভাগ বলছে, সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় এবং অতি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় এখানে ১১৪ কোটি টাকার বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম নাফিস জানান, উপজেলার ১৮ হাজার ৪০০ কৃষক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারিভাবে ৪৮ টন চাল এবং নগদ ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, জনপ্রতি ১৫ কেজি হারে ৩ হাজার ২০০ কৃষককে চাল এবং ২ হাজার কৃষকের মধ্যে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে বিতরণ করা হয়েছে। এখনও ১৩ হাজার ২০০ কৃষক কোনো সহায়তা পাননি।

ঘরে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় কেউ কেউ দুপুরের খাবার বাদ দিয়েছেন। দিনে দু’বার অনেকে একবার রুটি খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদেরই একজন বিলকিছ। প্রতিবন্ধী স্বামী তাজুলের স্ত্রী বিলকিছ বলেন, সকালে রুটি খেয়েছি। দুপুরের খাবার ঘরে নেই। রাতে খাবার জুটবে কিনা জানি না। মোহনগঞ্জের ওই সিয়াধার গ্রামের মতো উপজেলার শতাধিক গ্রামে প্রায় একই অবস্থা বিরাজ করছে বলে ও জানা যায়।

অক্সিজেন সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ধান এবং মাছ পচা গন্ধে মানুষের মধ্যে পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিষাক্ত পানি লাগলেই চুলকানি শুরু হয়ে যাচ্ছে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নির্মল চন্দ্র বণিক জানান, ফসল পচে অ্যামোনিয়া গ্যাস সৃষ্টি হয়ে মাছগুলো বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মরে যাচ্ছে।

সুনামগঞ্জের এহেন পরিস্থিতিতে সমস্ত সচেতন নাগরিক এগিয়ে আসবেন এরকমটাই প্রত্যাশা।

ব্রেকিং নিউজঃ