| |

বর্তমানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খৃষ্টান সকলেই সমান অধিকার ভোগ করছে

আপডেটঃ 1:35 am | April 23, 2017

Ad

ইব্রাহিম মুকুট ॥ বাংলাদেশ পুঁজা উদযাপন পরিষদ ময়মনসিংহ জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ২১ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ১১টায় এডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটরিয়াম টাউনহলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনের শুরুতে জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করে সম্মেলনের শুভ সুচনা করা হয়।

বাংলাদেশ পুঁজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্রী জয়ন্ত সেন দীপু সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। ময়মনসিংহ জেলা পুঁজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট প্রনব কুমার সাহা রায় এর সভাপতিত্বে ময়মনসিংহ জেলা পুঁজা উদযাপন কমিটির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খৃষ্টান সকলেই সমান অধিকার ভোগ করছে। সবাই যার যার ধর্ম পালন করবে এটিতে কোন বাধা নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় শান্তিপুর্ন জীবন যাপন করছে।

এই বছর বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপুঁজা অন্য সময়ের চেয়ে বেশি ও জাক জমকপুর্ন পরিবেশে ও নিরাপদে পালিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য ২শত কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

বিভিন্ন সময় হিন্দু মুসলমানের মধ্যে যে গন্ডগোল ও গুলাগুলি হয়েছে তা সম্পুর্ন তাদের ব্যাক্তিগত স্বার্থসিদ্বির জন্য। তিনি কোন ধর্মের অনুসারীকে এক চোখা নীতিতে দেখেন না।তিনি আরো বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের আর্থিক সামাজিক যে কোন ধরনের সমস্যা হউক আমি আপনাদের পাশে থাকবো। কেউ হিন্দু মুসলমান ভাগাভাগি করবেন না।

হিন্দু মুসলমান ভাগাভাগি করলে কুচক্রি মহল সুযোগ নিবে। ধর্ম যার যার উৎসব সবার। ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভাবে দেশ চালাচ্ছে তাঁকে সহযোগিতা করুন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন পোরন হবে। সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ পুঁজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক এডভোকেট তাপস কুমার পাল।

জেলা পুঁজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট রাখাল চন্দ্র সরকারের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও বাংলাদেশ পুঁজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি ময়মনসিংহ বিভাগের যুগ্ন সম্পাদক বাবু সুব্রত পাল, ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী পদ্মাবতী দেবী, জেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি এডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত, বাংলাদেশ পুঁজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী নারয়ন চন্দ্র সাহা অপু, সহ কোষাধ্যক্ষ তাপস চন্দ্র পাল, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট বিকাশ চন্দ্র রায়, সাধারন সম্পাদক শ্রী স্বপন সরকার, ময়মনসিংহ মহানগর পুঁজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক প্রদীপ ভৌমিক, সদস্য সচিব উত্তম চক্রবর্তী রকেট প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পুঁজা উদযাপন পরিষদ ময়মনসিংহ সদর উপজেলা শাখার আহবায়ক শ্রী শংকর সাহা। এসময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা মটর মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন মন্তা, জেলা ওয়ার্কাস পার্টির সাধারন সম্পাদক ডা: সুজিত বর্মন, ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের সংগ্রামী আহবায়ক এডভোকেট আজহারুল ইসলাম, যুগ্ন আহবায়ক শাহরিয়ার মো: রাহাত খান, শাহ শওকত উসমান লিটন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন বাবুল রায়। ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান বলেন, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার এর বাইরে কিছু ভাবিনা। বাংলাদেশ পুঁজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক এডভোকেট তাপস কুমার পাল বলেন, ধর্ম মন্ত্রনালয়ের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবল্বমীদের জন্য হিন্দু ফাউন্ডেশন চাই।

ধর্ম মন্ত্রনালয়ে কোন হিন্দু কর্মকর্তা নেই। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ধর্মমন্ত্রীকে আহবান জানান। বর্তমান সরকার হিন্দুদের উপাসনালয় গুলিকে সংস্কারের জন্য ২শত কোটি টাকা বরাদ্ধ করেছে কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারনে বরাদ্ধকৃত টাকা কাজে লাগানো হচ্ছেনা।

তিনি ধর্মমন্ত্রীকে উদ্যেশ্য করে বলেন, আমরা খয়রাতি চাইনা, বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে বরাদ্ধকৃত টাকা দিয়ে সংস্কার কর্মকান্ডটি সম্পন্ন করতে হবে। প্রতি ২বছর অন্তর অন্তর সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। দুই টার্মের বেশি কেউ নেতৃত্বে থাকতে পারবেনা। ময়মনসিংহ মহানগর পুজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক প্রদীপ ভৌমিক বলেন, ময়মনসিংহ মহানগরে লক্ষাধীক সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বাস করে।

প্রায় ৫৪ হাজার ভোটার তা স্বত্বেও রাজনৈতিক দলগুলিতে সংখ্যালঘুদের স্থান খুব কম। তিনি বলেন, ভোট দেব কিন্তু নেতৃত্বে দিবেন না তা হতে পারেনা। তিনি দেবত্বর সম্পত্তির প্রসঙ্গে বলেন, ময়মনসিংহের অনেক মন্দিরের জায়গা দখল করে রাখা হয়েছে।

উদাহারন হিসাবে রঘুনাথ জিউর আখড়ার প্রায় ৮০ একর সম্পত্তি সরকারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ দখল করে রেখেছে। এ গুলিকে পুনরৃদ্ধার করে মন্দিরের নিকট ফেরত দিতে হবে। এই সম্পত্তি গুলি পুনরুদ্ধার হলে মন্দির গুলির কোন অর্থনৈতিক সংকট থাকবেনা।

সম্মেলনের ১ম অধিবেশন শেষে বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক এডভোকেট তাপস কুমার পাল সাবেক জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট প্রনব কুমার সাহা রায়কে কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্ঠা ও আগামী দুই বছরের জন্য এডভোকেট রাখাল চন্দ্র সরকারকে সভাপতি ও এডভোকেট সৌমেন্দ্র কিশোর চৌধুরীকে সাধারন সম্পাদক হিসাবে নাম ঘোষনা করেন এবং আগামী ১৫ দিনের ভিতর পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় কমিটি বরাবরে প্রেরন করার নির্দেশ দেন।

ব্রেকিং নিউজঃ