| |

ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে বৃষ্টি পানিতে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর বোরো ধান

আপডেটঃ 4:18 pm | April 23, 2017

Ad

আব্দুল আউয়াল ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ): ময়মনসিংহের ঈশ^রগঞ্জে কৃষকের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে বৃষ্টি। কয়েকদিনের ভারীবর্ষণে হাজার হাজার হেক্টর আধা-পাকা বোরো ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষয় ক্ষতির তথ্য নেই কৃষি অফিসে।

জানা যায়, এ উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০হাজার ৭শ ৭০ হেক্টর। এর মধ্যে ১৫শ ১০ হেক্টর হাই-ব্রিড ও বাকীটা উফশী জাতের ধান। তবে নদী বা বিলের নিচু এলাকা হিসেবের বাহিরে রেখেই এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছ বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস। লক্ষ্যমাত্রা যাই হউক কয়েক দিনের ভারীবর্ষনের ফলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কয়েক হাজার হেক্টর নদী ও বিলের আধা-পাকা ধান তলিয়ে গেছে বৃষ্টির পানিতে।

কিন্তু কৃষি অফিসে এর সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই। কৃষি অফিস আনুমানিক ৪০ হেক্টর জমির ধান আংশিক নিমোজ্জিত বলে ধারণা করলেও সরেজমিন ঘুরে বাস্তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে।

মগটুলার মধুপুর এলাকা থেকে শুরু করে খাল বলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৫০কিলোমিটার কাচাঁমাটিয়া নদীতেই কয়েক হাজার হেক্টর আবাদী জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এছাড়া আরো ৩৪টি বিলের নীচু এলাকার শতাধিক হেক্টর জমির আধা-পাকা ধান তলিয়ে গেছে।

বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে সদর ইউনিয়নের শিরনি বিল,পুলুঙ্গা বিল, মাইজবাগ ইউনিয়নের কাতলা, শিবলী, বিলরাউল, হিঙ্গি ও কান্দি ভাঙ্গা। বড়হিত ইউনিয়নের আন্ড্রাইল, গোঁজা, বেইল, পাইঙ্গা, উল্কী, নাইওরী ও সখিনা। মগটুলা ইউনিয়নের, ভান্ডার, হাতভাঙ্গা, হাড়ভাঙ্গা, খৈলাপুরী, বোয়ালী ও ভাডাইল। রাজিবপুর ইউনিয়নের খেরুয়া, অলিয়া, সরকার ও দেবস্থান বিল। উচাখিলা ইউনিয়নের রামপুর বিল। তারুন্দিয়া ইউনিয়নের কৈইলা বিল।

সোহাগী ইউনিয়নের বৌলা, রোহী ও ডয়হা বিল। সরিষা ইউনিয়নের আমনিয়া ও আঠারবাড়ী ইউনিয়নের হোনাছনিবিল। জাটিয়া ইউনিয়নের দিঘা, বার আওলীয়া ও কুমারুলী বিল সহ প্রায় ৩৪টি বিলের ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এ দিকে রাজিবপুর ও উচাখিলার সব্জি ভান্ডার খ্যাত চর গুলোতে অতিবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চারষীরা।

কাঁচামাটিয়া অববাহিকায় ও বিল পাড়ে বসবাসরত ৯০শতাংশ মানুষ সারা বছরের ভাতের চাহিদা মিটাতে এই বোরো ধানের উপর নির্ভর করে থাকে। এবং গবাদিপশুর খাদ্য যোগানে বোরো ধানের শুকনো খড়ের উপর নির্ভর করে ৯৫শতাংশ মানুষ।

বৃষ্টির পানিতে বোরো ধান তালিয়ে যাওয়ায় এ উপজেলায় মানুৃষ ও গো-খাদ্য সংকট দেখা দিবে বলে আশঙ্কা করছেন চাষীরা। তবে এর কিছুই কৃষি অফিসের জানা নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা রহিমা খাতুন। সরে জমিন বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে পানিতে তলিয়ে যাওয়া বদ্ধ কাঁচা ধান কৃষকরা কেটে সংরক্ষনের চেষ্টা করছেন।

কাকান হাটি গ্রামের গোলাম মোস্তফা বলেন, ধান তো পাকেনি পানির নিচ থেকে কাঁচা ধান কেটে খড় সংরক্ষণের চেষ্টা করছি। খড়ের অভাবে যে গরু বিক্রি করে দিতে হবে। তাই রোজের শ্রমিক দিয়ে কিছু ধান কেটে খড় সংরক্ষনের চেষ্টা করছি। তাও দু’দিনের মধ্যে রোদ না উঠলে স্তপের মাঝেই ওই খড় পঁচে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার রহিমা খাতুন জানান, কিছু জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে তবে বৃষ্টির পানি নেমে গেলে খুভ একটা ক্ষতির আশঙ্কা নেই। এতে বোরো উৎপাদনের লক্ষমাত্রায় প্রভাব পড়বে না।

ব্রেকিং নিউজঃ