| |

গুইল, কাউয়া, হাইব্রীড ও অনুপ্রবেশকারী মুক্ত আওয়ামীলীগ চায় তৃনমুলের ত্যাগী নেতাকর্মী ও সমর্থকরা

আপডেটঃ 4:31 pm | April 24, 2017

Ad

স্পষ্টভাষী ॥ গুইল, কাউয়া, হাইব্রীড ও ফার্মের মুরগীরা ঘিরে ধরেছে স্বাধীনতার স্বপক্ষের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এদের হাত থেকে দলকে মুক্ত করতে আহবান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক জেলা যুবলীগের সভাপতি ৭৫ পরবর্তী সময়ের রাজপথের সাহসী মুজিব সৈনিক অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান এক কর্মী সভায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ময়মনসিংহের নবনির্বাচিত জেলা ও মহানগর কমিটিতে যাতে গুইল ও কাউয়ারা স্থান না পায় সে ব্যাপারে আহবান জানিয়েছেন।

পাশাপাশি তিনি নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামীলীগের তৃনমুলের ত্যাগী ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের মুল্যায়ন করে যেন কমিটি গুলি করা হয়। “গুইল” শব্ধটি দিয়ে তিনি কি বুঝাতে চেয়েছেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “গুইল” শব্ধটি সাধারনত কোন ব্যাক্তির নিকট থেকে কোন কিছু দেওয়ার অথবা মিথ্যা আস্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়াকে বুঝায়।

আমরা অতিতে  গুইলফিট করা শব্ধটির সাথে পরিচিত ছিলাম এই ভাবে যে কোন অনুষ্ঠান কিংবা কোন প্রোগ্রাম করার পুর্বে আয়োজকরা বলতো ২/১টি “গুইল” ফিট করতে হবে তা না হলে অনুষ্ঠান করা অর্থনৈতিক কারনে কষ্টকর হবে।

আয়োজকরা অনুষ্ঠানের কর্মসুচীতে অর্থের বিনিময়ে নাম সংযোজন কিংবা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করত। যাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে এ ধরনের সুযোগ প্রদান করা হতো তাদেরকে বলা হতো “গুইল”।

গুইলদের কোন রাজনৈতিক আদর্শ কিংবা ত্যাগ ও নিষ্ঠার প্রয়োজন পরতো না। গুইলরা সারা জীবনই সুবিধাবাদী চরিত্রের হয়ে থাকে। ব্যাক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য তারা একেক সময় একেক জায়গায় অবস্থান করে। দু:সময়ে তাদের খুজে পাওয়া যায়না।

অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান হয়ত এই আশংঙ্খা থেকেই ধারনা করেছেন আওয়ামীলীগের নেতারা যদি “গুইল” শিকারে ব্যাস্ত হয়ে পরে কিংবা কাউয়া ও হাইব্রীডদের আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দেয় তা হলে মুজিব আদর্শের ত্যাগী ও নিষ্ঠার অধিকারী অর্থনেতিক ভাবে দুর্বল কর্মীরা হারিয়ে যাবে। স্থান পাবেনা কোন কমিটিতে।

আওয়ামীলীগ হয়ে পরবে একটি সুবিধাভোগী আদর্শ বিহীন রাজনৈতিক দলে। যা ভবিষ্যতে আওয়ামীলীগের জন্য ভয়াবহ পরিনতি ডেকে আনবে।

বর্তমানে আওয়ামীলীগে সুবিধাবাদী মতলববাজ কিংবা অতীতের ঘৃন্য কর্মকান্ডকে ঢাকার জন্য সুকৌশলে আওয়ামীলীগে ঢোকে গিয়ে কিছু লোক নিজেদের আখের গোছাতে ব্যাস্ত। এরা সরকার ও দলের উপর আচর ও ঠোকর বসিয়ে সরকার ও দলের ইমেজকে খুন্ন করছে।

এই শ্রেনীটাকে কাউয়া, গুইল, হাইব্রীড বলে চিন্থিত করে দল থেকে তাড়ানো এবং যাতে অনুপ্রেবেশ করতে না পারে তার দাবী তুলেছে তৃনমুল কর্মীরা। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বর্তমান সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান দলের অনেক দু:সময়ের সাক্ষি বলেই হয়তবা এদের সমন্ধে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন।

কোন দল সরকারে থাকলে এই সুবিধাবাধীরা দলে অনুপ্রবেশ করে ব্যাক্তিস্বার্থ ও সুবিধা ভোগ করে কিন্তু দল ক্ষমতায় না থাকলেই কিছুদিন ঘাপটি মেরে থেকে ক্ষমতাসীন সরকারী দলে ভীরে যায়।

যেমনটি আমরা দেখে ছিলাম ৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে দেশী ও আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা স্বপরিবারে নৃশংস ভাবে হত্যাকান্ডের পর।

মানব সভ্যতার ইতিহাসের এই বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের পর আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের ৪ নেতাকে জেলখানার অভ্যন্তরেই হত্যা করা হয়নি দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে মামলা, নির্যাতন ও কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।বাধ্য হয়ে অনেককেই নির্বাসিত জীবন ভোগ করতে হয়েছে।

কিন্তু দু:খ জনক হলেও সত্য ৭৫ উত্তর দু:সময়ের সেই সুবিধাভোগী কাউয়াদের খুজে পাওয়া যায়নি। শুধু পাওয়া গেছে মুজিব আদর্শে বিশ্বাসী তৃনমুলের নেতাকর্মীদের।

সেনা সমর্থিত পাকিস্থানপন্থী রাজনৈতিক দল গুলোর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ বেয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে আবার সেই কাউয়া ও সুবিধাভোগীদের প্রাদুর্ভাব ঘটে আওয়ামীলীগে।

উত্তম শাসন, গনতন্ত্র ও দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেওয়ার সেই মুহুর্তেও অণুপ্রবেশকারী কাউয়া ও হাইব্রীডদের অপকর্মের জন্য শেখ হাসিনার সেই সরকারের সাফল্য ম্লান হয়ে গিয়ে ছিল।

২০০১ সালের নির্বাচনে দেশী বিদেশী চক্র সহ পাকিস্থানপন্থী মৌলবাদীদের সহায়তায় পুনরায় ক্ষমতায় আসে স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপি জামাত শিবির চক্র। নেমে আসে আওয়ামীলীগ কর্মীদের উপর অমানষিক নির্যাতন।

স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে নির্মুল করার জন্য তারা চালাতে থাকে নানারূপ কৌশল। তা সত্বেও অসীম সাহসিকতার সহিত জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বৈরাচার ও মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের আদর্শে বিশ্বাসী নেতাকর্মীদের নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন।

সেই সময়েও কাউয়া ও সুবিধাভোগীদের কাছে পাননি শেখ হাসিনা। ওয়ান ইলেভেনের মত দুর্যোগকালীন সময়ে তার পাশে ছিল তৃনমুলের আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।

২০০৮ সালে নির্বাচনে পুনরায় দল ক্ষমতায় এলে সেই কাউয়া ও হাইব্রীড সুবিধাভোগীরা দলে দলে অনুপ্রবেশ করতে থাকে দল ও সরকারে। এবারও কাউয়াদের উপদ্রপে ও কিছু নেতার “গুইল”  শিকারের ফলে দলের ত্যাগী ও নেতাকর্মীরা কোনঠাসা হয়ে পরছে।

সারাদেশ ভরে গেছে আওয়ামীলীগের সমর্থকে। সেনা শাসন,  বিএনপি জোটের আমলে কিংবা স্বৈরাচারী এরশাদের সময় এত আওয়ামীলীগ দেখা যায়নি। বর্তমানে হাইব্রীড ও কাউয়ারা সারাক্ষন ভীড় করে থাকে ইউনিয়ন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের চারপাশে।

চিন্থিত অনেক আয়োমীলীগ বিরোধী লোককে গলা ফাটিয়ে বলতে শোনা যায় “আমাদের আওয়ামীলী”। নীরব দর্শকের মত অবলোকন করে দলের ত্যাগী ও নেতাকর্মীরা। হাইব্রীড ও কাউয়ারা দলীয় পদ থেকে  শুরু করে নির্বাচনের মনোনয়ন পর্যন্ত বাগিয়ে নিচ্ছে।

অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধা থেকে শুরু করে সরকারের প্রশাসনের সর্বক্ষেত্রেই বিত্তশালী এই সমস্ত লোক জনের প্রভাব অপরিসীম। এদের তান্ডবের ফলে শেখ হাসিনার উন্নয়নের কর্মকান্ড থেকে শুরু করে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক শৃংখলা দলীয় আদর্শ বিপর্যস্থ হচ্ছে।

অতীতের বিভিন্ন আওয়ামীলীগের দু:সময়ে যে সমস্থ ত্যাগী নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে লড়াই সংগ্রাম করেছে, পঙ্গুত্ব বরন করেছে তারা হারিয়ে যাচ্ছে অথবা দলীয় কর্মকান্ডে নিস্কিয় হয়ে পরছে। আওয়ামীলীগ হারাচ্ছে তার গনমুখী চরিত্র।

এটা আওয়ামীলীগের জন্য অশনি সংকেত। বর্তমান আওয়ামীলীগের নেতাদের ভেবে দেখতে হবে অতীতের মত যদি কোন দিন দু:সময় আসে তাহলে আজকে যাদের  অর্থের বিনিময়ে আদর্শ বিহীন সুবিধাবাদীদের বিভিন্ন কমিটিতে স্থান দিচ্ছেন তাদের খোজে পাবেন কিনা।

ক্ষমতা হারালে সে সময় আপনারা জেলে যাবেন নির্যাতনের শিকার হবেন ক্ষতিগ্রস্থ হবে ত্যাগী নেতাকর্মীরা কিন্তু কাউয়া, গুইল ও হাইব্রীডরা খোজে নিবে তাদের নতুন আশ্রয়স্থল।

আবার ফিরে আসি ইউসুফ পাঠানের “গুইল” প্রসংঙ্গে তিনি হয়ত উপলব্ধি করতে পারছেন যে গুইলদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে বিলাশী জীবন যাপন করছেন আওয়ামীলীগ যে নেতারা একদিন এই গুইলরাই গিলে খাবে তাদের।

তাই তিনি হয়তবা গুইল শিকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, কাউয়া, হাইব্রীড ও গুইল নয় প্রকৃত স্বাধীনতা প্রেমিক মুজিব আদর্শে বিশ্বাসী ত্যাগী আদর্শবান তৃনমুল আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মধ্য থেকেই নতুন কমিটি গুলি গঠন করা।

এটা শুধু বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কিংবা ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠানের উপলব্ধি নয় বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ তৃনমুল আওয়ামীলীগ কর্মীদের প্রত্যাশা।

ব্রেকিং নিউজঃ