| |

বন্যহাতির ভয়ে মশাল জ্বালিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে গ্রামবাসী শেরপুরের সীমান্তে বোরো পাকা ধান বাঁচাতে গিয়ে দিতে হচ্ছে কৃষকের প্রাণ

আপডেটঃ 8:30 pm | April 24, 2017

Ad

মো. জয়নাল আবদিন,ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি:এবছর শেরপুর শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের কৃষকদের রোপনকৃত ফসল বাঁচাতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৯ জনের প্রাণ হারিয়েছে এবং আহত হয়েছে-১৭ জন।

বন্যহাতির তান্ডবে বেশীর ভাগ কৃষক নিহতের সংখ্যা ঝিনাইগাতী উপজেলা সীমান্ত এলাকায়। গতকাল শ্রীবরদী উপজেলা বালিঝুড়ি এলাকার খ্রিষ্টান পাড়ায় বোরো পাকা ধান ক্ষেতে বন্যহাতির দল ধান খেয়ে সাবার করে দিচ্ছে।

এমন দৃশ্য দেখে হাতি তাড়াতে যায় রিবন মারাক (৫২)। তখন বন্যহাতির দল ক্ষিপ্ত হয়ে তাড়া করে ওই আদিবাসী কৃষকের পিছনে ধাওয়া করে বন্যহাতির দল। রিবন মারাক জীবন বাঁচাতে নিজ বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু তবু শেষ রক্ষা হয়নি তার।

এসময় বাড়ি-ঘরে তান্ডব চালায় বন্যহাতির দল। এতে রিবন মারাক বন্যহাতির পায়ে পৃষ্ট হয়ে গুরুতর হয় এবং তার স্ত্রী শৈল সাংমা (৩৫) ও ছেলে বিজয় সাংমাসহ ৩জন আহত হয়। গুরুতর আহত রিবন মারাক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে মারা যায়।

উল্লেখ্য, বন্যহাতির আক্রমন দীর্ঘ ১যুগ ধরে চলে আসছে। তবে আমন ও বোরো ধান পাকার সময় বন্যহাতির আক্রমন বেড়ে যায়। কারণ বন্যহাতির খাদ্য সংকট দেখা দিলেই ভারত থেকে বন্যহাতির দল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যান্তরে পাহাড়ী এলাকায় নেমে আসে।

সন্ধ্যা হলেই ফসল খাওয়ার জন্য লোকালয়ে নেমে আসে। আর কৃষকের এসমস্ত ফসল খাওয়ার সময় বাধা দিতে গেলেই বন্যহাতির দল আক্রমন চালায়। যে কারণে বন্যহাতির তান্ডবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেই চলছে।

বন্যহাতির কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন কলা-কৌশল ও পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। তারপরও থেমে নেই হতাহতের ঘটনা। বন্যহাতির তান্ডব থেকে রক্ষার জন্য বন বিভাগ কর্তৃক সোলার পাওয়ার ও বায়োলজিক্যাল ফেন্সিংয়ের মাধ্যমে সুরক্ষা ব্যবস্থা।

২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৯১ লাখ টাকা ব্যায়ে ঝিনাইগাতী উপজেলায় ১১ কি: মি: ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় ২ কি: মি: সোলার পাওয়ার  ও বায়োলজিক্যাল ফেন্সিং বেড়া নির্মাণ করা হয়।

এছাড়াও বন্যহাতির তান্ডব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বনাঞ্চলের বনভূমির শতাধিক একর জমিতে হাতির খাবারের উপযোগী বাগান করা হয়েছে। কৃষকদের বাড়ী-ঘর নিরাপদ করার জন্য বাড়ির আশ-পাশে বেত বাগান, লেবুর বাগানসহ কাটাযুক্ত বিভিন্ন বৃক্ষ রোপন করার পরামর্শ দিয়েছেন বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা।
প্রকাশ থাকে যে,  চলতি বছরে বন্যহাতির তান্ডবে যারা প্রাণ হারিয়েছে তাওয়াকোচা গ্রামের মমেনা বেগম (৬২), পানবর ও গুরুচরণ জহুরুল হক (৫০), আইতুন নেছা (৪৫), আব্দুল হাই (৫৫), বাকাকুড়া গ্রামের কেন্তরাম সাংমার ছেলে বাসিরাম চাম্বুগং (৬০), চিবিরণ বেওয়া (৫০) ও ললেন মারাক (৬২)।

ব্রেকিং নিউজঃ