| |

ভালুকা-গফরগাঁও সড়ক সংস্কার হবে হচ্ছে করে চলছে পনের বছর

আপডেটঃ 9:00 pm | April 25, 2017

Ad

ভালুকা প্রতিনিধিঃ ভালুকা-গফরগাঁও সড়কটি যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। দুই উপজেলায় ক্ষমতাসীনদলের এমপি থাকলেও দূর্নীতি ও অনিয়ম সহ আংশিক সংস্কার হলেও  প্রায় ১৫ বছর ধরে একই অবস্থা সড়কটির। সবমিলেয়ে  চরম দূর্ভোগের যেন শেষ নেই। বিশেষ করে সড়কের ভালুকা থেকে শান্তিগঞ্জ পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা খুবই বেহাল। তাছাড়া বাওয়ার মোড় থেকে বিরুনীয়ামোড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার এবং ভালুকা থেকে নন্দীবাড়ি পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার মোট সাত কিলোমিটার সড়কের অবস্থা বর্ননাতিত ।

সড়কে চলাচলরত ভূক্তভোগী বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন ভালুকা-গফরগাঁও রাস্তার ভালুকা থেকে শান্তিগঞ্জ বাজার পর্যন্ত পাকা রাস্তাটির সবটুকুই সিলকুট, কার্পেটিং উঠে খানা-খন্দকসহ বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। অসুস্থ্য মানুষের যাতায়ত করা তো দূরের কথা, সুস্থ্য মানুষও অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। চলতে গিয়ে ওই সড়কের উপর সৃষ্ট অসংখ্য গর্তে পড়ে প্রতিনিয়তই বিকল হয় গাড়ি, ঘটে দুঘটনা, আহত হন যাত্রী সাধারণ। এরপরও নিরুপায় হয়ে প্রতি মুহুর্তেই দুর্ঘটনার আশংকা ও মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই ওই সড়কে যানবাহনে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণকে। অথচ, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন সড়কটি ঢাকার বা দেশের অন্যন্য জায়গায় সড়ক পথে চলাচল করতে এই সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিদায় আশাপাশ এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিনিয়ত বাস, সিএনজি, টেম্পোতে করে যাতায়ত করেন ওই সড়ক হয়ে। এছাড়াও সীমাহীন ঝুঁকির মধ্যে প্রতিদিন বালিসহ অন্যান্য মালামালবাহী অসংখ্য ট্রাক, পিকআপ যাতায়ত করে ওই সড়কে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, গফরগাঁওয়ের পাগলা থানা উদ্বোধনের জন্য কিছুদিন আগে পুলিশের মহাপরিদর্শক শহিদুল হক সড়কপথে পাগলায় যান। কিন্তু ভালুকা-গফরগাঁও সড়কটির অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাঁকে এ সড়কে না নিয়ে ভালুকা-মেদিলা-বিরুনীয়া হয়ে সড়ক দিয়ে পাগলায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পানিহাদি গ্রামের পোল্টি ব্যাবসায়ী সাজ্জাদুল ইসলাম সজিব বলেন ‘আমরা বারবার ভোট দেই সরকার বানাই। কিন্তু আমাদের চলাচলের রাস্তার অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়না, গত ১৫ বছর ধরে চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছি আমরা। ব্যাবসায়ীক বা অন্য কোন কাজে ভালুকা যাওয়ার কথা মনে হলেই  ভয় লাগে। বর্তমানে এই রাস্তায় যাতায়াত করলে মেরুদন্ডে ব্যথা হয়ে যায়।

ধীতপুর গ্রামের ভ্যান চালক মোস্তুফা মিয়া বলেন, ‘সড়কটির কি যে অবস্থা তা বলে বুঝানো যাবেনা। সড়কটি দিয়ে একদিন ভেন চালালে কোমর ব্যথা আর শরীর ব্যথায় পরের দিন আর ভেন নিয়ে বের হতে মন চায়না। শুধু ভ্যান চালকই নয় তাদের মতই অসংখ্য সরকারী, বেসরকারী চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ী সীমাহীন কষ্টে ওই সড়কে প্রতিদিন যাতায়ত করে।

ওই সড়কের বাসচালক কাদির মিয়া জানান, ‘এই বুঝি গেলাম, এই আশংকায় আমরা ভালুকা-গফরগাঁও সড়কে যাতায়ত করি। ভাঙাচোরা সড়কে বাসে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার আশংকায় প্রতি মুহুর্তে আল্লাহ্র নাম মুখে উচ্চারণ করতে করতে যাই। তিনি আরও জানান, চার-পাঁচ বছর আগে ওই সড়কে লোক দেকানো সামান্য সংস্কার কাজ হয়েছিল। কিন্তু সংস্কার কাজের মান এতোই খারাপ হয়েছিল যে কিছু দিন যেতে না যেতেই সড়কটি আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে। ফলে, আমরা সহ এই সড়কের যাতায়তরত মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দূর্ভোগ।

ধীতপুর গ্রামের আপন মিয়া বলেন, ‘ভালুকা-গফরগাঁও রাস্তার কতা জিগাইয়া আর কী অইব? মুখ দিয়া কইয়া এই রাস্তার অবস্থা বুজাউন যাইত না। এই রাস্তা দিয়া যে একবার যাইব একমাত্র হেই কইবার পারব বর্তমানে রাস্তাডার কী হাল। ময়মনসিংহ জেলার মইধ্যে এই রহম খারাপ রাস্তা আর আছে কি না, তা আমার জানা নাই।

ডিস ব্যাবসায়ী হেলাল খান বলেন, ‘বর্তমানে বাস চলার শুরুতেই ঝাঁকুনি শুরুহয় এবং থামার পূর্ব পর্যন্ত ছোট ও বড় ধরনের ঝাঁকুনি চলতেই থাকে। চলার পথে একেক ঝাঁকুনিতে মনে হয় এই বুঝি ভেঙে গেলো মেরুদন্ড বা কোমড়ের হাড়টি।’

একাধিক বাস চালক জানান, ভালুকা থেকে শিবগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তা মাত্র ত্রিশ মিনিটের পথ। অথচ, এই রাস্তাটুকু যেতে বর্তমানে দেড় ঘন্টা সময় লাগে। গাড়ির গতি ঘন্টায় ৫-৭ কিলোমিটারের বেশী বাড়ানো যায়না। ফলে, তেল খচর বেশী লাগে। দুই বছর মেয়াদের টায়ার ৮-১০ মাসের বেশী টিকেনা। ভাঙা রাস্তায় চলতে গিয়ে গাড়ির বিভিন্ন সমস্যা হয়। সময় বেশী লাগায় বাসে যাত্রী উঠতে চায়না। বাসের স্ট্যায়ারিংএ বসে সর্বদাই আতংকের মাঝে থকতে হয়, মাঝে মধ্যে গর্তে পড়ে বিকল হয়ে যায় গাড়ি। খারাপ রাস্তায় ঝাঁকি খেয়ে প্রায় প্রতিদিনই লোড অভারলোড গাড়ি রাস্তার পাশে পড়ে যায়।

createthumb.ashx

ভালুকা উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যন রফিকুল ইসলাম পিন্টু জানান, ভালুকা-গফরগাঁও সড়কটির অনেক আগে থেকেই চলাচল অযোগ্য হয়ে আছে। রাস্তাটি নিয়ে উপজেলার মাসিক সভায় অনেকবার আলোচনা করেছি। এলাকার মানুষের স্বার্থে রাস্তাটি দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এম আমান উল্যাহ বলেন, ‘সড়টি সংস্কারের বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। এ নিয়ে যতবারই কথা বলেছি, তারা আমাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করা হবে বলে জানিয়েছে। গত সংসদ অধিবেশেনেও এ নিয়ে কথা বলেছি।’

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ খান জানান, ‘ভালুকা-গফরগাঁও সড়কে কাজের জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তা সমান করার কাজ করা হবে। মূল কাজ শুরু হতে সময় লাগবে।

ব্রেকিং নিউজঃ