| |

ঈশ্বরগঞ্জে কাদিয়ানী মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা :১ হামলাকারী আটক ঘটনাস্থলে সার্বক্ষনিক পুলিশ মোতায়েন

আপডেটঃ 8:19 pm | May 09, 2017

Ad

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের একটি কাদিয়ানি (আহম্মেদীয়া) সমর্থিত মজিদের ইমামের ওপর হামলা চালিয়েছে তিন সদস্যের একটি সন্ত্রাসী দল। গত সোমবার রাতে ঘটেছে এমন ঘটনা।

গুরুতর আহত অবস্থায় ইমামকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকা  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনা স্থল থেকে আহত অবস্থায় এক  হামলাকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

ঘটনা স্থল পরিদর্শন  করেছে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি সহ পলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষনিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও কাদিয়ানী কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের খানপুর মধ্যপাড়া গ্রামে প্রায় ৯ বছর আগে একটি মসজিদ স্থাপন করা হয়। আয়ুব আলী নামের এক ব্যক্তি নিজ বাড়িতে মসজিদটি স্থাপন করে খানপুর আহম্মেদীয়া মসজিদ নাম দেন।

এলাকাবাসী জানায়, গত প্রায় দুই বছর ধরে মসজিদটিতে পেশ ইমাম ও মুয়াজ্জিনের দায়িত্বপালন করে আসছিলেন দিনাজপুরের কাহালু উপজেলার আবু তালিবের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান।

সোমবার রাত ৮ টার দিকে মসজিদের পেশ ইমাম মোস্তাফিজুর রহমান আযান দিতে মসজিদে প্রবেশ করেন। ওই সময় আগে থেকে ওঁতপেতে থাকা অন্তত ৩ সদস্যের একটি সন্ত্রাসী দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে ইমামের ওপর।

অতর্কিত ধারালো অস্ত্রের কোপে ইমাম বাঁচার জন্য দৌঁড়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। ওই সময় পিছু নিয়ে ওই বাড়িতে যায় এক হামলাকারী। ওই সময় হামলাকারীদের হাতেই আহত হয় হামলায় অংশ নেওয়া ওই ব্যক্তি।

পরে তাকে আহত অবস্থায় তাকে পুলিশ আটক করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হামপাতালে নিয়ে যায়। আটক হামলাকারী  আব্দুল আহাদ মোহাম্মদ উল্লাহ (২০) নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার খৈলাটি গ্রামের মুসলেম উদ্দিনের ছেলে।

অপর দুই হামলাকারীরা হচ্ছে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাঝিয়া কান্দি গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে জহিরুল ইসলাম (১৭) ও আশ্রবপুর গ্রামের শহিদুল্লার ছেলে ইলিয়াছ উদ্দিন (১৬)। হামলাকারী তিন জনই উপজেলার জামিয়া গাফুরিয়া দারুস ছুন্নাহ ইসলামপুর মাদ্রাসার ছাত্র বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারীদের ব্যবহৃত রক্তমাখা দুইটি দা  ও তিন জোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত ডিআইজি আক্কাছ উদ্দিন ভুইঁয়া, ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) এসএ নেওয়াজী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  (গৌরীপুর সার্কেল)  সীমা রানী সরকার প্রমুখ।

Ishwarganj photo (imam hamla) 1Ishwarganj photo (imam hamla) 2
এলাকাবাসী জানিয়েছেন কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের লোকজন ওই মসজিদে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টেলিভিশন দেখা  ও নারী পুরুষ মিলে নামাজ আদায় নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের আলেম সমাজের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া চলছিল।
কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের অনুসারী ফজলুল হক জানান, শুক্রবারে তারা তাদের বর্তমান ইমাম মীর্জা মাশরুর আহমেদ লন্ডন থেকে খুতবা দেওয়ার সময় তাদের নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেল এমটিবি’র মাধ্যমে শুনতেন পরে এলাকাবাসীর মাঝে এর মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় টেলিভিশনটি মসজিদ থেকে সরিয়ে পাশের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আহম্মেদিয়া মুসলিম জামায়াত বাংলাদেশের ন্যাশনাল পাবলিক রিলেশন সেক্রেটারি আহম্মেদ তবশির বলেন, মৌলবাদীরা তাদের সমর্থিত একটি মসজিদের ইমামের ওপর হামলা করেছে। হামলার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মৌলবাদীরা তাদের কাফের ভাবেন। এ কারণেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( গৌরীপুর সার্কেল ) সীমা রানী সরকার বলেন,  ইমাম কে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এক হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাস্থলে সার্বক্ষনিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ