| |

ত্রিশালে মাদকের কালো থাবায় ধ্বংশের পথে যুব সমাজ মাদকসেবীদের হাত থেকে রেহায় পেল না ডিগ্রী পরীক্ষার্থী সীমা

আপডেটঃ 9:27 pm | May 14, 2017

Ad

ফয়জুর রহমান ফরহাদঃ  মাদকের কালো থাবায় ধ্বংশের পথে ময়মনসিংহের ত্রিশালের যুব সমাজ। পৌরশহর সহ প্রত্যন্ত অঞ্চল ছেয়ে গেছে মাদকের কালো ছায়ায়। প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে বিভিন্ন প্রকার মাদক বেচাকেনা ও সেবীদের দৌরাত্ব। মাদকের প্রভাবে অপরাধ প্রবনতা এখন চরমে। মাদক সেবনে বাধাঁ দেওয়ায় সীমা নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে মারধর করে মাদকসেবীরা।
জানা গেছে, পৌর শহরসহ এখন অজপাড়া গায়েও মাদকের বিস্তারে প্রতিনিয়ত ঘটে চলছে নানা ঘটনা। চুরি, ছিনতাই, অপহরণ, খুন, সামাজিক কলহ এ সবকিছুর পেছনে প্রধান ভুমিকায় রয়েছে মাদক। মাদকের কালো থাবায় আজ ধ্বংশের পথে উপজেলার যুব সমাজ।

আগে লোক চক্ষুর আড়ালে নির্জন অথবা পরিত্যক্ত বাড়িঘরে চলতো মাদক সেবন। কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রভাব খাটিয়ে লোকালয়েই অবাধে মাদক সেবন করছে মাদকসেবীরা। কেউ বাধাঁ দিলে তার ও তার পরিবারের উপর চড়াও হয় মাদকসেবীরা।

পৌরশহরের ৮নং ওয়ার্ডের ফিসারী রোড এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ঘরে প্রায় অনেকদিন ধরেই হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরণের মাদকদ্রব্য সেবন করে আসছিলো স্থানীয় চুন্নু মিয়ার ছেলে মাদকাসক্ত ফরহাদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। গত বুধবার সকালে ওই পরিত্যক্ত ঘর মালিকের ভাই ইব্রাহিম খলিল ও তার ছেলে-মেয়েরা বাধাঁ দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতান্ডা সৃষ্টি হয়।

পরে মাদকাসক্ত ফরহাদ ও তার সহযোগীরা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ইব্রাহিম খলিলের বসতঘরে হামলা চালায়। এ সময় ইব্রাহিমের মেয়ে ত্রিশাল মহিলা ডিগ্রী কলেজের ১ম বর্ষের পরীক্ষার্থী সীমান্ত সুলতানা সীমাকে দা ও লোহার রড দিয়ে গায়ে এলোপাথারি আঘাত করে গুরুতর আহত করে।

সীমাকে উদ্ধার করতে গেলে তার বড় বোন আসমা আক্তারের গলা চেপে ধরে মাদকসেবীরা এবং হামলাকারি মাদকসেবীরা তার গলার থেকে ২৫হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন, নগদ ২০হাজার টাকা ও ২২হাজার টাকা মূল্যের দুটি স্মার্ট ফোন নিয়ে যায়। ভাংচুরে প্রায় ২০হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ইব্রাহিম।

পরে গুরুতর আহত সীমাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশঙ্কাজনক অবস্থায় সীমাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। এঘটনায় ওইদিন সন্ধ্যায় সীমার বাবা ইব্রাহিম বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় একটি মামলা দায়ের করলেও এখনো আটক হয়নি জড়িত কেউ-ই।
সীমার বাবা ইব্রাহিম খলিল জানান, আমাদের একটি পরিত্যক্ত ঘরে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন করে আসছিলো ফরহাদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। প্রতিদিনই ওই ঘরে নতুন নতুন মাদকসেবীদের নিয়ে আড্ডা বসে। বুধবার সকালে আমি তাদেরকে বাধাঁ দিলে তারা আমার পরিবারের উপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে। আমাদের খুন করার হুমকিও দেয় তারা।
এছাড়াও উপজেলার নওধারভাংতি, পশু হাসপাতালের সামনে সুতিয়া নদীর ব্রীজে সন্ধ্যার পর পরই চলে মাদকের রমরমা ব্যবসা ও সেবন। দরিরামপুর বাসস্ট্যান্ডের পদ্মা গেইটলক বাসগুলোর ভেতরে দিনের বেলাতেও বসে মাদক সেবনের ব্যাপক আড্ডা।

এছাড়াও ধানীখোলা ইউনিয়নের পাগলা বাজার, ডামের মোড়, ভাওয়ালীয়া পাড়া, ধানীখোলা বাজার, মঠবাড়ী ইউনিয়নের পোড়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনে, কাঠাঁল ইউনিয়নের বালিয়ারপাড়, বালিপাড়া ইউনিয়নের রেল স্টেশনের পশ্চিম পাশে, আশ্চার্য পাড়া, জৈমুনি স্কুল এলাকাসহ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে হেরোইন, ইয়াবা, মদ, গাজাসহ মাদক দ্রব্যের রমরমা ব্যবসা চালছে।

তবে ছোটখাট সেবক ও ব্যবসায়িরা ধরা পড়লেও বড় বড় মাদক ব্যবসায়িরা এখনও ধরাছোয়ার বাইরে।
শিক্ষার্থীকে ব্যাপক মারধর, বাসায় হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় গত তিনদিনে জড়িত কাউকে আটক করতে না পারলেও এ ব্যাপারে ত্রিশাল থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের ব্যাপক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ