| |

ইসলাম ধর্মাবল্বীদের জন্য পবিত্র রমজান মাসের শিক্ষা ও তাৎপর্য

আপডেটঃ 12:41 pm | May 28, 2017

Ad

প্রদীপ ভৌমিক ॥ আমি বিভিন্ন ইসলাম ধর্মীয় পুস্তক ও মানব শ্রেষ্ট হযরত মুহাম্মদ (স:) এর জীবনী থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লেখার প্রেরনা পেয়েছি। কোথাও যদি কোন প্রকার অজ্ঞতা জনিত ভুলক্রুটি থেকে থাকে তা হলে ইসলাম ধর্মাবল্বীদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। রমজান মাস সিয়াম সাধনের মাস।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) মানুষকে ত্যাগের একটি অনুপম শিক্ষা দিয়েছেন সিয়ম পালনের মধ্যদিয়ে। তিনি আতœাকে লালসা হতে নিবৃত্ত রাখা ও অন্তরের পরিশুদ্ধতার প্রতি মানুষকে শিক্ষা দেন। সাম্য, মৈত্রীর সুমহান শিক্ষা রমজানে রোজার মধ্যে অনুপম ভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

আত্মিক মহত্ব প্রকাশে, হৃদয়ের মহত্তর প্রেরনায়, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা ও পরোপরকার করার উদ্যোগ গ্রহনের শিক্ষা রমজানের মধ্যে প্রকাশিত হয়। মহান আল্লাহ সিয়ামকে রমজান মাসে নির্দিষ্ট করেছেন।

বস্তুত পক্ষে জাগতিক কুচিন্তা, পশু প্রবৃত্তিকে দমন করার জন্য, বিশৃংখলাপুর্ন জীবনকে নিষ্ঠাপুর্ন জীবনে উন্নীত করার জন্য মহান আল্লাহ সিয়ামকে মানুষের জন্য বাধ্যতামুলক বিধি হিসাবে প্রেরন করেছেন।

আল্লাহ দ্ব্যার্থহীন ভাবে ঘোষনা করেন: “ হে বিশ্বাসীগন ! তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পুর্ববর্তী লোকদের প্রতিও তা ফরজ ছিল, যাতে তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার।” (সুরা বাকারা ২: ১৮৩) ।

বুখারী শরীফে উল্লেখ আছে নবীজি (স:) বলেন “ যে ব্যাক্তি রোজা রেখেও মিথ্যা কথা, অপরের কুৎসা, বাজে বকা ও কুচিন্তা হতে নিজকে বিরত রাখতে পারেনা তার খাদ্য পানীয় ত্যাগ করা আল্লাহর দৃষ্টিতে অর্থহীন। আল্লাহ তাদের রোজার প্রতি কোনই গুরুত্ব প্রদান করেন না”।

আল্লাহর প্রতি অকুন্ঠ হওয়া এবং সৎ আচরন আত্বস্থ করার জন্য দৈহিক ও মানসিক পরিস্থিতিকে পরিশীলিত করার বৈশিষ্ট্যপুর্ন ব্যবস্থাপনা হচ্ছে পবিত্র রোজা। রোজায় মানুষের দেহ ও মন সুদ্ধাত্ম হয়, পাপাসক্তি হতে মুক্ত হয়।

মহান আল্লাহ রোজার মর্যাদা নিরুপন করেন: “ রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ন হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এই মাস পাবে তারা যেন এই মাসে সিয়াম পালন করে। (সুরা বাকারা ২ : ১৮৫) ।

মহানবী (স:) বলেন, তোমাদের নিকট এমন একটি মাস এসেছে, বরকত ও মহাত্মে যার অপেক্ষা শ্রেষ্ট মাস আর নেই। এই মাসে এমন একটি রাত্রি আছে যা হাজার রাত্রি অপেক্ষা উত্তম। (বুখারী, মুসলিম) ।

পবিত্র কুরআনে প্রতিটি ইবাদতের মর্যাদা নিরূপিত হয়েছে কিন্তু রমজানের রোজার সম্মান মানুষকে সয়ং আল্লাহ দান কারার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেছেন। রমজান মাসে দানের ব্যাপারে হস্তবর্ধিত করার প্রতি নবীজি গুরুত্ব প্রদান করেন।

মহান নবী (স:) বলেন, “প্রত্যেক জিনিষের জাকাত রয়েছে। শরীরের জাকাত হচ্ছে সিয়াম”। (ইবনেমাজা)। রমজান মাসে  জিব্রাইল (আ:) নবীজিকে (স:) কুরআন পাঠের শিক্ষা দিতেন। নবীজি (স:) আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রেরনায় একাগ্রচিত্ত হয়ে পড়তেন।

নবীজি (স:) রমজানের পবিত্রতা দ্বারা মানুষকে সুরুচিপুর্ন জীবনযাত্রা, মানুষের প্রতি দয়ার্দ্র হওয়া, ধৈর্যশীল হওয়া, পারিপার্শিক পরিবেশে নিজকে শান্তিপুর্ন অবস্থানে অন্তভুক্ত করা, দরির্দ্রের প্রতি সহানুভুতিশীল হওয়া এবং সৃষ্ট জীবের প্রতি সদয় আচরন করা এবং সর্বপরি মহান আল্লাহর প্রতি একাত্বভাবে নিবেদিত হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।

হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্নিত রাসুল (স:) ইরশাদ করেছেন: যে লোক রোগ ব্যাধি ও শরীয়ত  সম্মত কারন ব্যাতিত রমজান মাসের একটি রোজা পরিত্যাগ করবে, সে যদি এর পরিবর্তে সারাজীবন রোজা রাখে তাহলেও সে যা হারিয়েছে তা কখনো পুরন হবেনা। (তিরমিজী, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজা)।

তাই মুসনলমানদের জন্য রমজান মাস অত্যান্ত পবিত্র ও শিক্ষার মাস। প্রত্যেকের উচিত এই মাসটিকে শ্রদ্ধা ও সংযমের সহিত পালন করা। (মো: আবুল কাশেম রচিত, মানব শ্রেষ্ট হযরত মুহাম্মদ (স:) গ্রন্থ থেকে তথ্যসুত্র প্রাপ্ত)।

ব্রেকিং নিউজঃ