| |

চাকরি নয় যেন সোনার হরিণ ত্রিশালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগে কোটি টাকা বাণিজ্য

আপডেটঃ 2:22 pm | June 01, 2017

Ad

ফয়জুর রহমান ফরহাদ ॥ ময়মনসিংহের ত্রিশালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি-কাম-প্রহরী পদে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগে চলছে কোটি টাকার বাণিজ্য। অভিযোগ উঠেছে গরুর হাটের মতো দর কশাকশিতে সাড়ে ৩লক্ষ টাকা নির্ধারণ করে যে সকল স্কুলে সমজোতার মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে সে সকল প্রতিষ্টানে নিয়োগ দেয়ার তারিখ নির্ধারন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানাযায়, গত ১৯/০৩/২০১৭ইং তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রনালয় ত্রিশাল উপজেলার ৮১টি প্রতিষ্ঠানে দপ্তরি-কাম-প্রহরী নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ০২/০৪/১৭ইং তারিখে ৮১টি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ৪শতাধিক প্রার্থী আবেদন করে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে সদস্য সচিব করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে এ নিয়োগ প্রদান করা হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৮১টি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের কথা থাকলেও অনুসন্ধানে জানাযায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির মাধ্যমে যে সকল প্রতিষ্টানে লেনদেন চুড়ান্ত হয়েছে শুধুমাত্র সে সকল প্রতিষ্টানে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাধিক সুত্রে জানাযায় ৮১ টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৬টি প্রতিষ্ঠানে লেনদেন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়ায় এবং রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের চাপ না থাকায় আগামী ৩ জুন এ প্রতিষ্ঠান গুলোতে নিয়োগ প্রদান করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুৃক একাধিক সহকারী শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে জানাযায় সানকিভাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোক্ষপুর পূর্ব সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুজিয়াম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুরান কাশিগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নজরুল মেমোরিয়াল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব কাকচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, অলহরী খারহর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, অলহলী জয়দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ২য় খন্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বইলর মঠবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চড় মাদাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ মোট ৩৬টি বিদ্যালয়ে এ নিয়োগ দেয়া হবে।

অপরদিকে বাবুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রবেশপত্র সরবরাহ করলেও রহস্যজনক কারনে তা আবার স্থগিত করা হয়। নিয়োগ কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সভাপতি এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে সদস্য সচিব করে এমপির প্রতিনিধি হিসেবে আব্দুল মজিদ, উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, স্কুল সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক রয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক ও স্কুল সভাপতি মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসারদের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করেন। এতে ৩৬টি  স্কুলের সাড়ে ৩লক্ষ টাকা করে প্রায় কোটি টাকার বানিজ্যে নেমেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

যে সকল প্রতিষ্ঠানে টাকা লেনদেন ও কমিটির সদস্যরা একমত পোষন করেছে শুধুমাত্র তাদের প্রবেশপত্র প্রদান করেছে। এব্যাপারে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমেদ মিটিংয়ে আছে বলে ফোন কেটে দেন।

নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন বলেন, আগামী ৩জুন নিয়োগের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে তবে টাকা লেনদেনের বিষয়ে আমার জানা নেই।

ব্রেকিং নিউজঃ