| |

দৈনিক আলোকিত ময়মনসিংহ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর গোয়ালঘরে থাকা সেই মায়ের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটঃ 1:08 am | June 06, 2017

Ad

মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী ॥ দৈনিক আলোকিত ময়মনসিংহ পত্রিকায় গত ৩০মে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয় গোয়ালঘরে শেয়ালে কামড়ানো বৃদ্ধা মা ৯০ বছর বয়সী মরিয়ম নেছাকে দেখতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮নং কেবিনে ছুটে যান ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. খলিলুর রহমান।

 

গত বুধবার ৩১ মে গভীর রাতে গোয়ালঘরে তাকে তিন-চারটি শেয়াল কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে। এ খবর স্থানীয়গনমধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মরিয়ম নেছার পাশে দাঁড়ান জাতিয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, ফুলবাড়িয়া আসনের সাংসদ মোসলেম উদ্দিন এবং পার্শ্ববর্তী মুক্তাগাছা আসনের সাংসদ সালাহউদ্দিন আহমেদ মুক্তিসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ সমাজের বিশিষ্ঠজনরা। স্থানীয়দের মাঝে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ময়মনসিংহে ফুলবাড়িয়ার উপজেলা পুরিজানা ইউনিয়নের তেজপাটুলি গ্রামের মারফত আলী বাড়ির কাছে বৃদ্ধা মা মরিয়মের ঠিকানা।

 

তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মা মরিয়ম নেছা বৃদ্ধ বয়সেও জীবন-যাপন করতেন ভিক্ষা করে। তিনি শুধু রাতে ঘুমাতেন তার ছেলে মোখলেস আমিনের গোয়াল ঘরে। গত সপ্তাহে গভীর রাতে তিন-চারটি শেয়াল কামড়ে তাকে ক্ষত বিক্ষত করে।

 

শেয়ালের কামড় খেয়েও সন্তানদের সাড়া না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সাথে লড়ছিলেন তিনি। বয়সের ভারে নুব্জ্য হয়ে পড়লেও বয়স্ক ভাতা, রিলিফ, বিধবা ভাতা, সমাজ সেবা অফিস কর্তৃক কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাননি এই ৯০ বছর বয়সী মরিয়ম নেছা। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক নাসির উদ্দিন বৃদ্ধা মাকে নিজ দায়িত্বে কেবিনে হাসপাতালে ৮নং কেবিনে স্থানান্তর করেছেন ও সার্বক্ষনিক মনিটরিং করছেন।

 

মেডিসিন ইউনিট-৩ ডাক্তার আকাশের তত্ত্বাবধানে নার্স সেফালী রায় বৃদ্ধা মাকে সেবা ও পরিচর্যা করছেন। মরিয়ম নেছার পাশে ছোট ছেলে মারফত আলী, মেজ ছেলে মোবারক আলীর স্ত্রী ফরিদা বেগম ও প্রতিবেশী বসে আছেন। প্রতিবেশীরা বলছেন, ছেলেরা কৃষি ও শ্রমিক পেশায় নিয়োজিত। ঐ বৃদ্ধা ও তার সন্তানদের আর্থিক অবস্থান ও মানবেতর জীবন যাপনের।

 

এরই মধ্যে মায়ের প্রতি অবহেলার অভিযোগে তার বড় ছেলেকে গ্রেপ্তার করে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এমন ভুল গড়ীবের ঘরেই হয়। আর আমাদের সমাজ ব্যবস্থাপনাও এর জন্য দায়ী।

 

এখানে এখন প্রতিদিন তাকে দেখার জন্য হাসপাতালে মানুষের ভিড় জমে। এমন ভুল পৃথিবীর কোনো ছেলে যেন মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ না করে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা মরিয়ম নেছার অবস্থা জানতে চাইলে ক্ষীণ কণ্ঠে বলেন, আগের চেয়ে একটু ভালো।

 

খুব বেশি কথা বলতে পারেন না আহত ৯০ বছর বয়সী মরিয়ম নেছা। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক (ডিসি) কৃষিবিদ মো. খলিলুর রহমান বলেন, আহত বৃদ্ধা মরিয়ম নেছার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তার চিকিৎসাসহ যাবতীয় ব্যয়ভার রাষ্ট্রীয়ভাবে বহনের জন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, গত শনিবার হাসপাতালে বৃদ্ধা মায়ের খোঁজ-খবর নিয়েছি। তিনি আগের চাইতে এখন অনেক সুস্থ।

ব্রেকিং নিউজঃ