| |

মহানগরের জনগনের যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে লাইলেন্স এর বিনিময়ে লাল ও সবুজ রং দিয়ে ইজি বাইকের অনুমোদন দিচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

আপডেটঃ 9:27 pm | June 07, 2017

Ad

মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহ নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করা যাচ্ছিলনা। জেলা ও পৌর প্রশাসন এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের মধ্যে ইঁদুর-বিড়াল খেলা চলে আসছিল বছরের পর বছর ধরেই। দফায় দফায় চেষ্টা করেও অটোরিকশা চালকদের বাগে আনতে পারেনি প্রশাসন।
জেলা ও পৌর প্রশাসনের উদ্যোগে গত ১ ও ২ জুন নগরীর যানজট নিরসনে জব্দ করা তিন চাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ইজিবাইকগুলোকে নিয়মের আওতায় আনার লক্ষ্যে ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে সেগুলো ফের চলাচলের অনুমতি দেয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহ পৌরসভা সুত্রে জানা গেছে, ৬০৯টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও লাইসেন্সবিহীন ৩ হাজার ১শ ৪৬টিসহ মোট ৩ হাজার ৭৫৫টি ইজিবাইক জব্দ করে রফিক উদ্দিন ভূইয়া স্টেডিয়ামে জড়ো করা হয়। এরপর রবিবার লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৬০৯টি ইজিবাইককে নতুন নাম্বার প্লেট দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

 

আর লাইসেন্সবিহীন বাকি ৩ হাজার ১শ ৪৬টি মঙ্গলবার সকাল থেকে যথাযথ কাগজপত্রসহ ৮ হাজার টাকায় ট্রেড লাইসেন্সের বিনিময়ে নাম্বার প্লেটসহ গায়ে লাল ও সবুজ রং লাগিয়ে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কর্তৃপরে কাছে সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ শহরে ১০ হাজার মতান্তরে ১২ হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ইজিবাইক চলাচল করত। প্রায় চার হাজার জব্দ করার পর অন্যরাও আর রাস্তায় নামছে না।

 

এসব বাহনের চালকরা কোনো নিয়ম মানে না। চালকদের নেই  কোন প্রশিণ। নেই কোন লাইসেন্স। অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকরা ব্যাটারিচালিত ইজি বাইক চালায়। যা অত্যান্ত বিপদজনক।  শহরের যানজট ও দুর্ঘটনার জন্য এসব ইজিবাইক অনেককাংশে দায়ী।

 

এসব বাহনে কোনো নাম্বর না থাকায় দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ইজিবাইককে চিহ্নিতও করা যাচ্ছিলনা এতদিন। এ কারনে ট্রেড লাইসেন্সের বিনিময়ে নাম্বার প্লেটসহ গায়ে লাল ও সবুজ রং লাগিয়ে চলাচল করার অনুমতি প্রদান করছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

 

সূএ মতে জানা যায়, যানজট নিরসনের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক লাল ও সবুজ রং ধারী ইজি বাইককে পর্যায় ক্রমে নির্দিষ্ট দিনে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। এতে করে ইজি বাইক চলাচলের ফলে সৃষ্টি হবেনা কোন যানজট।
বুধবার দুপুরে রফিক উদ্দিন ভূইয়া স্টেডিয়ামে দেখাযায় শত শত নারী, পুরুষ লাইসেন্স প্রার্থীদের লম্বা লাইন। প্রার্থীদের এ প্রচন্ড ভীড় সামলাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের।

20170607_143435
কর্তৃপ্যদের কাছ থেকে জানাযায়, তিন চাকার ব্যাটারিচালিত গাড়ি ইজিবাইক এখন সাধারন মানুষের একটি জনপ্রিয় বাহন। মধ্য ও নিম্নবিত্তের প্রাইভেটকারও বলা হয়ে থাকে এটিকে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নাগরিকদের কম খরচে যাতায়াতে সুবিধা দিচ্ছে, তাই কর্তৃপক্ষ শহরে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে গণপরিবহনের বিকল্প হিসেবে ইজিবাইক চলাচলের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নগরীর সাধারন জনগনের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্বল্প আয়ের মানুষ, স্কুল-কলেজগামী শিার্থীরা এটাকে উপযোগী বাহন মনে করে। যদিও নগরীতে প্রচুর ইজিবাইকের কারণে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনারও অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছিল এ বাহন।

 

তার পরও এসব ইজিবাইক নাগরিকদের কম খরচে ও নুন্যতম সময়ে যাতায়াতের সুবিধা দিচ্ছিল। এছাড়া ইজিবাইকের কারণে কমপে ৮ থেকে ১০হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা হিসাব করলে অন্তত ২৫ হাজার মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল ছিল এ বাহনের ওপর।

 

পৌরসভার ইজি বাইক চালকরা যাতে বেকার হয়ে না পরে এবং তাদের পরিবার পরিজন আর্থিক কষ্টে না পরে এই জন্যে পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটু উপরোক্ত সিদ্ধান্ত গুলি গ্রহন করেছেন।

পৌরসভার এই সিদ্ধান্তকে ময়মনসিংহ মহানগরের সল্প আয়ের জনগন ও ইজি বাইকের উপর জীবিকার নির্বাহে নির্ভরশীল পরিবারের লোকজন পৌর মেয়রকে সাধুবাদ জানিয়েছে। এবং তাকে জনবান্ধব মেয়র রুপে আখ্যায়িত করেছে।
পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জাহাঙ্গীর জানান, প্রতিদিন কমপে ৪০০ ইজিবাইক ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। কাগজপত্রসহ ৮ হাজার টাকায় ট্রেড লাইসেন্সের বিনিময়ে নাম্বার প্লেটসহ গায়ে লাল ও সবুজ রং লাগিয়ে ইজি বাইক গুলিকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদুর রহমান, ময়মনসিংহ পৌরসভার লাইসেন্স ও কর উপকমিটির আহ্বায়ক পৌরসভার কাউন্সিলর সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টু, ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান দুলাল, পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, সহকারী লাইসেন্স পরিদর্শক (রকিশা) ওয়ালিউল ইসলাম মামুনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাজের তদারক করছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ