| |

জামালপুর ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির হাতে ॥ দেখার যেন কেউ নেই!

আপডেটঃ 12:29 pm | June 13, 2017

Ad

মোঃ রিয়াজুর রহমান লাভলু ॥ জামালপুর রেলস্টেশনে ট্রেনের টিকিট বিক্রিতে ব্যাপক কালোবাজারির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন স্টেশনের অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) অসাধু সদস্যরাও।

 

যাত্রীরা বলেন, জামালপুরে আসন বরাদ্দ কম থাকায় টিকিট কালোবাজারি চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা চড়া দামে প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ্যে টিকিট বিক্রি করছেন।রেল-সংশ্লিষ্টদের টিকিটের প্রকারভেদে চক্রটি প্রতিটি টিকিটে ৫০ থেকে ৫০০ টাকা করে বেশি দাম নেন।

 

কয়েকজন যাত্রী বলেন, স্টেশনের কাউন্টারে গেলে বেশির ভাগ সময়ই আন্তনগর ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষ শোভন ছাড়া কোনো শ্রেণির টিকিট পায় না। প্রথম শ্রেণি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) ও শোভন চেয়ারের অধিকাংশ টিকিট কালোবাজারিদের হাতে চলে যায়।

 

স্টেশন মাস্টারসহ সব শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জিআরপির সদস্যদের যোগসাজশে কালোবাজারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্ল্যাটফর্মের একাধিক পানের দোকান ও হোটেলেও মিলছে টিকিট।

 

এসির টিকিট ৩৬৮ টাকার স্থলে কালোবাজারিরা ৮০০ থেকে ১ হাজার, শোভন চেয়ার ১৯০ টাকার স্থলে ৩৫০, প্রথম শ্রেণির টিকিট ২৫৫ টাকার স্থলে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

প্রতিদিন চারটি আন্তনগর ট্রেনের ৬১২ টিকিটের মধ্যে প্রায় ২০০ টিকিট কালোবাজারিদের হাতে যাচ্ছে। গত শনিবার ঢাকার ব্যবসায়ী ও জামালপুর শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকার মামুন মিয়া বলেন, প্রতিটি ট্রেনের টিকিট দশ দিন আগে দেওয়া হয়। এ সুযোগে স্টেশনের অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কালোবাজারিদের হাতে টিকিট তুলে দিচ্ছেন।

 

কালোবাজারিদের হাতে ট্রেন ছাড়ার এক ঘণ্টা আগেও টিকিট পাওয়া যায়। আন্তনগর তিস্তা এক্সপ্রেসের একটি এসি টিকিট একজন কালোবাজারির কাছ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হলো।

 

এ বিষয়ে স্টেশনমাস্টার মির্জা মো. শামছুল আলম বলেন, স্টেশনের কেউ টিকিট কালোবাজারিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন। কালোবাজারিরা লোকজনকে লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট কেটে নেন। এসব টিকিট তাঁরা বেশি দামে বিক্রি করে থাকতে পারেন। বিষয়টি জিআরপি পুলিশ দেখার কথা।

 

টিকিট কালোবাজারি বন্ধ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। তবে স্টেশনের কেউ জড়িত থাকার বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জামালপুর জিআরপির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরুল ইসলাম বলেন, টিকিট কালোবাজারি চক্রের সঙ্গে আমাদের যোগসূত্র নেই।

প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ্যে টিকিট বিক্রি করলেও পুলিশ ধরে না কেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, রমজান মাসের জন্য স্টেশনে অভিযান চালানো হচ্ছে না। তবে ঈদকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এই টিকিট কালোবাজারী রোধে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ