| |

আইনজীবি –পর্ব ১

আপডেটঃ 11:36 pm | June 13, 2017

Ad

প্রদীপ ভৌমিক ॥ এডভোকেট আনিসুর রহমান খান তার “বিবিধ প্রসঙ্গ” বইটিতে আইনজীবিদের আইন পেশায় আচরন, শিষ্টাচার, কর্তব্য সমদ্ধে একটি প্রবন্ধ সন্নিবেশিত করেছেন।

 

তার এই লেখাটি থেকে একজন আইনজীবি বিচার প্রার্থী মানুষ, সহকর্মী আইনজীবি, জনসাধারন ও আদালতের প্রতি কি ধরনের আচরন করবেন তার বিষদ বিবরন দিয়েছেন।

 

যার আলোকেই আজকের এই লেখাটির প্রয়াস। তিনি লিখেছেন, আইন পেশায় আচরন ও শিষ্টাচার বলতে আইন পেশায় যারা নিয়োজিত অর্থাৎ আইনজীবিদের আচরন ও শিষ্টাচার বুঝায়।

 

১৯৭২ সালের বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার এবং বার কাউন্সিলের আদেশের ২(খ) আর্টিক্যালের সংজ্ঞা অনুযায়ী এডভোকেট বলতে বার কাউন্সিলে রতি রেজিষ্টারে এডভোকেট হিসাবে তালিকাভুক্ত ব্যাক্তিকে বুঝায়।

 

দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ২(১৫) ধারায় “প্লিডার” বলতে সেই ব্যাক্তিকে বুঝায় যিনি অপরের পে আদালতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য পেশ করতে আইনগত অধিকারী। আইন পেশা অপরাপর পেশা থেকে একটি মর্যাদাপুর্ন আদর্শ পেশা।

 

আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নানাবিধ নাগরিক অধিকার সংরনের সহিত আইনজীবিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের অধিকার সংরন ও অর্জনে যিনি অপরের হয়ে অকুতোভয় লড়াই চালিয়ে যান তিনিই আইনজীবি ।

 

এডভোকেট বা আইনজীবি এমন এক ব্যাক্তিত্ব যিনি আইন জানেন যার সততা ও সাধুতা একটি অনুকরনীয় আদর্শ, যিনি জন সেবার চেতনায় অনুপ্রানিত হয়ে এবং সকল সময়ে ভয়ভীতি ও আনুকুল্যের উর্ধ্বে থেকে আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এবং নাগরিক অধিকার সংরনে দৃঢ় সংকল্প।

 

সমাজে আইনজীবিদের উপস্থিতি অপরিহার্য এবং আইনজীবি ছাড়া আইনের শাসন তথা ন্যায় বিচার কল্পনা করা যায়না। আইন পেশায় যারা নিয়োজিত আছেন স্বভাবতই তাদের আচার আচরন অন্যান্য পেশাজীবিদের তুলনায় বিশেষ বৈশিষ্টের দাবী রাখে।

 

বার কাউন্সিল আইনজীবিদের পেশাগত আচরন ও শিষ্টাচারের কিছু নীতি ও আদর্শ প্রনয়ন করেছেন। এতে আইনজীবিদের পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

 

প্রত্যেক আইনজীবি তার নিজের ও আইন পেশার মহান আদর্শ সর্বদা সমুন্নত রাখবেন। একজন আইনজীবি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচারনা দ্বারা মোকদ্দমায় নিয়োগ লাভের চেষ্টা করবেন না।

 

শিাগত যোগ্যতা সম্পর্কিত পেশাগত কার্ড ব্যবহারে বাধা নেই। মামলা মোকদ্দমা সংগ্রহের জন্য কাউকে নিয়োগ করা যাবেনা। কিংবা মোকদ্দমা পাওয়ার জন্য কাউকে কোন পারিতোষিক দেওয়া যাবেনা।মোকদ্দমায় লব্ধ ফি সহযোগী আইনজীবি ছাড়া অন্য কারো সাথে ভাগাভাগি করা যাবে না।

 

অপর পরে আইনজীবির অনুপস্থিতিতে আদালতে কোন বক্তব্য উপস্থাপন করা যাবে না কিংবা প্রতিপরে আইনজীবিকে অনুলিপি প্রদান ব্যাতিরেকে বা তার অনুপস্থিতিতে আদালতে কোন আইনজীবি বিচারকের নিকট কোন তথ্য প্রদান করতে পারবে না অথবা প্রকাশ্য আদালত ছাড়া কোন বক্তব্য পেশ করতে পারবে না।

 

নিযুক্ত আইনজীবির প্রাপ্য পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত কোন মক্কেলের মোকদ্দমা অন্য কোন আইনজীবি নতুন ভাবে গ্রহন করবেন না। মক্কেলদের মাঝে বিরাজমান বিদ্বেষ বা বিরোধ যাতে প্রভাবিত না করে সে দিকে আইনজীবিকে বিশেষ ল্য রাখতে হবে।

 

সাহায্যকারী আইনজীবি ছাড়া অপর কোন ব্যাক্তির সাথে ফি ভাগাভাগি নিষিদ্ধ। জুনিয়ার আইনজীবি সর্বদাই সিনিয়র আইনজীবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন।

 

অনরূপ ভাবে সিনিয়র আইনজীবি জুনিয়র আইনজীবির প্রতি সাহায্য ও সহযোগিতার মনোভাব পোষন করবেন। যে মোকদ্দমায় একাধিক আইনজীবি রয়েছেন সে েেত্র তাদের মধ্যে যিনি সিনিয়র ঐ মোকদ্দমায় শুনানীর কার্য পরিচালনার দায়িত্ব তার।

তবে সিনিয়র কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে জুনিয়র আইনজীবি মোকদ্দমায় শুনানী করতে পারবেন।

ব্রেকিং নিউজঃ