| |

আইনজীবী (শেষ পর্ব)

আপডেটঃ 3:49 am | June 15, 2017

Ad

প্রদীপ ভৌমিক ॥ বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. আনিসুর রহমান খাঁন তার “বিবিধ প্রসঙ্গ” বইটিতে আইনজীবীদের আইন পেশার আচরন, শিষ্টাচার, কর্তব্য সমন্ধে যে প্রবন্ধটি লিখেছেন, তার অসমাপ্ত অংশটি আজকে প্রকাশ করা হলো।

 

তিনি মোয়াক্কেল বা বিচারপ্রার্থী মানুষের সাথে আইনজীবীদের আচরন সমন্ধে লিখেছেন, মোকদ্দমার সম্পত্তি বা বিষয় বস্তুতে কোন আইনজীবী এমন কোন স্বার্থ অর্জন করতে পারবেন না যা তার মোয়াক্কেলের স্বার্থের পরিপন্থি ।

 

কোন আইনজীবী নিয়োগ কালে মোয়াক্কেলের কোন বিষয়ে গোপন তথ্যাদি জেনে থাকলে পরবর্তী সময়ে তিনি একই বিষয়ে ঐ মোয়াক্কেলের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা পরিচালনা করতে পারবেন না। মোকদ্দমার বিরুদ্ধ পক্ষের সাথে আত্বীয়তা বা বন্ধুত্ব থাকলে মোকদ্দমা গ্রহনের সময় অবশ্যই তা প্রকাশ করা উচিত। কোন আইনজীবী পরস্পর বিরোধী স্বার্থ / অধিকার রিপ্রেজেন্ট করবেন না।

 

পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মোয়াক্কেলের সম্পত্তি অর্জন করা যাবে না। ডিগ্র“ী বা অন্য কোন ভাবে প্রাপ্ত মোয়াক্কেলের টাকা প্রাপ্তির সাথে সাথে মোয়াক্কেলকে জানাতে হবে এবং ঐ টাকার সাথে নিজের টাকা মেশানো যাবে না। নিয়োগ ছাড়া অযথা আইনগত পরামর্শ প্রদান থেকে বিরত থাকা উচিৎ।

 

আইন অমান্য করা মর্ম্মে কোন পরামর্শ দেয়া যাবে না। অপরাধীদের অপরাধ সম্পর্কে আইনজীবীর ব্যাক্তিগত অবগতি উপেক্ষা করে মোয়াক্কেলের পক্ষাবলম্বন করতে কোন বাধা নেই। পরামর্শ বা কাজের ধারা ও পরিমান অনুযায়ী ফি ধার্য করা উচিৎ।

 

মোয়াক্কেল ধনী কিংবা বেশি দিতে পারলেও অতিরিক্ত ফি নেওয়া চলবে না। কম ফি নেওয়ার ব্যাপারে সহকর্মী বন্ধুর অনুরোধ বিশেষ বিবেচনার দাবী রাখে। কোন আইনজীবীর বিধবা স্ত্রী ও এতিম সন্তানদের মামলা মোকদ্দমা বিনা ফি তে পরিচালনা করা প্রত্যেক আইনজীবীর অবশ্য কর্তব্য।

 

জনসাধারনের প্রতি আইনজীবীদের আচরন সমন্ধে তিনি লিখেছেন বিদ্বেষ বা ঘৃনা দ্বারা পরিচালিত হয়ে কোন মোকদ্দমা গ্রহন করা যাবেনা। প্রতিপক্ষ বা তার স্বাক্ষীর সাথে সদাচারন করা কর্তব্য। পরিচয় প্রদান ব্যাতিরেকে কোন সরকারী কর্মকর্তা, কমিটি বা সংস্থার সম্মুখে উপস্থিত হওয়া ঠিক নয়।

 

আদালতের প্রতি আইনজীবীদের কর্তব্য সমন্ধে তিনি লিখেছেন আদালতের প্রতি সম্মান সুচক ও শ্রদ্ধাশীল মনোভাবের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিচারকের আসন সবোচ্চ সমুন্নত রাখা আইনজীবীর কর্তব্য।

 

বিচারকের বিরুদ্ধে যদি ন্যায্য অভিযোগ উপস্থাপিত হয় তা হলে তা পরিহার করা যাবে না। সুষ্ঠ বিচার ব্যবস্থার স্বার্থেই এর প্রতিকার দরকার। মোকদ্দমা পরিচালনার সময় ভুল তথ্যাদি দ্বারা বিভ্রান্ত করা বাঞ্চনিয় নয়।

 

বিচারকের খাস কামরায় কোন মোকদ্দমার মেরিট নিয়ে আলোচনা করা অনুচিত। বিচার কাজে সহায়তাকারী হিসাবে আইনজীবীকে অবশ্যই স্বাধীন হতে হবে। দ্রুত বিচার নিস্পত্তির ব্যাপারে বিচারকদের সহায়তা করা আইনজীবীদের আরো একটি কর্তব্য।

 

বিনা কারনে বা অপ্রতুল কারনে মোকদ্দমার সময় নেয়া উচিত নয়। অযাচিত ভাবে আদালতে আইনের মতামত প্রদান একান্তভাবে বজ্যনীয়। প্রবন্ধটিতে তিনি ব্যাক্তি জীবনে একজন আইনজীবীকে সৎ, সরল, কর্মনিষ্ট ও কঠোর পরিশ্রমী হতে বলেছেন।

 

তিনি প্রত্যেক আইনজীবীকে ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হতে বলেছেন। চায়ের স্টলে বা যত্রতত্র মক্কেল বা অন্য কারো সাথে বসা বা আড্ডা দেয়া যাবে না। অপ্রিয় হলেও সত্য যে অধিকাংশ আইনজীবী আইন পেশার নীতি আদর্শ সমুহ বহুলাংশে মেনে না চলার কারনেই অনিবার্য ভাবে এ পেশার মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে।

 

“নলেজ ইজ পাওয়ার” যে প্রবাদ বাক্যটি ইংরেজি ভাষায় প্রচলিত রয়েছে তা আইনজীবীদের বেলায় বেশি প্রযোজ্য। অধ্যয়ন ও কঠোর পরিশ্রম আইন পেশায় বুৎপত্তি লাভের একমাত্র উপায়। এর কোন সংক্ষিপ্ত বা বিকল্প পথ নেই।

ব্রেকিং নিউজঃ