| |

জামালপুরে শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ গভনিং বডি’র নির্বাচন নিয়ে দ্বন্ধ চরমে

আপডেটঃ 11:25 pm | July 05, 2017

Ad

মোঃ রিয়াজুর রহমান লাভলু : জামালপুর শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ গভর্নিং বডি’র মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় নতুন গভর্নিং বডি’র শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ’র মধ্যে দ্বন্ধের জের ধরে কলেজ প্রশাসনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, জামালপুর শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের নতুন গভর্নিং বডি’র দাতা সদস্য, অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রকাশ্য তৎপরতার মাধ্যমে করা হলেও শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়াটি যথাযথ বিধি মেনে করা হয়নি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করে অধ্যক্ষ এ কে এম তফিকুল ইসলাম শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন।

 

এই ক্ষেত্রে তিনি উদ্দেশ্যমুলকভাবে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটার তালিকা থেকে কলেজের উপাধ্যক্ষ মোঃ সুরুজ্জামান এর নাম বাদ দিয়ে একটি প্রহসনের নির্বাচন দেখিয়ে তার আজ্ঞাবহ শিক্ষকদের নির্বাচিত দেখিয়েছেন। যা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি’র সুস্পষ্ট লংঘন।

এ ব্যাপারে কলেজের উপাধ্যক্ষ মোঃ সুরুজ্জামান জানান, যেহেতু এ কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত ডিগ্রি কলেজ সেহেতু এ কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতকৃত ভোটার তালিকা থেকে উপাধ্যক্ষের নাম বাদ দেয়ার কোন সুযোগ নেই।

 

অথচ অধ্যক্ষ তা করে আমার পদটিকে অস্বীকার করেছেন। যা আইনত পরিপূর্ণভাবে অবৈধ। তিনি আরও বলেন, বর্তমান অধ্যক্ষ নিজেই অবৈধ। ১৯৯৭ সনে তিনি অবৈধভাবে যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের প্রভাষক হিসাবে অবৈধভাবে নিয়োগ নেন।

 

যা ২০০০ সনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা শাখার অডিটে উল্লেখ আছে। পরবর্তীতে ২০০৮ সনেও মন্ত্রণালয়ের অডিটেও বিষয়টি পুনরায় উল্লেখ করে তাকে উদ্বৃত্ত শিক্ষক হিসাবে গন্য করা হয়েছে।

 

ওইসব অডিট প্রতিবেদনে তাকে ১৯৯৭ সন থেকে ২০০৪ সন পর্যন্ত ৩,৬০,৪০০/ (তিন লক্ষ ষাট হাজার চারশত টাকা) ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদানের নির্দেশনা দেয়া হয়। সে হিসাবে সরকারি নিয়োগ বিধি অনুযায়ী তার চাকুরীর অভিজ্ঞতা ২০০৪ সন থেকে গনণাযোগ্য। এই হিসাবে তার চাকুরীর অভিজ্ঞতা ২০০৪ থেকে ২০১৩ সন পর্যন্ত ৯ (নয় বছর) হয়।

 

অথচ অধ্যক্ষ নিয়োগের আবেদন পত্রে তিনি তার চাকুরীর অভিজ্ঞতা ১২ (বার) বছর দেখিয়েছেন। যা সম্পুুর্ণরুপে একটি তথ্য জালিয়াতি এবং আইনত একটি গুরুতর অপরাধ। এই বিষয়টি যাতে প্রকাশিত না হয় সে জন্য তিনি একের পর এক বিভিন্ন অনিয়ম করে যাচ্ছেন।

 

সেই প্রক্রিয়ারই অংশ এই অবৈধ শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন। এ নিয়ে আমি আদালতে মামলা করেছি যার নং ৩৫১/২০১৭(অন্য) এবং মহামান্য আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছি।

জামালপুর শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ্য এ কে এম তফিকুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ হিসাবে আমার নিয়োগ বৈধ এবং নিয়োগের কাগজ পত্র কলেজে এবং ডিজিতে সংরক্ষিত আছে। কলেজের উপাধ্যক্ষ মো: সুরুজ্জামানকে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেছেন। তবে এ নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলছে বলেও জানান।
এ ব্যাপারে ওই কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ডাঃ এম এ মান্নান খান বলেন, কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ’র মধ্যে দ্বন্ধের জের ধরে কলেজ প্রশাসনে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে।

ব্রেকিং নিউজঃ