| |

ময়মনসিংহের চরাঞ্চলবাসীর গাছ কেটে রাস্তা অবরোধ

আপডেটঃ 9:04 pm | July 09, 2017

Ad

মো: নাজমুল হুদা মানিক ॥ ময়মনসিংহে বিভাগীয় নতুন শহরের ভূমি অধিগ্রহণের ‘জরিপ’ নিয়ে চরাঞ্চলের ঘরে ঘরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার প্রশাসনের পক্ষ থেকে চরাঞ্চলে জরিপ করা হবে এমন খবরে গ্রামবাসী ভোর থেকে ঘর ছেড়ে বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেয় এবং সবক’টি সড়ক দিনভর অবরোধ করে রাখে। চরাঞ্চলের কোনো দোকানপাট খোলেনি।

 

হাটবাজারে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। অবশ্য সারাদিনের মধ্যে প্রশাসনের কোনো লোক জরিপ করতে চরাঞ্চলে যাননি। এদিকে জরিপের খবর ছড়িয়ে পড়লে চরাঞ্চলের শ্রমিকরা শহরে কাজে যোগদান থেকে বিরত থাকেন।

 

ওই এলাকার কোনো ব্যবসায়ি শহরে পণ্য নিয়ে আসেননি। যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। নৌকা চলাচলও করেনি। গত ২১ জুন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে চরবাসিসহ সুধিমহলের সাথে মতবিনিময় সভার পর ও ২২ জুন অপর এক সভায় চরবাসির সাথে পৃথক এক বৈঠকের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোববার ভূমি অধিগ্রহনের এলাকায় জরিপ শুরু করার কথা বলা হয়।

 

৯ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত জরিপ কাজ চলার কথা থাকলে গত শনিবার রাত থেকেই আগামী বুধবার পর্যন্ত চরাঞ্চলের প্রবেশপথে অবস্থান ও বিভিন্ন সড়ক অবরোধ কর্মসুচী পালনের ঘোষনা দেন বসতভিটা রক্ষা কমিটির গ্রাম শাখাগুলো। সেই ঘোষনা অনুযায়ী চরাঞ্চলের মানুষ শনিবার রাত থেকেই রাস্তায় অবস্থান নেয়া শুরু করেন। রোববার ভোর থেকে চরাঞ্চলের আবাল বৃদ্ধবণিতা ঘর থেকে বেরিয়ে নিকটবর্তী রাস্তায় অবস্থান নেন।

 

বেলা বাড়ার সাথে সাথে চরাঞ্চলের সড়কগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ থেকে বোরোরচর সড়কের রসুলপুর, জয়বাংলাবাজার, দুর্গাপুর সড়কের কোনাপাড়ায় গাছের গুড়ি ফেলে এবং চরগোবিন্দপুর পুর্বপাড়া ও কাচারিঘাট-জয়বাংলাবাজারের সড়কজুড়ে হাজারো নারী-পুরুষ অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে।

 

দিনভর কর্মসুচী চলাকালে ‘পূর্বের নকশা বহাল করো, নদীর তীরে শহর গড়ো’, ‘বিকল্প প্রস্তাব মেনে নাও, নইলে মুখে বিষ দাও’, ‘আমরা সবাই চরের সেনা, ভয় করিনা বুলেট বোমা’, ‘যে যেখানে আছি ভাই, বিকল্প প্রস্তাবে শহর চাই’ ‘অ্যাকশান অ্যাকশান, ডাইরেক্ট অ্যাকশান’ ‘ভূমিখোকোদের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশান’ ইত্যাদি শ্লোগানে মুখরিত করে তোলে।

 

অবস্থান ও সড়ক অবরোধ কর্মসুচীর কারণে চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা রোববার স্কুলে যায়নি। স্কুলের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা থাকলেও শিক্ষার্থীরা না যাওয়ায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। স্কুল শিক্ষার্থীরা জানায়, ৬ জুলাই থেকে তাদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। রোববার বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে তাঁরা কেউ স্কুলে না যাওয়ায় স্কুলের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

 

কয়েকজন চরবাসি জানান, যেকোনো মূল্যে তারা বসতভিটা রক্ষা করবেন। জমি অধিগ্রহনের জন্য বসতভিটা রক্ষা কমিটির ‘বিকল্প প্রস্তাব’ মেনে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে জমি অধিগ্রহন করে নতুন শহর গড়ার অনুরোধ জানান।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চরাঞ্চলে কোনো যানবাহন চলাচল বা কেউ যেতে চাইলে অবরোধকারিরা বাঁধা দেন। জয়বাংলা বাজার থেকে চরভবানীপুর পর্যন্ত কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিজ নিজ বাড়ির সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।

19895024_1820357368277888_3054542162409375976_n

অবরোধো কারণে বোরোরচর, সিরতা, পরাণগঞ্জ, বালিখা, বোরোরচর ও রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের মানুষ ময়মনসিংহ শহরে আসতে পারেননি। ময়মনসিংহ বিভাগের নতুন শহর গড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে এক হাজার দুইশত কুড়ি একর জমি অধিগ্রহণের প্রথম নকশাটি বাতিল করে নতুন করে নকশা প্রণয়ন করা হয়। যাতে চার হাজার ৩৬৬ একর ভূমি অধিগ্রহণের কথা রয়েছে।

 

এরপর ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে ‘বিকল্প প্রস্তাবে’ নতুন শহর গড়ার দাবিতে বসতভিটা রক্ষা কমিটি দশ মাস ধরে লাগাতার আন্দোলন করছে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়সহ সরকারি বিভিন্ন কার্যলয় ও আধুনিক ময়মনসিংহ বিভাগীয় নগর গড়ে তোলার জন্য সরকার ব্রহ্মপুত্রের চর এলাকার পাঁচটি গ্রামের ৪ হাজার ৩৩৬ একর জমি অধিগ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

 

প্রশাসনের পক্ষ থেকে অধিগ্রহনের ফলে সকল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে যথাযথভাবে পুনর্বাসনের আশ্বাস দেয়া হয়। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, চরাঞ্চলের একটি এলাকায় কিছু তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাওয়ার কথা ছিল।পরে প্রশাসনিকসহ বিভিন্ন কারণে তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

ব্রেকিং নিউজঃ