| |

হালুয়াঘাটে ধর্ষণ কারীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে মিছিল ও মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত

আপডেটঃ 8:54 pm | July 16, 2017

Ad

আব্দুল হক লিটন হালুয়াঘাট প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পুর্ব গোপিনগর গ্রামের ফাতেমা খাতুন (২৮) কে গণধর্ষনের পর থানায় মামলা হয়েছে, ঘটনার প্রায় একমাস পার হলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামী আটক না হওয়ায় গতকাল শনিবার বিকেলে গোপিনগর মৌলবীবাজারে এক মানববন্ধন, র‌্যালী ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এ সময় গোপিনগর গ্রামের  হারুন-অর-রশিদ তালুকদার, আলহাজ্ব আঃ হাই, মীর হোসেন, ইমাম উদ্দিন মেম্বার সহ শত শত এলাকার সাধারণ মানুষ এই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন ধর্ষণের একমাস পার হলেও কেন ধর্ষণকারীরা  এখনো গ্রেপ্তার হয়নি? পুলিশের দূর্বলতা আছে বলে তারা অভিযোগ করে বলেন আগামী এক সাপ্তাহের মধ্যে যদি ধর্ষণকারীরা গ্রেপ্তার না হয় তাহলে তারা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করবেন।

 

১৯ জুন সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার সময় একই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের পুত্র জামাল হোসেন (৩০), ইদ্রিস আলির পুত্র খাইরুল ইসলাম (৩০), এমদাদুল, ফরহাদ মিলে এই গৃহবধুকে মুখ বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষন করে।

 

সরাসরি ধর্ষনের সাথে জড়িত থাকায়  হালুয়াঘাট থানায় চারজন ও ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিন সহযোগি সহ মোট সাতজনের নামে মামলা দায়ের করা হয়। আর এদিকে ২১ জুন বুধবার দুপুরে বিচারের দাবীতে গোপীনগর গ্রামে এলাকাবাসীকে বিক্ষোভ মিছিলও করতে দেখা যায়।
বুধবার সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, একটি নির্জন দ্বীপের ন্যায় পরিত্যক্ত একটি ভাঙ্গা ছনের ঘরে ফাতেমা তার দুই শিশুকে নিয়ে প্রতিদিনের মত ঘুমিয়ে ছিলেন। স্বামী বাবুল মিয়া মাছ ধরার কাজে বাহিরে থাকায় গত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার সময় একই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের পুত্র জামাল হোসেন (৩০), মোঃ ইদ্রিস আলির পুত্র খাইরুল ইসলাম (২৮), মোঃ এমদাদুল হক ও মোঃ ফরহাদ সহ মোট চারজন মিলে এই গৃহবধুকে মুখ বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষন করে।
পরে তাকে মেরে ফেলার জন্যে গলায় চেপে ধরে। একপর্যায়ে রাস্তায় দিয়ে যাতায়াতরত এক পথিকের টর্চ লাইটের আলো দেখে ধ্বর্ষনকারীরা নৌকাযোগে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ধর্ষিতা।
গুরুতর আহত অবস্থায় ফাতেমাকে হালুয়াঘাট সাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আর এদিকে ২১ জুন বুধবার উক্ত ধর্ষনের ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্যে স্থানীয় দুই ইউপি সদস্য আরফান আলী ও মোস্তফা কামাল, মন্নাছ আলীর পুত্র মোঃ বাচ্চু মিয়া, ফুলমামুদের পুত্র মফিজুল ইসলাম তাদের নেতৃত্বে স্থানীয় মৌলবীবাজারে এক দরবার সালিশের আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দরবারীগন স্থান ত্যাগ করে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার ৪ বৎসরের শিশু প্রত্যক্ষদর্শী মোবাইদ বলেন-আমার আম্মুকে ঐ দিন রাতে ৪ জন লোক এসে অনেক নির্যাতন করেছে। আমার আম্মু ও আমি চিৎকার করেছি। আমার আম্মুকে তারা মেরে ফেলতে চেয়েছিলো। মোঃ আব্দুল হাই জানান, আরফান মেম্বার, মোস্তফা মেম্বার ও বাচ্ছু মিয়ার নির্দেশে ধর্ষনের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি আপোশ-মীমাংসার সার্থে জামাল সহ তারা চারজন মিলে ঐ গৃহবধুকে ধর্ষনের কথা স্বীকার করেছে।

ddddddd 2
জামালের সাথে এমদাদুল, খাইরুল ও ফরহাদ এই মোট চারজন জড়িত ছিলো বলে জামাল তাকে জানিয়েছেন। ধর্ষিতার স্বামী বাবুল মিয়া বলেন- আমি মাছ মারার জন্যে বাহিরে ছিলাম। ঘটনার পর আমার মা ফাতেমা খাতুনের ফোন পেয়ে আমি বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে লাঞ্চিত হয়ে অচেতন অবস্থায় দেখতে পাই। পরে তাকে হালুয়াঘাট হাসপাতালে নিয়ে যাই।

 

২১ জুন বুধবার রাতে হালুয়াঘাট থানায় মামলা দায়েরের পস্তুতি চলছে বলে ধর্ষিতা ফাতেমা ও তার স্বামী বাবুল মিয়া জানান। হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন-আমি অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করবো

মামলার বাদীকে ধর্ষনকারিরা বার বার মেরে ফেলার হুমকী দিচ্ছেন। গোপিনগর গ্রামের শত শত স্থানীয় এলাকাবাসী বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ র্র্যালী, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

 

গণ ধর্ষণের ঘটনার প্রায় একমাস অতিবাহিত হলেও কোন আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় ধর্ষিতার পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়রা দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান।

ব্রেকিং নিউজঃ