| |

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐহিত্যবাহী কুমারদের তৈরী নানা প্রয়োজনীয় মৃৎশিল্প

আপডেটঃ 12:38 am | July 24, 2017

Ad

মোঃ আবু রায়হান, শেরপুর ঝিনাইগাতী প্রতিনিধিঃ বাঙ্গালীদের সবচাইতে বেশী ব্যবহত কুমারদের তৈরী নানা ধরণের ঐহিত্যবাহী মৃৎশিল্প। বর্তমান সময়ে মৃৎশিল্পীর চাহিদা দিন দিন কমছে বাড়ছে প্লাস্টিকের তৈরী বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

 

পরিবেশবিদদের মতে এই সমস্ত কুমারদের তৈরী মৃৎশিল্প ব্যবহারে পরিবেশ দূষণের কোন সম্ভাবনা নেই, কিন্তু প্লাস্টিকের ব্যবহারে রয়েছে নানা ধরণের পরিবেশ দূষণ ঝুঁকি।

 

সূত্রমতে গবেষনায় জানা যায়, প্লাস্টিকের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ব্যবহারে ফলে দেহের বিভিন্ন ক্ষতি সাধন করে চলছে এই প্লাস্টিক সামগ্রী। তাই জীবনের ঝুঁকি কমাতে হলে প্লাস্টিকের ব্যবহার হৃাস করা পরিবেশ বান্ধব দূষণ মুক্ত মৃৎশিল্পের ব্যবহার বৃদ্ধি জরুরী বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

 

উল্লেখ্য, সময়ের পরিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐহিত্যবাহী মৃৎশিল্প। মৃৎশিল্পীরা পূর্ব পুরুষদের পেশা ছেড়ে দিনদিন অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছে। দেশের সিংহভাগ মানুষ প্লাষ্টিক সামগ্রী ব্যবহার করায় এ শিল্পের মূল্য দিন দিন কমে যাচ্ছে।

 

সেই সাথে হারাতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। বিগত সময়ে শেরপুর সদরসহ ৩টি উপজেলার চাপাঝোড়া, মালিঝিকান্দা, ধানশাইল, কালিবাড়ী, বিলাসপুর, নান্দিনা, গোপালখিলাসহ প্রায় ৩০/৪০ টি গ্রামে হাজার হাজার পরিবার এ পেশায় নিয়োজিত ছিল।

 

কিন্তু বর্তমানে এ শিল্পকে ধরে রাখার জন্য প্রতিনিয়িত জীবনের সাথে সংগ্রাম করে যাচ্ছে কিছু সংখ্যাক পরিবার। বর্তমানে এই মৃৎশিল্প এখন লাজুক অবস্থা।

 

নির্মাণ খরচ এবং আধুনিকতার সাথে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকা বড় কঠিন হয়ে পড়েছে। চাপাঝোড়া গ্রামের লিটন কুমার পাল জানায়, কয়েক বছর আগেও স্থানীয় ভাবে বিনামূল্যে মাটি সংগ্রহ করা গেলেও বর্তমানে ব্যাপক ভাবে চাষাবাদ হওয়াতে এই কাজে কেউ বিনা মূলে মাটি দিতে চাই না।

 

তাই বর্তমানে এই কাজের জন্য বিভিন্ন গ্রাম থেকে অনেক চড়া দামে মাটি ও লাকরী সংগ্রহ করে নির্মাণে ব্যয় হয় অনেক বেশী। শুধুমাত্র পূর্ব পুরুষের এ শিল্পকে নিয়ে পেটে ভাতে বেঁচে আছি।

 

এভাবে বেঁচে থাকার নামকে জীবন বলে না। এ শিল্পকে সরকারী ভাবে উদ্দ্যোগ গ্রহণ করে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে প্রতি বছর বৈদৈশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব তেমনি অত্র অঞ্চলের হাজার হাজার বেকারদের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থাও হবে।

 

পাল পাড়ার মৃৎ শিল্পীরা জানান, এবার মাটির পুতুল, পাখি, ফুল, ফলের টপ, ফলমূলসহ বিভিন্ন বাসন কোশনসহ নানা ধরণের ভাস্কর্য্য তৈরী করেছেন। মনের মাধুরী মিশিয়ে বিভিন্ন মাটির তৈরীর খেলনার আকৃতি দিয়েছেন।

 

বাসন কোশনের চেয়ে খেলনা সামগ্রীর চাহিদা অনেক বেশী। বিভিন্ন মেলা, ঈদ পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবে এসকল মাটির তৈরী সামগ্রী বিক্রি হয়ে থাকে।

 

প্রকাশ থাকে যে, এসমস্ত সামগ্রী ছাড়াও ব্যবহারিক সামগ্রী বাজারে বিক্রি হয়না বলে মৃৎশিল্পীরা এখন এসমস্ত সামগ্রী আর তৈরী করছে না।

 

এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে দীর্ঘদিনের ঐহিত্যবাহী পরিবেশ বান্ধব দূষনমুক্ত মৃৎশিল্পী হারিয়ে যাবে বলে বিজ্ঞ মহল মনে করছে। তাই মৃৎশিল্পীকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল।

ব্রেকিং নিউজঃ