| |

শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে ময়মনসিংহ জেলা শিক্ষক সমিতির উদ্দ্যোগে শহীদ ফিরোজ জাহাঙ্গীর চত্বরে অবস্থান কর্মসুচী পালিত

আপডেটঃ 8:18 pm | July 26, 2017

Ad

মো: নাজমুল হুদা মানিক. ময়মনসিংহ ॥ শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে আজ সকাল ১১টা হতে ময়মনসিংহের শহীদ ফিরোজ-জাহাঙ্গীর চত্বরে অবস্থান কর্মসুচী পালিত হয়েছে।

 

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি শামসুন্নাহার বেগম এর সভাপতিত্বে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক মো: আনোয়ার হেসেন ও জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম হক এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ নিহার রঞ্জন রায়,

 

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সম্পাদক দুকুৃল চন্দ্র দেব, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ চাঁন মিঞা, সহ সভাপতি মো: দুলাল মিয়া, মো: এমদাদুল হক খান,

 

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সভাপতি জাফর আহমেদ চৌধুরী, শিক্ষক নেতা মো: আব্দুল মোতালেব, খন্দকার সুলতান আহমেদ, অবিনাশ, মো: আবুল কালাম আজাদ, মো: সাইদুল হক, মো: মিজানুর রহমান, মো: জসিম উদ্দিন, মো: হাবিবুর রহমান, এনামুল হক সরকার, বজলুর রহমান প্রমুখ অবস্থান কর্মসুচীতে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে বক্তব্য রাখছেন।

 

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ময়মনসিংহ জেলা শাখার অবস্থান কর্মসুচীতে বক্তাগন বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আজ নানাবিধ সমস্যা সংকটে নিমজ্জিত। এই সংকটের মাঝে পাহাড়সম বৈষম্যের শিকার বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ।

 

যা নিরসনের কোন উদ্যেগ সরকারের পক্ষ থেকে দেখছিনা। ইতিপূর্বে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, ৮ম বেতন স্কেলের সকল সুযোগ সুবিধা এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরাও পাবেন, কিন্তু সরকারী কর্মচারীগণ যথা সময়ে সে সকল সুযোগ সুবিধা পেলেও বেসরকারী শিক্ষকদের দেওয়া হল এক বছর পর, তাও আবার অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করার পর।

 

২০১৬ জুলাই থেকে ৫% প্রবৃদ্ধি সরকারী কর্মচারীগণ যথা সময়ে পেলেও বঞ্চিত করা হয়েছে বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের। সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয় একই বেসিক স্কেলে।

 

কিন্তু সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মূল বেতনের ৩৫-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া পান, চিকিৎসা ভাতা পান ১৫০০ টাকা। বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতন স্কেলের ২৫ শতাংশ ও কর্মচারীদের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা প্রদান করা হয়।

 

বেসরকারী শিক্ষকদের বাড়ীভাড়া দেওয়া হয় ১০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা, বৈশাখী ভাতা দেওয়া হয়না। সরকারি কর্মচারীরা বৈশাখী ভাতা ছাড়াও বছরে মূল বেতনের সমপরিমাণ দুটি উৎসব ভাতা পান। সন্তানদের জন্যও ভাতা পান।

 

এ সবই যৌক্তিক এবং প্রয়োজনে আরও বাড়ানো উচিত। অন্যদিকে, বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গোটা কর্মজীবনে মাত্র একটি ইনক্রিমেন্ট একশত পনের টাকা দেওয়া হতো সেটাও আবার কেটে নেওয়া হয়েছে।

 

কেন এ বৈষম্য, সেই প্রশ্ন আজ দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক কর্মচারীর। ত্রিশ বছরেরও বেশি চাকরি জীবনের শেষ পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক পদে থেকে বেতন বাড়ি ভাড়া চিকিৎসা ভাতা মিলে সর্বমোট প্রতি মাসে পান ৩০ হাজার টাকার মতো।

 

কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত একই সিলেবাস যে সরকারি বিদ্যালয়ে অনুসরণ করা হয় তার প্রধান শিক্ষকের মাসিক বেতন ভাতা ৬৪ থেকে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

 

বেসরকারি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ১৫ বছর চাকরি করে বেতন ভাতা পায় ২২ হাজার টাকা, কিন্তু সরকারি বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের বেতন ভাতা অর্ধলক্ষ টাকারও বেশি।

 

প্রকৃতপক্ষে, সরকারি বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের বেতন ভাতা বেসরকারি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সমান। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি নেতৃবৃন্দ জানান, জাতীয়করণ ছাড়া এ সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব না।

 

সরকার চাইলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র বেতন, পরীক্ষা ফি ও অন্যান্য সূত্র থেকে যাবতীয় আয় সরকারি ভাণ্ডারে জমা দেওয়া হবে। বছরের পর বছর মোট জিডিপির মাত্র ২ শতাংশের মতো শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

 

অথচ সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে নতুন প্রজন্মকে যুগের চাহিদা অনুযায়ী যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৭ থেকে ৮ শতাংশ বরাদ্দ চাই। দেশে এখন সরকারী স্কুল কলেজ প্রায় ৬০৯টি (৩৩৫টি সরকারি মাধ্যমিক ২৭৪ টি সরকারি মহাবিদ্যালয় ) কিন্তু, এমপিওভুক্ত স্কুল,

 

কলেজ ও মাদরাসার সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার (২৩৬৩টি বেসরকারি মহাবিদ্যালয়, ১৬১০৯টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭৫৯৮টি বেসরকারি মাদরাসা)। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।

 

তবে নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার, এসব প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে একরকম বিনা বেতনে চাকরি করছেন এক লাখ শিক্ষক কর্মচারী। এসব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের দীর্ঘদিন এমপিওভুক্ত না হওয়ার কারণে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

 

দেশের ৯০ হতে ৯৫ শতাংশ ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানকারী বেসরকারি স্কুল কলেজের শিক্ষক কর্মচারীদের এ সংকট নিরসনে শিক্ষক কর্মচারীদের দাবি হচ্ছে, শিক্ষা ও শিক্ষকদের বাঁচাতে শিক্ষা জাতীয়করণ করতে হবে। শিক্ষা খাতে বরাদ্ধ প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী ৬ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।

 

প্রশ্নপত্র ফাঁস যে কোন ভাবে বন্ধ করে শিক্ষা ও পরীক্ষার মান উন্নত করতে হবে। পাঠ্য পুস্তক সাম্প্রদায়িকীকরণের প্রচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। বেসরকারি শিক্ষকদের চাকুরীক্ষেত্রে ন্যায্য পদায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি নিয়মানুযায়ী বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, বৈশাখী ভাতা, মহার্ঘ ভাতা প্রদান করতে হবে।

 

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জীবন বাঁচাতে অবিলম্বে এককালীন বরাদ্দ মঞ্জুর করে তাঁদের অবসরোত্তর ভাতা ও কল্যাণ ফান্ডের প্রাপ্য টাকা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

 

একাডেমিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বহির্ভূত শিক্ষকদের এমপিও সুবিধা প্রদান করতে হবে। এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা বা উচ্চতর শ্রেণির জন্য (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর) বিধি মোতাবেক নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করতে হবে। সরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের মতই বেসরকারী শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন স্কেলের পরিবর্তন, পরিবর্ধন করতে হবে।

 

শিক্ষা নীতি ২০১০-এর শিক্ষা জাতীয়করণ ও শিক্ষকদের মর্যাদা সংক্রান্ত সুপারিশগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ