| |

আগামী মন্ত্রীসভার রদবদল ও জনগনের প্রত্যাশা

আপডেটঃ 2:40 pm | August 01, 2017

Ad

প্রদীপ ভৌমিক: বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে মন্ত্রীসভার রদবদল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বলা হচ্ছে রদবদল আসন্ন। এটি শাসক দলের জন্য একটি রুটিন ওয়ার্ক। প্রশাসনের গতিশীলতা আনার জন্য সরকার প্রধান এ কাজটি করার ক্ষমতা রাখেন।

 

যখন কোন কোন মন্ত্রী তার দায়িত্ব আশানুরুপ পালন করতে পারেন না কিংবা মানষিক ও শারিরিক ভাবে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয় তখন প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করলে নতুন মন্ত্রী কিংবা দপ্তর পুর্নবন্টন করতে পারেন।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নিজ দল আওয়ামীলীগকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী করে পুনরায় ক্ষমতায় আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। প্রস্তুতি গ্রহন করছেন নির্বাচনের।

 

এ লক্ষ্যে উনার জন্য যা প্রয়োজন তা হলো দক্ষ, দুর্নীতিমুক্ত, সৎ, নিষ্ঠাবান ও দেশব্যাপি গ্রহনযোগ্য মন্ত্রীসভার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত দলের গুরত্বপূর্ন নেতা কিংবা সংগঠকরা মন্ত্রনালয় পরিচালনায় দক্ষতার পরিচয় নাও দিতে পারেন।এ ক্ষেএে নতুন পুনগঠিত মন্ত্রী পরিষদে মন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেএে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

 

যে সমস্ত মন্ত্রীর পারিবারিক সদস্যদের বিতর্কিত কর্মকান্ড সরকার ও সরকারী দলকে বিভ্রত অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছে ভোটারদের মধ্যে যাদের জন্য নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে তাদের মন্ত্রী সভা থেকে বাদ দিয়ে ভোটারদের কাছে গ্রহনযোগ্য ব্যাক্তিকে মন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এই মহুর্তে অত্যাবশকীয়। শোনা যাচ্ছে কোরবানী ঈদের পর মন্ত্রী সভায় রদবদল হবে।

 

সরকারে আরও কয়েকজন কেবিনেট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত হবে। কোন কোন ক্ষেএে কয়েকজন প্রতিমন্ত্রীকে পূর্নমন্ত্রী করা হবে। সমস্ত প্রক্রিয়াটি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। শুধু মাএ মন্ত্রীদের সংখ্যা বাড়িয়ে কেবিনেটের গতিশীলতা ও দক্ষতা বাড়ানো যায়না।

 

তার জন্য প্রয়োজন প্রশাসনিক ভাবে দক্ষ ব্যাক্তিদের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান। পৃথীবির অনেক দেশ ছোট মন্ত্রী সভা নিয়ে সাফল্যের সাথে সরকার পরিচালনা করে আসছে। প্রমান সরুপ বলা যায়। যুক্তরাজ্যে কেবিনেট পদমর্যাদায় মন্ত্রী রয়েছেন ২১ জন।

 

জার্মানীতে ১৬ জন। যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ জন। ভারতের মত বিশাল রাষ্ট্রে মাএ ১৪ জন কেবিনেট মন্ত্রী নিয়ে সুষ্ঠভাবে সরকার পরিচালনা করা হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে পূর্নমন্ত্রী আছেন ৩২ জন প্রতিমন্ত্রী ১৮ জন ও ২ জন উপমন্ত্রী। বড় মন্ত্রীসভায় একটা বিরাট অংকের অর্থ ব্যায় ও প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর বাড়তি চাপ পরে। যার ফলে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হয়।

 

আমাদের মত মধ্যম আয়ের দেশের জন্য ক্ষতিকর। যা হোক আমরা অল্প সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকজন পূর্নমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পাব। তবে নতুন মন্ত্রীদের নিয়োগের ক্ষেএে যোগ্যতা ও বির্তকিত নয়।

 

সার্বক্ষনিকভাবে কাজ করে যেতে পারেন এমন ব্যাক্তিদের যেন মন্ত্রী সভায় স্থান করে দেওয়া হয়। প্রয়োজনে ভাবাবেগের উর্দ্ধে উঠে অযোগ্য ও বিতর্কীত মন্ত্রীদের বাদ দিয়ে মন্ত্রীসভার দপ্তর পুনবন্ঠন ও নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। দলের বড় নেতা ও সংগঠক যোগ্যমন্ত্রী হবেন এমন কোন কথা নেই।

 

সৎ ভাবমূর্তী ও দূর্নিতীমুক্ত ও প্রশাসনিকভাবে দক্ষ ব্যাক্তিদের দিয়ে মন্ত্রী সভা পুনগঠন করলে এ মূহুর্তে আশানুরুপ ফল পাওয়া যেতে পারে। বড় মন্ত্রী সভা নয় দক্ষ ও যোগ্যতা সম্পন্ন ছোট মন্ত্রী সভাও পারবে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জল করতে।

 

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে বানিজ্য নির্ভর বিশ্বে সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেএে, ব্যবসা বানিজ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন ব্যবসা ও বিশ্বের রাজনীতি সম্পর্কে যারা অভিজ্ঞ তাদের ভিতর থেকে মন্ত্রীসভায় সদস্য নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

 

সংবিধানের ৫৬ (২) ধারা মুতাবেক টেকনোক্রেট কোঠায় মন্ত্রী নেওয়া হয় (মোট সদস্যের ১০ ভাগের ১ ভাগ) এই ধারাটি পরিবর্তন করে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য না হলেও যোগ্য ব্যাক্তিদের মন্ত্রী সভায অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

 

বিশ্ব রাজনীতির জটিল প্যাচ ও আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে সব সংসদ সদস্যের ধারনা নাও থাকতে পারে। তাই টেকনোকেট মন্ত্রী হিসেবে সংসদ সদস্যদের বাইরে থেকেও যোগ্য ও দক্ষ ব্যাক্তিদের মন্ত্রী সভায় সদস্য করা গেলে দেশের উন্নয়নের জন্য মঙ্গলজনক হবে। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ।

 

আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের গ্রহনযোগ্যতা ও ভুমিকা বেড়েছে। তাই সঠিক ভাবে দেশে এবং দেশের বাইরে বিশ্ব আসরে প্রতিনিধিত্ব করতে হলে চাই দক্ষ, শিক্ষিত, জ্ঞানী ও দুর্নিতীমুক্ত একটি কেবিনেট। বাংলাদেশকে উন্নয়নের শিখরে পৌছানোর জন্য এটাই জনগনের প্রত্যাশা।

ব্রেকিং নিউজঃ