| |

নেত্রকোনা-৫ পুর্বধলা আসনে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক ডিআইজি আবদুল হাননান খান প্রচারনায় তুঙ্গে

আপডেটঃ 8:42 pm | August 02, 2017

Ad

এম এ আজিজ ॥ জাতীয় সংসদের নেত্রকোনা-৫ পুর্বধলা আসন থেকে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান ও সাবেক ডিআইজি মুহ. আবদুল হাননান খানের নাম এলাকায় সর্বত্র প্রচারনায় রয়েছে। পুর্বধলার খলিশাউড় খানপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল আলী খানের ছেলে তিনি।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে ইংরেজি মাস্টার্স ও একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ এল. এল.বি করেন।
ছাত্র জীবন :
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন কালীন জৈষ্ঠ ভ্রাতা মরহুম আঃ ওয়াদুদ খানের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ। কলেজ জীবনে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলার গুরুদয়াল কলেজে অধ্যায়ন ।

 

হাবিবুর রহমান শিক্ষা কমিশন আন্দোলনে তৎকালীন কিশোরগঞ্জ মহকুমার ছাত্র সংগ্রাম কমিটির সভাপতি হিসেবে এলাকার নেতৃত্ব প্রদান ।
১৯৬১ সালে তৎকালীন স্পীকার ফজলুল কাদের চৌধুরীর জনসভা প্রতিরোধ গরে তোলেন এর ফলশ্রুতিতে কিশোরগঞ্জ থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয় ।

 

বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি ছাত্র কালীন সময়ে তাহার সাথে একই প্লাটফর্মে রাজনীতি করার সৌভাগ্য তার হয়েছিল । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে অধ্যায়নরত অবস্থায় আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন ।

 

১৯৬৪ সালে ডাকসু নির্বাচনে সদস্য নির্বাচিত হন । ঐ বৎসর কার্জন হলে অনুষ্ঠিত কনভোকেশন (যাতে তৎকালীন গভর্নর মোনায়েম খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চ্যান্সেলর হিসেবে প্রধান অতিথি ছিলেন) প্যান্ডেল ভেঙ্গে দেয়া হয় এবং মোনায়েম খানের হাত থেকে সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে সাধারণ ছাত্র- ছাত্রীগণ অস্বীকৃতি জ্ঞ্যাপন করেন । কনভোকেশন ভণ্ডুল হয়ে যায়।

 

তৎ পরবর্তীতে গ্রামের হতে ঈদুল ফিতরের দিন সকাল বেলায় পূর্ব পাকিস্তান জন নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হয়ে ছয় মাস পর মুক্তি পান । ঐ কনভোকেশন মামলায় ছয় মাসের জেল হয় । গন আন্দোলনের মুখে মামলার কার্যক্রম শেষ হয় ।
এ গুনী ব্যক্তি ১৯৬৫ সাল থেকে ব্রাহ্মণ বাড়িয়া কলেজ, মৌলভী বাজার কলেজ, নাসিরাবাদ কলেজ, ময়মনসিংহ ও আশেক মাহমুদ কলেজসহ বিভিন্ন কলেজে ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা করেন।
এছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে ১১ নং সেক্টরের ঢালু সাব সেক্টরে সক্রিয় মুক্তিযুদ্ধা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

স্বাধীনতার পর তিনি আবারো অধ্যাপনায় ফেরত আসেন। নকল বিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন একজন সংগঠক। পরে তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পরপরই মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে মিলিশিয়া বাহিনী গঠনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গঠনের প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ এবং সংসদের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ গুনী শিক্ষাবিদ ১৯৭৩ সালে বিসিএস প্রথম ব্যাচে পুলিশ বিভাগে এএসপি হিসেবে যোগদান কওে সরকারী কর্মজীবন শুরু করেন। ঐ সালে সারদায় প্রথম ব্যাচে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ, পুলিশ সিকিউরিটি সেল, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাংগাইল, নোয়াখালী, বগুড়া, ব্যাটালিয়ান ও সিআইডিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত থেকে কৃতিত্ব ও সফলতা অর্জন করেন।

এদিকে, ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ পান। পলাতক আসামী মেজর(অবঃ) বজলুল হুদাকে ব্যাংকক থেকে আনয়নের জন্য সরকারীভাবে মনোনয়ন।

 

এছাড়াও জেল হত্যা মামলা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলারও তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০০০ সালে ঢাকা রেঞ্জের অতিঃ ডিআইজি হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় চাকুরী শেষে অবসর গ্রহণ করেন।
সরকারী চাকুরী থেকে অবসরের পরপরই আওয়ামীলীগে যোগদান এবং তার নিজ এলাকা পুর্বধায় আওয়ামীলীগকে শক্তিশালী করনে ব্যাপক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন।

 

২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রার্থী হলেও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান তদন্ত তদারকিতে সংশ্লিষ্ট থাকায় বিব্রত বোধের আশঙ্কায় মনোনয়ন দেয়া হয়নি বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তৃণমুলের ভোটে তিনি প্রথম হলেও অজ্ঞাত কারণে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

 

এদিকে ২০০৮ সালে নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ক্ষমতাসীন হলে ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের সিদ্ধান্ত হয়।

 

তদন্ত সংস্থার প্রধান হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম ব্যক্তি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে তদন্ত কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পরে। ২০১১ সালে আইজিপি পদমর্যাদায় তদন্ত সংস্থার প্রধান হিসেবে মুহা. আবদুল হাননান নিয়োগ প্রাপ্ত হন এবং সংস্থার গতি ফিরে আসে।

 

তাঁর নেতৃত্বে সংস্থার সকল তদন্তকারী কর্মকর্তা দিবারাত্রি কঠোর পরিশ্রমের ফলে ইতিমধ্যেই জাতি তার সুফল পেতে শুরু করেছে । এ পর্যন্ত অনেক মামলার রায় ট্রাইবুন্যালে বিচার কার্য সম্পন্ন এবং বেশ কয়েকটি মামলার রায় কার্যকর হয়েছে ।
এছাড়া আরো কতক মামলার বিচারের রায় কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। স্বাধীনতার ৪২ বৎসর পর জাতি কলঙ্কমুক্ত হতে যাচ্ছে । এ প্রচেষ্টায় তাঁর ক্ষুদ্র অংশীদারিত্বে তিনি এবং তাঁর পরিবার অত্যন্ত গর্বিত এ গুনী ও সফল ব্যক্তি দাবী করেন।

 

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, জেল হত্যা মামলা ও বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলার তদন্ত তদারকিতে তিনিই নেতৃত্ব দিতে পেরে তিনি গর্ববোধ করেন।
এ কৃতি শিক্ষাবিদ মানুষটি সরকারী চাকুরীর পাশাপাশি সামাজিক অবস্থানেও পিছিয়ে নেই।

 

তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা শ্যামগঞ্জ হাফেজ জিয়াউর রহমান কলেজ পরিচালনা পরিষদের আজীবন সদস্য। একই উপজেলার শহীদ স্মৃতি হাই স্কুল ও শিমুলকান্দি হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি ।

 

এছাড়া তার পিতামাতার নামে প্রতিষ্ঠিত আলী-রওশন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও আলী-রওশন স্মৃতি পাঠাগার নামে পূর্বধলায় একটি পাঠাগার স্থাপন করেছেন তিনি।
একই সাথে নেত্রকোনা, অর্থনৈতিক ও মানবিক উন্নয়ন সংস্থা(অমাস) এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি। নেত্রকোনা জেলার ইতিহাস নামক গ্রন্থের সম্পাদক ।
ঢাকাস্থ নেত্রকোনা জেলা সমিতির সভাপতি এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতি, ঢাকার নির্বাচিত প্রথম সহ-সভাপতি।
তিনি নেত্রকোনা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন কওে আসছেন।

 

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা এলাকা নিয়ে নেত্রকোনা-৫ আসন। এ আসনটিতে আওয়ামীলীগে বর্তমানে তিনটি গ্র“প প্রকাশ্যে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক(আইজিপি পদমর্যাদা) মুহ. আবদুল হাননান খানের নেতৃত্বে, সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহাম্মদ হোসেনের নেতৃত্বে এবং বর্তমান এম.পি ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের নেতৃত্বে ।
অধ্যাপনা, মুক্তিযুদ্ধকালীন এবং তৎপরবর্তীতে সকল পর্যায়েই সমাজ ও জন হিতকরণ সকল কর্মকান্ডে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করে থাকেন।

 

দলমত, গ্র“পিং নির্বিশেষে এলাকায় তিনি গ্রহণযোগ্য এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির মানুষজন এবং পুর্বধলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পক্ষে আসনটি ধরে রাখার একমাত্র উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি এ গুনী আবদুল হাননান খান।

 

আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মতে, তিন গ্র“পের মধ্যে হাননান খানের নিজস্ব বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। এছাড়া একজন সজ্জন, সদালাপী, জনসেবা মুখি হাননান খানের রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা ।

 

আওয়ামী প্রেমি মবীন প্রবীনরা ইতিমধ্যেই এলাকায় দাবী তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার যেন আগামী নির্বাচনে গুনী কৃতি ও সফল এ আবদুল হাননানকে দলীয় মনোনয়ন দেন। তাহলেই এ আসনটি আবারো নৌকার হবে বলে এরাকাবাসীর বিশ্বাস।

ব্রেকিং নিউজঃ