| |

জামালপুরে ছাত্রদল-ছাত্রলীগ উত্তেজনা, পুলিশ মোতায়েন, গ্রেপ্তার ১

আপডেটঃ 11:28 pm | August 06, 2017

Ad

মোঃ রিয়াজুর রহমান লাভলু: সন্ত্রাসী হামলায় জামালপুর শহর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফাহিম হোসেন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় ছাত্রলীগে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

 

ছাত্রলীগনেতা মো. ফাহিম হোসেন শহরের মধুপুর সড়কের হোটেল তুষার এলাকায় শনিবার রাত দশটার দিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হাতে প্রহৃত হন। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

এ ঘটনার জের ধরে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা রোববার দুপুরে হোটেল তুষার এলাকায় সশস্ত্র মহড়া দেয়। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত শহর ছাত্রদলের যুগ্মআহ্বায়ক পাপ্পু মিয়াকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জানান, জামালপুর শহর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফাহিম হোসেন ও তার বন্ধুরা বজরাপুরের এক বন্ধুর কাছে পাওনা টাকা নিয়ে শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে হোটেল তুষারের নিচতলায় গোপাল মিষ্টান্ন ভান্ডারে মীমাংসার জন্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে মৃদু কথাকাটাকাটি হয়।

 

বৈঠকের শেষের দিকে জামালপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্মআহ্বায়ক মনোয়ারুল ইসলাম কর্নেল সেখানে গিয়ে হৈ চৈ শুরু করে দেন। এক পর্যায়ে মনোয়ারুল ইসলাম কর্নেল ও তার সহযোগীরা ছাত্রলীগনেতা মো. ফাহিম হোসেনের উপর হামলা চালায়।

 

এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা তাকে রাত দশটার দিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

এ দিকে সদর থানা পুলিশ ছাত্রলীগের নেতাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার রাতেই শহরের হোটেল তুষার এলাকায় অভিযান চালিয়ে শ্রমিকদলের সদস্য মনিরুল হক মনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

 

থানা সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগনেতা মো. ফাহিম হোসেনকে নির্যাতনের ঘটনায় তার বাবা সবেদ আলী বাদী হয়ে রোববার সকালে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

 

ওই মামলায় জেলা ছাত্রদলের যুগ্মআহ্বায়ক মনোয়ারুল ইসলাম কর্নেল ও শ্রমিকদলের সদস্য মনিরুল হক মনু মিয়াসহ ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ গ্রেপ্তার মনিরুল হক মনু মিয়াকে রোববার আদালতে সোপর্দ করেছে।

 

এদিকে ছাত্রলীগনেতা ফাহিম হোসেনকে নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা রোববার সকালে শহরে সশস্ত্র মহড়া দেয়। তারা বেলা একটার দিকে শহরের তুষার হোটেল এলাকায় জেলা ছাত্রদলের যুগ্মআহ্বায়ক মনোয়ারুল ইসলাম কর্নেলের বাসায় হামলা চালানোর চেষ্টা করে এবং ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করে।

 

একপর্যায়ে তারা শহর ছাত্রদলের যুগ্মআহ্বায়ক পাপ্পু মিয়ার উপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

এদিকে জামালপুর শহর ছাত্রলীগের সভাপতি নূর হোসেন আবাহনী রোববার রাত আটটার দিকে এ প্রতিবেদককে বলেছেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. ফাহিম হোসেনের এখনও জ্ঞান ফিরেনি।

 

আমরা এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছি। ভবিষ্যতে কেউ আমাদের কোনো নেতা-কর্মীদের গায়ে হাত দিলে সম্মিলিতভাবে তা প্রতিরোধ করবো। হামলাকারী ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

 

তীব্র ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য জামালপুর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম খান সজিবের সাথে রোববার রাতে এ প্রতিবেদকের নম্বর থেকে কয়েকবার ফোন করে ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিমুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনাস্থল হোটেল তুষার এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।

 

ছাত্রলীগনেতাকে নির্যাতনের অভিযোগে তার বাবা সবেদ আলী বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় মনোয়ারুল ইসলাম কর্নেল ও মনিরুল হক মনু মিয়াসহ ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ