| |

ময়মনসিংহে মহাকালী স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থআত্বসাতের অভিযোগ ॥ পদত্যাগের দাবীতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কার্যালয় ঘেরাও

আপডেটঃ 9:14 pm | August 08, 2017

Ad

ইব্রাহিম মুকুট ॥ ময়মনসিংহের মহাকালী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্বসাৎসহ অবৈধভাবে শালিকাকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে পদত্যাগের দাবী অধ্যক্ষের কার্যালয় ঘেরাও করা হয়েছে।

 

গতকাল মঙ্গলবার সকালে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঘন্টাব্যাপী সময় অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। এতে কলেজে চলমান মাসিক পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। পরে কলেজের সভাপতি, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতবৃন্দ এসে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কলেজের ২৮জন শিক্ষক-শিক্ষিকার অভিযোগে জানা গেছে, ২০০২ সালে ক্ষমতাসীন দলের মদদে অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগে যোগ্যতা ছাড়াই তিনি নিয়োগপ্রাপ্ত হন। অযোগ্য হলেও অধ্যক্ষ হিসাবে জিয়া উদ্দিন শাকিরকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি আগেই ফাঁস হয়ে পড়ায় যোগ্যরা কোন আবেদন করেননি।

 

ফলে প্রক্সি প্রার্থীদের সমন্বয়ে দায়সারা নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবে অধ্যক্ষ জিয়া উদ্দিন শাকির মাত্র তিন বছরের মধ্যে অধ্যক্ষ স্কেলে সরকারী ও কলেজের অভ্যন্তরীণ তহবিল থেকে বেতন ভাতা গ্রহণ শুরু করেন।

 

সরকারী নিয়মে ১২ বছরের কম অভিজ্ঞরা এ স্কেল প্রাপ্ত না হলেও তিনি কৌশলে তা প্রাপ্ত হন। নিয়ম বহির্ভুতভাবে এ নয় বছরে তিনি সরকারী কোষাগার থেকে অধ্যক্ষের স্কেলে বেতন গ্রহণ করে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আত্বাসৎ করেছেন।
২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কলেজের উন্নয়নের নামে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, এলজিইডিসহ বিভিন্ন খাত থেকে অনুদান হিসাবে প্রাপ্ত প্রায় ১০ লাখ টাকা কোন ধরণের কাজ না করে আত্বসাৎ করেছেন।

 

এ ব্যাপারে দুদকে অভিযোগ করা হলে দুদকের পক্ষ থেকে কাগজপত্র চাইলে হিসাবের খাতায় কাটাছেড়া করে উপস্থাপন করা হয়। দুদক তদন্তে গড়মিল পেয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি সাবেক এক জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর জাল করে সভায় অনুমোদনসহ ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার হিসাব গড়মিল করা হয়েছে।

 

একই সাথে ঐ সভায় (৬/৬/২০০৬) তারিখে স্কুল, কলেজ, ভোকেশনাল, বিএম ও হোস্টেল খাত থেকে অধ্যক্ষকে সম্মানী হিসাবে ১৫ভাগ অর্থ দেওয়ার অনুমোদন করা হলেও তা কাটাছেড়া করে ৫০ ভাগ তা গ্রহণ করে কয়েক লাখ টাকা আত্বসাৎ করা হয়েছে।

 

একই সাথে হোস্টেলের ২০০৬ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৯,১০,১১,১২ নং রুমের ৪০ শিক্ষার্থীর সীট ভাড়া হিসাবের খাতায় জমা না দিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্বসাৎ করা হয়েছে।

 

সুচতুর এ অধ্যক্ষ কলেজের পতাকা স্ট্যান্ড তৈরী করে দু’দফা ভাউচার দাখিল করে কলেজের তহবিল থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নিজের শালিকা সাদিয়া মঞ্জুরকে কোন ধরণের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আহবান না করে ব্যবস্থাপনা বিভাগে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সহকর্মীরা।
অভিযোগকারী কলেজ শিক্ষকদের একজন তৌফিকুন নুর সাদী বলেন, কলেজ অধ্যক্ষ জিয়া উদ্দিন শাকির এ পর্যন্ত প্রায় ২৫জন শিক্ষক, কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে দুই কোটিরও বেশী টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আদায় করে আত্বসাৎ করেছেন।

 

তিনি আরো বলেন, এ সকল বিষয়ে তারা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। দুদক তদন্ত করছে। ইতিমধ্যেই দুদক হিসাবের খাতায় গড়মিল পেয়েছে।

 

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিবিধ খাতের নাম করে বেআইনীভাবে পৃথক নতুন ও গোপনীয় রশিদমূলে আদায় করা ১০ লাখ ২৪ হাজার টাকা ২০১৫ সালে শিক্ষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুবালী ব্যাংকের কলেজের তহবিলে জমা দিতে বাধ্য হন এ অধ্যক্ষ।
এভাবে কলেজ অধ্যক্ষ অনিয়ম, দুর্নীতি ও কলেজের অর্থ তছরূপ করে তিনি আজ অঢেল টাকার মালিক বনে গেছেন। তিনি নামে বেনামে শহরের টাউন মৌজা, কিসমত, গোহাইলকান্দি, চরঈশ্বরদিয়া ও আকুয়ায় প্রায় এক একর জমি কিনেছেন। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা।
এ সব বিষয়ে অধ্যক্ষ জিয়া উদ্দিন শাকির বলেন, সব ষড়যন্ত্র ও সাজানো এবং মিথ্যা। এ ব্যাপারে কলেজের সভাপতি আব্দুল আউয়াল সেলিম বলেন, দুর্নীতি থাকলে তদন্ত হবে। তবে আমি চাই কলেজটি সুষ্ঠু পরিবেশে এবং শান্তিতে চলুক।

 

এ জন্য জরুরী ভিত্তিতে ৩ দিনের মধ্যে কলেজ পরিচালনা বডির সভা আহবান করা হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তিনি আরো বলেন, কলেজ পরিচালনা বডি ছাড়াও সভায় আগত মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামূল আলম ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ