| |

জামালপুরে রেলওয়ের জমি লিজ দেওয়ার নামে টাকা হাতিনেওয়ার অভিযোগ

আপডেটঃ 9:51 pm | August 13, 2017

Ad

মোঃ রিয়াজুর রহমান লাভলু ॥ জামালপুরে রেলওয়ের বিভিন্ন স্থানে জমি লিজ দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবদুল কাউয়ুম নামের এক সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে।

 

গতকাল শনিবার শহরের কম্পপুর এলাকার লেভেল ক্রসিংয়ের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা এ অভিযোগ করেন। জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও রেলওয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান চলছে।

 

আবদুল কাউয়ুম জামালপুর রেলওয়ের সার্ভেয়ার। তাঁর স্ত্রী রানী বেগম জামালপুর পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর। তাঁর স্ত্রীর নামে জামালপুর শহরের বাইপাস এলাকায় বড় একটি কমিউনিটি সেন্টারও রয়েছে। স্থানীয় লোকজন তাঁকে রেল কাউয়ুম নামেই চেনেন।

 

গতকাল দুপুরে শহরের কম্পপুর লেভেল ক্রসিং এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় জানা যায়, এই এলাকার লেভেল ক্রসিংয়ের দুই পাশে ২৫ থেকে ৩০টি দোকানসহ অবৈধভাবে নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এসব দোকানপাট অবৈধভাবে রেলের জমি দখল করে রেখেছিল। গতকাল এ রকম ২৫টি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

 

এসব দোকানের ক্ষতিগ্রস্ত মালিকেরা অভিযোগ করেন, তাঁদের লিজ এনে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে টাকা নিয়েছেন সার্ভেয়ার কাউয়ুম। টাকা দেওয়ার পর কেবল তাঁরা ওইসব দোকানঘর নির্মাণের অনুমতি পান। এখন তাঁদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

 

মোটরসাইকেল মিস্ত্রী সোহেল মিয়া বলেন, ‘বছর তিনেক আগে সার্ভেয়ার আবদুল কাউয়ুম আমার কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নেন জমির লিজ এনে দেওয়ার কথা বলে। এরপর বিভিন্ন সময় তাঁর কাছে গেলে তিনি (আবদুল কাউয়ুম) বলতেন, সমস্যা নাই।

 

দোকান করো। তাঁর কথায় দোকান দিছি। কিন্তু তিনি লিজের কোনো কাগজপত্র দেননি। এখন সবকিছু ভেঙে দিচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ। এখন কী করে খাবো? আমার মতো আবদুল কাউয়ুম সবার কাছ থেকেই টাকা নিয়েছেন।’ জামালপুর রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী (কার্য) রেজাউল হক বলেন, রেলওয়ের সব লেভেল ক্রসিং এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

 

এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। কম্পপুর এলাকায় ২৫টি দোকানঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। সার্ভেয়ার আবদুল কাউয়ুম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় টিভি চ্যানেলে রানী নামের একটি বিলাসবহুল কমিউনিটি সেন্টারের বিজ্ঞাপন আমরা দেখতে পাই।

 

সেটির মালিক নাকি তিনি (আবদুল কাউয়ুম)। তাঁর বেতনের খোঁজ নিলেই এসব পরিষ্কার হবে। যেখানে অভিযান চালাতে যাই, আবদুল কাউয়ুম গোপনে স্থানীয় লোকজনকে উসকিয়ে দেন। এতে আমার অভিযান বিভিন্ন জায়গায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

 

এদিকে সার্ভিয়ার আবদুল কাউয়ুম বলেন, ‘রেলওয়ের জমি লিজ দেওয়ার নামে আমি কারো কাছ থেকে টাকা নেয় নাই। সব অভিযোগ মিথ্যা। কারো কাছে টাকা নেওয়ার রিসিট আছে কি? কোথাও অভিযানে বাধা সৃষ্টি করি নাই।’

 

কমিউনিটি সেন্টার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ওই সেন্টার আমার স্ত্রীর টাকায় করা। আমার শ্বশুরবাড়ি থেকে ৭০ শতাংশ জমি পেয়েছি। ওইসব টাকায় কমিউনিটি সেন্টারসহ বাড়িঘর নির্মাণ করেছি।’

 

রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের সহকারী ভূ-সম্পত্তি (এস্টেট) কর্মকর্তা অহিদুন নবীর বলেন, ‘ওই সার্ভেয়ারে এসব অনিয়মের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ নাই। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ