| |

জামালপুরে পানি বাড়ছেই, ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ডুবে গেছে ত্রাণবাহী নৌকা

আপডেটঃ 11:42 pm | August 14, 2017

Ad

মোঃ রিয়াজুর রহমান লাভলু ॥ জামালপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতি সোমবার সকাল থেকে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। হুহু করে বাড়ছে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি। বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে সোমবার বিকেলে তিনটার দিকে যমুনার পানি বিপদসীমার ১২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের বন্যায় ১২১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।

 

এবার অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্য সঙ্কটসহ চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের ত্রাণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী উপজেলায় ২ লাখ ৩৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

 

আমাদের ইসলামপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে ইসলামপুর উপজেলা। পাথর্শী ইউনিয়নে সোমবার সকালে ত্রাণ বিতরণের সময় মারাত্মক নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। আমতলী বাজারের কাছে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে ধাক্কা খেয়ে দুই টন চাল বোঝাই নৌকাটি ডুবে যায়।

 

ত্রাণের সাথে পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট বিতরণের সময় এই নৌকাডুবির ঘটনায় ইসলামপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুর রহমান ও নলকূপ মিস্ত্রি রাজিউল ইসলাম মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। ত্রাণের চাল ডুবে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম এহসানুল মামুন।

 

বন্যার পানি হুহু করে বাড়তে থাকায় উপজেলার সাথে আটটি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ইসলামপুর সদরেও পানি উঠেছে। ইসলামপুর পৌর এলাকার খাদ্যগুগাম, ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও ধর্মকুড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ পানিতে তলিয়ে গেছে।

 

সোমবার সকালে চিনাডুলী ইউনিয়নের বলিয়াদহ শিংভাঙ্গা এলাকায় ২০টি পরিবারের বাড়িঘর পানির তোরে ভেসে গেছে। বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার পরিবার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উচুঁ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

 

বন্যা কবলিত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানি ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় জেলায় এ পর্যন্ত ১৬৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্যায় জেলার সাতটি উপজেলার ৫ হাজার ১৮০ হেক্টর জমির আমন বীজতলা,

 

সবজি, শশা ও কলা বাগান তলিয়ে গেছে। এদিকে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর সোমবার ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। জেলা প্রশাসনের ত্রাণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, জেলার বন্যা দুর্গতদের জন্য ৪৮ মেট্টিক টন চাল, নগদ ১ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

ব্রেকিং নিউজঃ