| |

শেরপুরের সীমান্ত অঞ্চলে আদিবাসীদের জীবন-জীবিকা চলে অতি কষ্টে

আপডেটঃ 9:45 pm | August 25, 2017

Ad

মো. আবু রায়হান, শেরপুর ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি: শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আদিবাসীসহ নানা সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করে। এই সমস্ত লোকের আয়ের উৎস শ্রমের বিনিময়ে তাদের জীবন-জীবিকা চলে।

 

বিগত দিনে আদিবাসী সম্প্রদায়েরা তাঁত শিল্প, কুটির শিল্পের মাধ্যমে নানা জাতের পণ্য তৈরী করে বাজারে বিক্রি করাই তাদের আয়ের উৎস ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে এই সমস্ত কুটির শিল্পের সামগ্রী প্লাস্টিকের সাথে তৈরী সামগ্রীর সাথে পাল্লাদিয়ে টিকে থাকতে না পেরে বন্ধ হয়ে যায় এই সমস্ত পরিবেশ বান্ধব আদিবাসীদের তৈরী নানা রকমের বাহারী পন্য বা জিনিসপত্র।

 

অত্রাঞ্চলে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে কোচ, গারো, হাজং, বানাই, হদি, মগ সাওতালসহ মুসলিম সম্প্রদায়ের লোক । পাহাড়ী এলাকায় উঁচু ভূমিতে ধান ও পাট খুব একটা ভাল হয় না। যে কারণে এই উঁচু ভূমিতে শিমুল আলু, জুম, কলা, বাঙ্গি, তরমুজসহ নানা ধরণের ফলদ-ঔষুধী ও জ্বালানী কাঠের বাগান করে থাকে।

 

এ থেকে তেমন মুনাফা না হওয়ায় সীমান্তবাসীর অভাব-অনটন, দুঃখ-দুর্দশাই যেন জেলার আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকদের নিত্যদিনের সাথী। এছাড়াও ভারত থেকে নেমে আসা বন্যহাতির দলের তান্ডবে তাদের ঘর-বাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে থাকে। বাধা দিতে গেলে হাতির পায়ে পৃষ্ঠ হয়ে জীবন দিতে হচ্ছে সীমান্তবাসী।

 

দীর্ঘ ২ যুগ থেকে চলছে এই বন্যহাতির তান্ডব। দীর্ঘদিনের হাতির তান্ডবে প্রাণ হারিয়েছে বহু এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছে অনেকেই। তাদের দু:খ দুর্দশান শুরু আছে শেষ নেই। উল্লেখ্য, এবছর প্রাকৃতিক দূর্যোগে লন্ডভন্ড হয়ে যায় তাদের বসত-বাড়ী। এতে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয় প্রায় শতাধিক পরিবার। এই শতাধিক ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারদের মাঝে দেওয়া হয়েছে ৪১ বান্ডেল ঢেউটিন।

 

অর্থনৈতিক সহযোগীতা না পাওয়ায় এখন পর্যন্ত পরিবাররা বাড়ি-ঘর নির্মাণ করতে পারেন নি। এবছরের ভারী বর্ষণ ও দীর্ঘ বর্ষায় তাদেরকে অতি কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করতে হয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে শ্রম বিক্রি করারও এসমস্ত সীমান্তবাসীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, এসব এলাকায় হতদরিদ্র আদিবাসী নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা কৃষির উপর শ্রম বিক্রি করে যা পায় তাই দিয়ে কোন রকমে পরিবারের সদস্যদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।
এক সময় আদিবাসী সম্পদায়ের লোকেরা পাহাড়ে জুম চাষসহ বিভিন্ন প্রজাতির ধান চাঁষ করতো। কিন্তু পাহাড় উজাড় হওয়ার পাশাপাশি বন্য হাতির তান্ডবে এখানের আদিবাসীদের জুম চাঁষ হারিয়ে গেছে।

 

ধান চাঁষও কমে গেছ। এরা গত ২০ বছর ধরে বন্য হাতির সাথে লড়াই করে কোন রকমে বেঁচে আছে। তাই এসমস্ত সীমান্তবাসীর ভাগ্য উন্নয়নে তাদের কুটির শিল্প ও তাঁত শিল্পগুলিয়ে আবার স্বচল করা হলে তাহলে তাদের কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত হবে। পাশাপাশি মাঝারী ধরণের শিল্প গড়ে তুলা হলে বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত হবে।

 

তাহলে আদিবাসীসহ সীমান্তবাসী দু:খ-দুর্দশা লাঘব হবে। প্রকাশ থাকে যে, কর্মসংস্থানের পথ না থাকায় পাহাড় থেকে লাকরি কেটে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছে এসমস্ত কর্মহীন আদিবাসীরা।

 

সীমান্তের বনাঞ্চলে এখন লাকরি (জ্বালানী কাঠ) সংকট হওয়ায় অনেক সময় লাকরি বিক্রি করার পথ টুকুও খোলা থাকেনা। তখন তাদের জীবন-জীবিকা চলে অতি কষ্টে।

ব্রেকিং নিউজঃ