| |

যে সমস্থ দল ও ব্যাক্তি সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করবে না তাদেরকে ভোটদান থেকে বিরত থাকব আমরা

আপডেটঃ 6:04 pm | September 14, 2017

Ad

ইব্রাহিম মুকুট: ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু সংগঠন সমূহের জাতীয় সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে গতকাল বিকাল ৩ ঘটিকায় সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চা ধর্মীয় জাতিগত সংগঠন সমূহের জাতীয় সমন্বয় কমিটির নির্দেশমোতাবেক ৫ দফা দাবী বাস্তবায়নে

 

সারা বাংলাদেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে ও জেলা পর্যায়ে প্রশাসকের মাধ্যমে স্বারকলিপি প্রদান উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহ বৃহত্তর সংখ্যালঘু মোর্চা ধর্মীয় জাতিগত মোর্চা সংগঠনের উদ্যোগে ফিরোজ জাহাঙ্গির চত্বরে সমাবেশ ও মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

এ উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন সমুহের নেতৃবৃন্দ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। উক্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ জেলা হিন্দু,বৌদ্ধ, খ্রিষ্ট্রান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চার যুগ্ম আহ্বায়ক এড.বিকাশ রায়। সভা পরিচালনা করেন ময়মনসিংহ মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব উত্তম চক্রবর্তী রকেট।

 

সভায় বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চার যুগ্ম আহ্বায়ক প্রদীপ ভৌমিক, হিন্দু মহাজোটের সভাপতি নিপেশ রায়, খ্রিষ্টান এসোসিয়শনের সভাপতি প্রদীপ কুমার শর্মা, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ময়মনসিংহ মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক পবিএ সরকার। প্রদীপ ভৌমিক তার বক্তব্যে বলেন সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

 

যে সমস্ত রাজনৈতিক দল এই কাজটি করতে ব্যার্থ হবে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে করবেনা তাদেরকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভোটদানে বিরত থাকবে। তিনি বলেন বর্ধীত পৌরসভায় ৫৪হাজার সংখ্যালঘূ ভোট এখানে সংখ্যালঘুদের অধিকার যে দল অথবা ব্যাক্তি নিশ্চিত না করবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তাদেরকে ভোট দানে বিরত থাকবে।

 

সভাপতির বক্তব্যে এড. বিকাশ রায় বলেন ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু সংগঠন সমূহের জাতীয় সমন্বয় কমিটি মনে করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ধর্মীয় অধিকার সমূহ বাস্তবায়ন না করলে সংখ্যালঘুরা তাদের ভোটদান থেকে বিরত থাকবে।

 

তিনি ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু সংগঠন সমূহের জাতীয় সমন্বয় কমিটির ৫ দফা দাবী সমূহ তুলে ধরেন। ১। কোন রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে এমন কাউকে মনোনয়ন দেবেন না যারা অতীতে বা বর্তমানে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে সংখ্যালঘু স্বার্থ বিরোধী কোন প্রকার কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ জড়িত ছিলেন বা আছেন।

 

এমন কাউকে নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া হলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী সেসব নির্বাচনী এলাকায় তাদের ভোটদানে বিরত থাকবে বা ভোট বর্জন করবে। ২। যে রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাণের দাবী ঐতিহাসিক ৭ দফার পক্ষে নির্বাচনী অঙ্গীকার ঘোষনা করবে এবং সংখ্যালঘুদের স্বার্থ ও অধিকার নিশ্চিত করনে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করবে।

 

দল বা জোটের প্রতি সংখ্যালঘুদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে। ৩। আদিবাসীদের প্রতি নির্দিষ্ট নিশ্চিতকরণসহ জনসংখ্যা আনুপাতি হারে সংসদে ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘুদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করনে রাজনৈতিক দল ও জোট সমূহকে দায়িত্ব নিতে হবে।

 

৪। নির্বাচনের পূর্বাপর ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় সকল উপসনালয়কে নির্বাচনী কর্মকান্ডে ব্যবহার,

mukut pic 02

নির্বাচনী সভাসমূহে ধর্মীয়বিদ্বেষ মূলক বক্তব্য প্রদান বা কোনরূপ প্রচার নিষিদ্ধ করনের পাশাপাশি তা ভঙ্গের দায়ে সরাসরি প্রার্থীতা বাতিলসহ অন্যূন তাকে এক বছরের কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের বিধান রেখে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী আইনের যুগোপযোগী সংস্কার করতে হবে।

 

৫। নির্বাচনের পূর্বেই সরকারকে সংখ্যালঘু মন্ত্রনালয় ও জাতীয় সংখ্যালঘু গঠন বর্ণ বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন এবং পার্বত্য ভ’মি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের বাস্তবায়নসহ পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে রোডম্যাপ ঘোষনা করতে হবে।

 

সমাবেশ শেষে এক বিশাল মিছিল ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু সংগঠন সমূহের জাতীয় সমন্বয় কমিটির ৫ দফা দাবী সম্মিলিত একটি স্বারকলিপি প্রধানমন্ত্রী বরাবরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রদান করেন।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এড.রাখাল চন্দ্র সরকার , মহানগর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান পরিষদের আহ্বায়ক এড. প্রশান্ত দাস চন্দন, সুমন ঘোষ, যুব হিন্দু ঐক্য পরিষদের অমিত মিশ্র প্রমুখ।

ব্রেকিং নিউজঃ