| |

নান্দাইলে সালিশের নাটকীতায় কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা ॥ প্রেমিকের পলায়ন

আপডেটঃ 12:52 am | September 21, 2017

Ad

নান্দাইল প্রতিনিধিঃ দীর্ঘ দিনের প্রেমের সর্ম্পক অস্বীকার করায় ও সালিশে বিচার না পেয়ে আত্মহত্যা করেছে নান্দাইল আ্যাডভোকেট আব্দুল হাই কলেজের ছাত্রী মোমেনা আক্তার(১৮)।

 

তার বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সিংরুইল ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত চাঁন মিয়া। মেয়েটির পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ অপমান ও প্ররোচনার ফলে মোমেনা আত্মহত্যা করেছে।

 

এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ থানায় সোমবার রাতে একটি মামলা হয়েছে। হরিপুর গ্রামে গিয়ে জানা যায়, মোমেনার সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কিশোরগঞ্জের রশিদাবাদ ইউনিয়নের মাকরাউন্দ গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর ছেলে উজ্জ্বল মিয়ার (২৫) সাথে।

 

মেয়েটির এক স্বজন জানান, গত রোববার সকালে মোমেনাকে মুঠোফোনে ডেকে নেন উজ্জ্বল মিয়া। বোনের বাড়ি যাওয়ার কথা বলে মোমেনা ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের জামতলা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে উজ্জ্বলের সাথে দেখা করে।

 

তাঁদের দুজনের মধ্যে আলাপচারিতায় বাসস্ট্যান্ডের লোকজনের সন্দেহ দেখা দেয়। দুজনকে আলাদা জিজ্ঞেস করলে উজ্জ্বল মেয়েটিকে নিজের ভাবী বলে পরিচয় দেয়। মেয়েটি উজ্জ্বলকে প্রেমিক বলে পরিচয় দেয়।

 

তখন উভয়ের এলাকার জনপ্রতিনিধিদের খবর পাঠানো হয়। তবে দূরত্বের কারণে কলেজছাত্রীর এলাকার লোকজন জামতলা বাসস্ট্যান্ডে সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি।

 

এর আগে রশিদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. মাহফুজ জামতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে মোমেনা ও উজ্জ্বলকে ধরে কিশোরগঞ্জ এলাকার সালামের মোড় বাজারে (রশিদাবাদ) নিয়ে যায়। সেখানে সালিশের মধ্যে উজ্জল সবকিছু অস্বীকার করলে তাকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

 

বাজারের দুইজন ব্যবসায়ী বলেন, মাহফুজ মেম্বার ও তাঁর লোকজন সালিস বসিয়ে ঘটনাটি সমাধান করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। কারণ উজ্জ্বল বা তাঁর পরিবারের কেউ সালিসে আসেনি। নান্দাইলের হরিপুর গ্রামের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, রোববার সন্ধ্যার পর মাহফুজ মেম্বার তাঁকে ডেকে নিয়ে মোমেনাকে বাড়ি নিয়ে যেতে চাপাচাপি করেন।

 

কিন্তু কোনো সমাধান ছাড়া তিনি মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যেতে রাজী হননি। সালিসে থাকা বেশ কয়েকজন জানান, মেম্বার ছেলেটিকে চলে যেতে সুযোগ করে দিয়ে সবকিছু মেয়ের ওপর চাপাতে চেয়েছিল।

 

এই অবস্থায় মেয়েটিকে নিয়ে যেতে তার পরিবারকে বারবার বলেও কোনো কাজ না হওয়ায় উত্তেজিত হয়ে বলেন, এখন তো নিলেন না কাল উলঙ্গ করে সড়কে ছেড়ে দেওয়া হবে। পড়ে তো নিবেন।

 

এই কথা শোনে মেয়ে অপমানে তখনি একটি বসত ঘরে মাথা ঠুকিয়ে ছিল। তখন তার মায়ের হস্তক্ষেপে কিছু হয়নি। এদিকে সালিসের আগেই কৌশলে উজ্জ্বলকে পালানোর সুযোগ করে দেন মাহফুজ মেম্বার।

 

পরে মোমেনাকে তাঁর পরিচিত ব্রাহ্মণ কচুরী গ্রামের আবুল হাসেমের বাড়িতে রাখেন। ওই গ্রামে গিয়ে জানতে চাইলে আবুল হাসেম(৭০) জানান, মাহফুজ মেম্বার মেয়েকে তাঁর বাড়িতে রাখার জন্যে নির্দেশ দেন।

 

তিনি রাখতে না চাইলে হুমকী দেওয়া হয়। এই অবস্থায় এক রকম বাধ্য হয়েই মেয়েটির মা ও ভগ্নিপতিকে বাড়িতে জায়গা দেওয়া হয়। এই অবস্থায় রাত ১২ টার দিকে সকলের অগোচরে মেয়েটি বাড়ি পিছনে একটি মেহগুনি গাছে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

 

এ বিষয়ে রশিদাবাদ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাহফুজুর রহমান মাহফুজ জানান, যেহেতু ছেলেটি মেয়েটির সাথে সকল সর্ম্পক অস্বীকার করেছিল সেই জন্য ছেলেটিকে ছেড়ে দিয়ে পরদিন সোমবার সন্ধ্যায় আবার সালিস বসিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কথা ছিল। এর মধ্যে ঘটনাটি ঘটে গেল।

 

ঘটনা জানতে অভিযুক্ত উজ্জলের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার মা অনুফা খাতুন বলেন, ছেলের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি আগে কিছুই জানতেন না।

 

এখন জেনে খারাপ লাগছে। তিনি বলেন,সালিসের মধ্যে মেম্বার যদি আমাকে জানাতেন তবে মেয়েটিকে ঘরে উঠিয়ে নিতাম। এই কাজে মেম্বারের অবহেলা আছে।

 

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি খোন্দকার শওকত জাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মেয়েটির লাশ উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে আত্মহত্যার প্ররোচনার একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ