| |

ময়মনসিংহ মহানগর ও জেলা আওয়ামীলীগে প্রদীপ ভৌমিক ও অধ্যাপক গোলাম সরওয়ারের স্থান না হওয়ায় অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান এর প্রতিক্রিয়া

আপডেটঃ 12:15 am | September 28, 2017

Ad

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পবিত্র হজ্জ পালন শেষে আলহাজ্ব অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান প্রথম দিন নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিক, রাজনৈতিক সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব ও অফিস সহযোগিদের সাথে মতবিনিময় ও তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা করেন।

 

এক সময়ের ডাকসু‘র সাবেক সদস্য অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান কথা প্রসঙ্গে বলেন, ‘৭৫ পরবর্তী সময়ে ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের ময়মনসিংহ আহবায়ক কমিটিতে যুগ্ন আহবায়ক হিসাবে কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক তিনি নির্বাচিত হন। আহবায়ক নির্বাচিত হন বর্তমান মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব এহতেশামুল আলম।

 

সেই আহবায়ক কমিটিতে যে সমস্থ সাহসী ও ত্যাগী সাংগঠনিক নেতা অন্তভুক্ত হয়ে ছিল তাদের ভিতর সাবেক জেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি শ্রী প্রদীপ ভৌমিক ও সাবেক জেলা যুবলীগ সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক গোলাম সরওয়ার ছিলেন অন্যতম। বিভিন্ন আলাপচারিতার মাঝে অশ্রে“াসজল চোখে তিনি বলেন,

 

ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামীলীগ ও জেলা আওয়ামীলীগে দলীয় দু:সময়ের ত্যাগী ও সাহসী দুই জন নেতার নাম কোন কমিটিতেই দেখতে না পেরে আমি মর্মাহত হয়েছি। যুবলীগ ও আওয়ামীলীগে যাদের নাম চিরদিন স্মরনীয় হয়ে থাকবে তাদের মধ্যে একজন প্রদীপ ভৌমিক অন্যজন অধ্যাপক গোলাম সরওয়ার।

 

১৯৭০ সাল থেকে ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন প্রদীপ ভৌমিক। তারপর থেকে অদ্যাবধি দলের যে কোন কর্মসুচীতে তার উপস্থিতি ছিল অত্যাবশ্যকীয়।

 

আমি হজ্জে যাওয়ার পুর্বদিন পর্যন্ত মহানগর আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব এহতেশামুল আলমের সাথে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন স্মরন সভায় ও শোকসভায় প্রত্যক্ষ ভাবে আলোচনা সভায় অংশ গ্রহন করেন প্রদীপ ভৌমিক।

 

জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের প্রচার পত্র বিভিন্ন ওয়ার্ড ও রাজপথে জনগনের মাঝে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে বিতরন কাজে অংশ গ্রহন করেন।

 

ময়মনসিংহের রাজনীতিতে ‘৭৫ পরবর্তী সময়ে যখন আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগ দ্বিধাবিভক্ত সেই সময়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগ আমাকে যুগ্ন আহবায়ক ও এহতেশামুল আলমকে আহবায়ক করে কমিটি গঠনের পর অধ্যাপক গোলাম সরওয়ার ও প্রদীপ ভৌমিক সহ অনেককেই সদস্য হিসাবে অন্তভুক্ত করা হয়।

 

সত্যকথা বলতে কি সেই সময়কার সরকার বিরোধী যে কোন আন্দোলনে প্রদীপ ভৌমিকরা অগ্রনী ভুমিকা পালন করত। মৃত্যুভয়কে অপেক্ষা করে রাজপথে থেকে লড়াই সংগ্রাম করে গেছে যারা তাদের মধ্যে অধ্যাপক গোলাম সরওয়ার ও প্রদীপ ভৌমিক অন্যতম। প্রদীপ ভৌমিক ছিল আমার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম সার্বক্ষনিক সহযোগী।

 

প্রিয় ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে একজন। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত দলীয় সাংগঠনিক কাজ করে যেতাম একসাথে। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল দলকে সাংগঠনিক ভাবে সুদৃঢ করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করা।

 

দলের জন্য অর্থ থেকে শুরু করে ব্যাক্তি জীবনের অনেক কিছুই ত্যাগ করেছে আমার এই রাজনৈতিক সহকর্মীটি। আমি যখন সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হই প্রদীপ ভৌমিকের অবদান ছিল তখন অপরিসীম।

 

তার রাজনৈতিক সাংগঠনিক ক্ষমতা প্রজ্ঞা ও অবদানের জন্য আমি তাকে সিনিয়র সহ সভাপতি হিসাবে আমি তাকে আমার কমিটিতে নির্বাচিত করি।

 

শুধু তাই নয় প্রথম বার যখন যুবলীগের জেলা সম্মেলনে আজকের মহানগর সভাপতি জেলা যুবলীগের সভাপতি হিসাবে আমার সাথে প্রতিদন্দিতা করতে চেয়ে ছিল তখন এই প্রদীপ ভৌমিকরা আমাকে আমার সিদ্বান্ত পরিবর্তন করে এহতেশামুল আলমকে একক সভাপতি প্রার্থী হিসাবে মনোনীত করে এবং আমি সাধারন সম্পাদক হিসাবে প্রতিদন্দিতা করে নির্বাচিত হই।

 

জীবনের অনেক দু:সময় সুসময়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের এমন একজন বন্ধু যখন কোন রাজনৈতিক কমিটিতে জায়গা পায়না তখন ভিষন কষ্ট হয়।

 

প্রশ্ন জাগে অধ্যাপক গোলাম সরওয়ার ও প্রদীপ ভৌমিকদের কি রাজনৈতিক যোগ্যতার অভাব আছে। যাই হোক জননেত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় আওয়ামীলীগ করার সুবাধে আমরা হয়ত অনেকেই অনেক কিছু পেয়েছি কিন্ত আমাদের এই বন্ধুদের প্রাপ্তি আজ শুন্য।

 

আমি শুধু বলব প্রদীপ ভৌমিক ও অধ্যাপক গোলাম সরওয়ার তোমরা অপেক্ষা করো এমন একদিন আসবে যে দিন তোমাদের পাশে আমরা থাকব অতীতের বন্ধুর মত। তোমাদের এই না পাওয়ার বেদনা আমারও হৃদয়ের বেদনা।

 

বেদনা লাঘবের জন্য চল আমরা সম্মিলিত ভাবে চেষ্টা করি। সেই সাথে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সভানেত্রীর কাছে অনুরোধ করব উল্লেখিত ত্যাগী নেতাদেরকে যেন স্থান করে দেয়া হয় প্রস্তাবিত জেলা ও মহানগর কমিটিতে।

ব্রেকিং নিউজঃ