| |

জামালপুরের মেলান্দহে গর্ভের শিশু হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

আপডেটঃ 2:30 am | October 03, 2017

Ad

মোঃ রিয়াজুর রহমান লাভলু ॥ জামালপুরের মেলান্দহে গর্ভের শিশু হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে সোমবার জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখে এলাকাবাসি। তারা শিশু হত্যাকারী আশরাফ, আসাদ, হাকিমসহ সকল আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

পরে মেলান্দহ থানা পুলিশ আসামীদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তোলে নেন বিক্ষোভকারীরা। উল্লেখ্য, একটি মামলার স্বাক্ষী দেয়াকে কেন্দ্র করে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সুজন (৩৫) নামের এক যুবককে মালঞ্চ কাচারীপাড়া গ্রামে প্রকাশ্যে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এর আগে সুজন আত্মরক্ষার জন্য দৌড়ে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীরের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

 

এতে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীরের অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রী সুমির (২৫) পেটে লাথি মারে। এতে সুমি গুরুতর আহত হয়। এলাকাবাসি আহত সুমিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর সে মৃত সন্তান প্রসব করে। এ ঘটনায় মেলান্দহ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। যার নং ৪৩, তারিখ- ৩০.০৯.২০১৭।

 

পুলিশ এখন পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এলাকাবাসি জানায়, পুলিশ খুনীদের গ্রেপ্তার না করায় তারা আন্দোলনের পথকে বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামী গ্রেপ্তার না করা হলে বৃহত্তর কর্মসূচ্রি ঘোষণা দেন তারা।

 

ঘন্টাব্যাপী অবরোধ কর্মসূটিতে এলাকাবাসির পক্ষে বক্তব্য রাখেন সুরুজ্জামান, আ: রশিদ, শাহজাহান, আবু সাইদ, শফিকুল ইসলাম, মুকুল শেখ, জহুরা বেগম, কল্পনা আক্তার, শিরিন আক্তার, মরিয়ম, জো¯œা প্রমুখ।

 

এ ব্যাপারে মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ মাজহারুল করিম জানান-আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মেলান্দহ উপজেলার মালঞ্চ কাচারীপাড়া গ্রামে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুজন (৩৫) ও প্রতিবেশি জাহাঙ্গীরের পাঁচমাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সুমি (২৫) কে খুঁটির সাথে হাত-পা বেধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

জানাযায়, ২৭সে সেপ্টেম্বর বিকেলে প্রকাশে দিবালকে মালঞ্চ বাজারের শত শত লোকের সামনে তাদেরকে শারিরীকভাবে নির্যাতন করা হলেও তাতে কোন মানুষ প্রতিবাদ করেনি। এখানেই শেষ নয় অন্তঃসত্ত্বা সুমিকে পিটিয়ে আহত ও গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছে বলেও জানা যায়।

 

মেলান্দহ থানার পুুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নির্যাতনকারীদের হাত থেকে নির্যাতিতদের উদ্ধার করে দ্রুত মেলান্দহ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সুজন ও গৃহবধু সুমি জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় আছেন। এলাকাবাসী জানান, মালঞ্চ কাচারীপাড়ার আশরাফ আলীর ছেলে স্বপন বিয়ে করে একই গ্রামের হবির মেয়ে হনুফাকে।

 

১০ বছর সংসার জীবনে তাদের ঘরে এক সন্তান জন্ম নিলেও দুই পরিবারের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল এবং এর জের ধরে আশরাফ গং এবং হবির স্ত্রী শান্তি বেগমের মধ্যে মামলা চলতেছিল। আশরাফ আলী গংরা জেল হাজত থেকে আসার ৩দিন পর শান্তি বেগমের স্বাক্ষী সুজনের মনোহারী দোকানে হামলা চালায় বলে জানা যায়।

 

প্রতিবেশীরা বাধা দিতে গেলে শফিকুল (৪০), সাথী (১৬), কল্পনা (২৮), ময়না (২০)সহ আহত হন। অবস্থার বেঘতিক বুঝতে পেরে সুজন আত্মরক্ষার জন্য দৌড়ে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীরের ঘরে পালায়। আশ্রয় দেয়ার অপরাধে জাহাঙ্গীরের আন্তঃসত্তা স্ত্রী সুমিকে পেটে লাথি দিয়ে আহত করে ও সুজনকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে মালঞ্চ বাজারে নিয়ে যায়।

 

সেখানে শত শত মানুষের সামনে সুজনের হাত-পা বেধে ভ্যান গাড়ীতে তুলে গলাটিপে এবং রশি দিয়ে বেধে হত্যার চেষ্ঠা করে। এ দৃশ্য শত শত লোক দেখলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। আহত সুজন বলেন, নির্যাতনকালে পানি খেতে চাইলে হাকিম (৩২) নামে এক যুবক আমার মুখের উপর প্র¯্রাব ও থুথু দেয়। আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি।

 

ভিডিও ফোটেজে দেখা যায়, মালঞ্চ বাজারের কাঠ ব্যাবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলাম (৩৬) সহায়তার জন্য এগিয়ে আসলে নির্যাতনকারীরা তাকে হুমকি দেয়। খবর পেয়ে মেলান্দহ থানার পুলিশের সহায়তায় সুজন এবং আহত গর্ভবর্তী সুমিসহ আন্যান্য আহতদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

হাসপাতালে ওই অন্তঃসত্তা সুমির মৃত সন্তান প্রসব হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের শফিকুল আলম (শাহাব উদ্দিন) এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করলেও সে ফোন ধরে না। ইউপি মেম্বার জাকিরুল ইসলাম বাবর আলীর সাথে কথা বললে, তিনি বলেন কিছুক্ষণ আগে চেয়ারম্যান বাজারে ছিলেন।

 

এ ব্যাপারে মেলান্দহ থানার ওসি মাজহারুল কবির বলেন, আমরা আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের আওতায় আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে মেলান্দহ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যাহার মামলা নং- ৪৪, তারিখ-৩০/০৯/২০১৭।

ব্রেকিং নিউজঃ