| |

গৌরীপুরে খুঁটির সাথে বেঁধে সাগর হত্যাকান্ডের মূলহোতা কাউয়ুম গ্রেফতার

আপডেটঃ 11:09 pm | October 04, 2017

Ad

ইব্রাহিম মুকুট ॥ ময়মনসিংহের গৌরীপুরে চুরির অভিযোগে খঁটির সাথে বেধে পিটিয়ে সাগর হত্যাকান্ডের মূলহোতা দুর্ধর্ষ কাউয়ুমকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বুধবার রাতে জেলা সদরের দুর্গম এলাকা চরঈশ্বরদিয়া থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

 

এ নিয়ে সাগর হত্যাকান্ডে চারজন গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। পুলিশ সুপার জানান, গত ২৫ সেপ্টেম্বর গৌরীপুরের চরশ্রীরামপুর গ্রামে গাউছিয়া মৎস্য খামারের মালিক আক্কাস আলীর নেতৃত্বে বৈদ্যুতিক মটর চুরির অভিযোগে খুঁটির সাথে বেধে নির্মম ও অমানসকিভাবে পিটিয়ে সাগর নামের এক টুকাইকে হত্যা করে। চক্রটি সাগরের লাশ গুম করতে পার্শ্ববর্তী কাশবনে ফেলে রাখে।

 

এদিকে লোমহর্ষক ও হৃদয় বিদারক সাগর হত্যাকান্ড ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, ফেইসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে। পুলিশ েেহডকোয়ার্টার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে মনিটরিং শুরু করে বলে পুলিশ জানানয়। পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ডিবি ও গৌরীপুর পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে পরদিন নিহত সাগরের লাশ কাশবন থেকে উদ্ধার করে।

 

লোমহর্ষক, মর্মস্পর্শী ববর্ােরোচিত হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা নং ২৯ তাং ২৬/০৯/১৭ দায়ের করে। পুলিশ এ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রিয়াজ উদ্দিন খাকে গ্রেফতার করে।

 

রিয়াজ উদ্দিন হত্যাকান্ডের দায় স্বিকার ও ঘটনার সাথে জড়িতদের নাম প্রকাশ করে আদালতে স্বিাকরোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। রিয়াজের স্বিকারোক্তি মোতাবেক ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামী ফজলুর রহমান ফজলুকে গ্রেফতার করে।

 

ফজলু আদালতে স্বিকারোক্তি প্রদান করে জবানবন্দি দেয়। এদিকে গাউছিয়া মৎস্য খামারের মালিক ও পরিকল্পনাকারী আক্কাসকে র‌্যাব ময়মনসিংহ ভৈরব থেকে আটক করে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ডিবি পুলিশ আক্কাসকে ৫দিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

22141024_1568024059957639_3185862915963260854_n

পুলিশ হেড কোয়ার্টারের সার্বিক সহায়তায় বুধবার ডিবি পুলিশের এলআইসি বিভাগের সহায়তা ওসি আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে জেলা সদরের দুর্গম এলাকা চর ঈশ্বরিদয়া থেকে ঘটনার মূলহোতা নির্মম ও অমানসিকভাবে নির্যাতনকারী গাউছিয়া মৎস্য খামারের সহকারী ম্যানেজার আঃ কাইয়ুমকে গ্রেফতার করে।

 

পুলিশ সুপার আরো জানান, দুর্ধর্ষ কাউয়ুমকে গ্রেফতারের অভিযান আচ করতে সে প্রথমে টিনের বেড়া কেটে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্ঠা করে। পরে দৌড়িয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

তিনি আরো জানান, নির্মম ও আলোচিত এ হত্যাকান্ডে চারজনকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে মানুষের হৃদয়ে মধ্যে হৃদয়ের জমাট বাধা কষ্ট আর মেঘ জমানো ছিল তা দুর হলো। মামলাটি এখন চার্জসীট পর্যায়ে রয়েছে।

 

দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে এ মামলায় যাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় তার দিকেই পুলিশ এগিয়ে যাচ্ছে। যা দেখে এ দেশে এ ধরণের নির্মমতা অমানবিক হত্যাকান্ড আর চালাতে না পারে তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।

ব্রেকিং নিউজঃ