| |

ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও পরিকল্পিত নগরী গড়ার স্বপ্ন বাস্তবয়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ইকরামুল হক টিটু

আপডেটঃ 11:16 pm | October 04, 2017

Ad

মো: নাজমুল হুদা মানিক ॥ শিক্ষা ও সংস্কৃতির নগরী ময়মনসিংহকে তিলোত্তম হিসাবে গড়ে তুলতে দিনরাত অক্লান্ত কাজ করে যাচ্ছেন ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটু। নগরীকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে তিনি শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে দৃষ্টিনন্দর ও ইতিহাস ঐতিহ্যমন্ডিত স্থাপনা তৈরী করেছেন।

 

নগরীর জলাবদ্ধতা দুরীকরনে নিয়েছেন মহাপরিকল্পনা। পরিকল্পনা গত কারনে জলাবদ্ধতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হলেও এটি সাময়িক সমস্যা বলে মনে করেন অনেকেই। সঠিক পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে হয়ত অনেক সময় নগরীতে কোন কোন জায়গায় পানি জমে। তবে তড়িৎ গতিতে আবার পানি নেমেও যায়।

 

পুর্বের মত নগরবাসীকে এখন আর দুই থেকে তিনদিন পানির নিচে থাকতে হয় না। চলতি বর্ষায় বৃষ্টিার মহোৎসব আর ভারী বর্ষণে খোদ রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম কিংবা পুণ্যভূমি সিলেট যেখানে পানির নিচে তলিয়েছে সেখানে ব্যতিক্রম এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শিক্ষা, সংস্কৃতির ময়মনসিংহ নগরী।

 

জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘ মেয়াদী ও সমন্বিত পরিকল্পনার ফলে এবারের বর্ষায় আর পানির নিচে তলিয়ে যায়নি ময়মনসিংহ নগরী। সঠিক পরিকল্পনা আর সময়োপযোগী নানা পদক্ষেপ মুক্তিও মিলেছে জলাবদ্ধতা নামক এমন নরক যন্ত্রণা থেকে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ময়মনসিংহ উপস্থাপিত হচ্ছে অনন্য এক মডেল হিসেবে।

 

আর এমন সাফল্যের পেছনে রয়েছেন ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামীলীগ নেতা মো: ইকরামুল হক টিটু’র কার্যকর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। সূত্র জানায়, ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রাচীনতম ময়মনসিংহ পৌরসভায় ছিল না পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। কোন কোন সড়কে এ ব্যবস্থা আবার ভেঙে পড়েছিল একেবারেই। ফলে বৃষ্টির পানি জমে থাকতো বিভিন্ন এলাকায়।

 

কোন কোন সড়কে আবার জমে যেতো হাঁটু থেকে কোমর পানি। নিদারুণ বিপাকে পড়তে হতো পথচারীদের। যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হতো চরম বিঘœ। ভোগান্তি থেকে রেহাই ছিল না ছিন্নমূল, শ্রমজীবি কিংবা অফিসগামীদের। নব্বইয়ের দশক থেকেই ছিল এ বেহাল অবস্থা। কিন্তু এসব চিত্র বর্তমানে একেবারেই পুরনো। ময়মনসিংহ নগরীর বাসিন্দারা বলছেন, নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে সফল হয়েছে ময়মনসিংহ পৌর কর্তৃপক্ষ। তাদের পরিকল্পিত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তে জলাবদ্ধতা সমস্যা আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি।

 

শ্রাবণের ভারিধারায় দেশের রাজধানী বা বন্দরনগরীও যখন পানির নিচে তলিয়েছে। তখন ময়মনসিংহ এক ভিন্ন রূপে নিজেকে উপস্থাপন করেছে। মেয়রের এমন চমক আমাদের আন্দোলিত করেছে। তার নেতৃত্বেই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান দিতেই ময়মনসিংহ পৌরসভার গৃহীত কর্মপরিকল্পনা সফলতার মুখ দেখেছে।

 

বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি দেশের কোন সিটি কর্পোরেশনের বাইরে প্রথমবারের মতো জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য নগরীতে আন্ডার গ্রাউন্ড ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনার বদৌলতে হাতেনাতে মিলেছে সুফল।

 

জানা যায়, সেই নব্বই দশক থেকেই ময়মনসিংহ পৌরসভায় এক মেয়র গেছেন, তো আরেক মেয়র এসেছেন। জলাবদ্ধতা দূরীকরণে দীর্ঘ সময় শুধু জুটেছে আশ্বাস আর প্রতিশ্র“তি। কিন্তু নগরবাসীর বার বার হতাশার বৃত্তেই ঘুরপাক খেয়েছেন।

 

জলাবদ্ধমুক্ত নগরীর আশা পূরণ হয়নি। অর্থ বরাদ্দ মিললেও সঠিক পরিকল্পনা আর উদ্যোগের অভাব ছিল স্পষ্ট। নগরীর এমনও অনেক জায়গা ছিল যেখানে সড়ক থাকলেও ছিল না পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা। আবার কোথাও কোথাও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলেও সড়ক থেকে পানি যে নালায় গিয়ে পড়বে, ছিল না তেমন সংযোগ। এ অবস্থায় কাটছিল নগরবাসীর দিনকাল।

 

সেই থেকেই জলাবদ্ধতা হয়ে উঠেছিল নগরবাসীর এক নম্বর সমস্যা। কিন্তু ময়মনসিংহ পৌরসভার বর্তমান মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটু নগরবাসীকে পরিচিত সেই খোলস থেকে বের করে আনার উদ্যোগ নেন। প্রথমেই নজর দেন নগরীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া ছোট বড় খালের দিকে। সেগুলোর পানিপ্রবাহের ক্ষমতা একেবারে শূন্যের কোটায় নেমে এসেছিল।

 

এসব খাল পরিস্কারে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নামিয়ে দেন। ফলে খাল থেকে আবর্জনা তুলে আর পাড়ে পড়ে থাকেনি। সেগুলোও দ্রুত অপসারণ করেছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। একই সঙ্গে ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনা সাজিয়ে সেগুলো বাস্তবায়নেরও উদ্যোগ নেন। নগরীতে নির্মাণ করা হয় নতুন নতুন ড্রেন।

 

যেসব ড্রেনের মাধ্যমে ভারী বৃষ্টি হলেও দ্রুতই পানি নেমে যাচ্ছে। সূত্র জানায়, মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটু’র হাত ধরেই ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের মডেল ময়মনসিংহ। নগরীর প্রধান সড়কের দুই পাশের ড্রেনগুলোর উন্নয়নসহ সড়কের নিচে ১৫ টি বৃহৎ পাইপ ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।

 

এছাড়া সড়কের নিচে ৭০ কিলোমিটার পাইপ ড্রেন ও আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এর সুফল ভোগ করছেন লাখ লাখ পৌরবাসিন্দা। একই সঙ্গে নাগরিক সেবাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ