| |

ঈশ্বরগঞ্জে ইউপি সদস্যকে মারধরের অভিযোগ

আপডেটঃ 9:07 pm | October 07, 2017

Ad

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে (মেম্বার) মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ছুটিতে আসা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে। আহত অবস্থায় ইউপি সদস্যকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শামছুল হক। তার বাড়ি দেবস্থান গ্রামে। গত শুক্রবার দুপুরে প্রতিবেশী আবদুস সামাদের বাড়ি থেকে মেম্বারের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে বাড়ি থেকে আখ চুরি করার অভিযোগ তোলা হয়।

 

আবদুস সামাদের ভাতিজা রুবেল মিয়া মেম্বারের মুঠোফোনে বিষয়টি জানিয়ে বিচার চান। কিন্তু এতেই ক্ষ্যন্ত না থেকে রুবেল ও তার ভাই রাসেল মিয়া মেম্বারের ছোট ভাইকে রাকিবুলকে মারধর করে।

 

মারধর করার কারণ জানতে গেলে মেম্বার শামছুল হককেও পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে মেম্বার ও তার ভাইকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় শুক্রবার রাতে ইউপি সদস্য শামছুল হকের বাবা সিরাজুল হক বাদী হয়ে রাসেল মিয়া, তার ভাই রুবেল মিয়াসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৩ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাটভুলসোমা গ্রামের ইদ্রিছ আলীর ছেলে রাসেল মিয়া। গত প্রায় ৬ বছর আগে পুলিশ বিভাগে কনস্টেবল পদে চাকুরি পান। বর্তমানে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রয়েছেন। গত বুধবার ৫ দিনের ছুটিতে বাড়িতে বেড়াতে আসেন রাসেল।

 

রাসেল তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ইউপি সদস্যকে বেধরক পিটুনি দেওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষোভ জানিয়েছেন। পুলিশ বিভাগে চাকুরি করার সুবাদে ছুটিতে এসে এলাকায় পুলিশি ক্ষমতার জোরে মানুষকে নানা ভাবে হয়রানি করারও অভিযোগ করেন অনেকে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ইউপি সদস্য শামছুল হক বলেন, তার ভাই সামাদের বাড়ি থেকে আখ চুরি করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। সে জন্য তার ভাইকে তিনি শাসনও করেন। কিন্তু তার ভাই অভিযোগ স্বীকার করেনি।

 

মিথ্যা অভিযোগ করার কারণ জানতে তার ভাই রাকিবুল সামাদের বাড়িতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে তিনি নিজেও সেখানে যান। ওই সময় ছুটিতে আসা পুলিশ সদস্য রাসেল তার ওপর চড়াও হয়। পুলিশি ক্ষমতার জোরে তাকে পেটাতে শুরু করে। তিনি এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
তবে পুলিশ সদস্য রাসেল মিয়া জানান, মেম্বারের ভাই রাকিবুল তার চাচা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি থেকে নাড়িকেল ও আখ চুরি করে নিয়ে যায়। এর বিচার চাইলে মেম্বার বিষয়টি কর্নপাত করেনি। পরে তার ভাইয়ের সাথে হাতাহাতি হয়েছে। তিনি মেম্বারকে মারধর করেনি। বরং ভাইকে শাসন করেছেন।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার এসআই জুলহাস উদ্দিন ভুঁইয়া জানান, অভিযোগ পেয়ে শনিবার ঘটনাটি তদন্তের জন্য এলাকায় যান। তিনি ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। ঘটনার সাথে ছুটিতে থাকা পুলিশ সদস্য রাসেল মিয়ারও সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানিয়েছেন।##

মো. আব্দুল আউয়াল

ব্রেকিং নিউজঃ