| |

প্রস্তাবিত ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামীলীগের বর্তমান কমিটিতে নেতাদের নামের পিছনে সাবেক মিথ্যা পদের ছড়াছড়ি

আপডেটঃ 11:33 am | October 08, 2017

Ad

স্পষ্টভাষী ॥ ২০১৭ -২০১৯ সালের জন্য বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি বরাবর ময়মনসিংহ মহানগরের প্রস্তাবিত কমিটি জমা দিয়েছে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব এহতেশামুল আলম ও সাধারন সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত।

 

প্রসঙ্গত উল্লেখ থাকে যে, গত ময়মনসিংহ শহর কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম তারা‘র সাথে সাধারন সম্পাদক এডভোকেট সাদেক খান মিল্কী‘র সভাপতির সাথে বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটি গঠন করার সময় অনিয়ম ও একনায়কতন্ত্রিক মনোভাবের কারনে বিরোধ সৃষ্টি হলে শহর সম্মেলন করা অসম্ভব হয়ে পরায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি শহর কমিটি বাতিল করে এবং বিনা কাউন্সিলে কেন্দ্র থেকে এহতেশামুল আলমকে সভাপতি ও মোহিত উর রহমান শান্তকে মনোনীত করেন।

 

তারপর প্রায় ১১মাস পর গত ৭/৯/১৭ ইং তারিখে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ বরাবর একটি প্রস্তাবিত ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামীলীগ কমিটি জমাদেন বর্তমান সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক।

 

ময়মনসিংহের রাজনীতির ইতিহাসে কোন কমিটি কেন্দ্র অথবা যে কোন স্তরে জমা দেয়ার সময় কমিটিতে স্থান পাওয়া সদস্যদের নামের পরে তাদের পুর্ববর্তী রাজনৈতিক কর্মকান্ডের বিবরন বর্তমান প্রস্তাবিত মহানগর কমিটি ছাড়া আর কোন দিন দেওয়া হয় নাই।

 

ময়মনসিংহের আওয়ামীলীগের ইতিহাসে এটি একটি নতুনধারা। এই নতুন ধারাটিকে আমরা অভিনন্দন জানাতে পারতাম যদি তাতে সত্য ও বাস্তব ঘটনার প্রতিফলন থাকত। এই কমিটিতে সহ সভাপতি হিসাবে সৈয়দা নাজমা ইসলামের নামের পরে লেখা হয়েছে বিশিষ্ট কলামিস্ট ও শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্রবধূ।

 

কোন রাজনৈতিক নেতা বা কর্মীর রাজনৈতিক কর্মকান্ড কিংবা দলের জন্য ত্যাগ না থাকে তাহলে সে কোন নেতার পুত্রবধু হলেই রাজনৈতিক নেত্রী হওয়ার যোগ্যতা রাখেনা। তাকে অবশ্বই স্থানীয় ভাবে প্রত্যক্ষ ভাবে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহন করতে হবে।

 

কোন রাজনৈতিক নেতার যদি রাজনৈতিক ভাবে প্রত্যক্ষ কর্মকান্ড না থাকে সে যত বড় নেতারই পুত্রবধু হউকনা কেন রাজনৈতিক নেতা হওয়ার যোগ্যতা তার থাকতে পারেনা।

 

যদি তাই হত তবে পৃথিবীর সমস্থ বরেন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের পুত্রবধুরা ও আতœীয়রা রাজনৈতিক নেত্রী হয়ে যেত। উক্ত প্রস্তাবিত নতুন কমিটিতে অনেকের নামের সাথে এমন সব পদ যুক্ত করা হয়েছে যারা কোন দিনও সেই সমস্থ পদের সাথে যুক্ত ছিলনা। যার মধ্যে মীর শহিদ একজন। যার নামের পেছনে শহর আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য উল্লেখ করা হয়েছে।

 

কিন্তু বাস্তবে এটি একটি মিথ্যা কথা। সে কোন দিনই শহর আওয়ামীলীগের সদস্য ছিলনা। যার প্রমান গত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ময়মনসিংহ শহর শাখার কমিটিতে রয়েছে।

 

সহ সভাপতি হিসাবে মো: আলী জিন্নাহর নামের পিছনে সাবেক সহ সভাপতি শহর আওয়ামীলীগ উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সাবেক শহর কমিটিতে সে শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসাবে ছিল।

 

প্রস্তাবিত কমিটির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবু‘র নামের পিছনে সাবেক যুগ্ন সাধারন সম্পাদক শহর আওয়ামীলীগ লেখা হয়েছে যা সত্য আর বাকী যে অংশটি লেখা হয়েছে সাবেক দপ্তর সম্পাদক জেলা আওয়ামীলীগ ময়মনসিংহ এই পদটি মিথ্যা,

 

কারন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক এই পদটি অনুমোদিত হয় নাই। পার্থ প্রতিম চন্দ তার নামের পিছনে লেখা হয়েছে সাবেক সদস্য জেলা ছাত্রলীগ। বিগত জামাত জোট সরকারের আমলে এক নাগারে তিনি ১৪ মাস তিনি কারা নির্যাতিত ছিলেন।

 

আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য তিনি জেল খাটেন নাই উনার জেল খাটার কারন নিয়ে অন্যান্য কারন রয়েছে বলে জানাযায়। সাংস্কৃতিক সম্পাদক লিটন পাল সমন্ধে অভিযোগ আছে ভিপি থাকা অবস্থায় তিনি দুর্নীতি মামলায় জেল খেটে ছিলেন।

 

সহ সভাপতি শাহজাহান পারভেজ সমন্ধে অভিযোগ তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কমিটির ফটোকপিটি তথ্য সরবরাহকারীদের কাছে আছে। এছাড়াও একই কমিটিতে দুইটি পরিবারের সহোদর দুই ভাই, স্বামী স্ত্রী, ভাই বোন ও অনেক নিকট আত্বীয়কে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে।

 

তাছাড়া বিভিন্ন দল থেকে আগত ও অন্যান্য ঘটনাবলী আগামী আরেকটি প্রবন্ধে লেখার আশা রাখি। মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম ও সাধারন সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত প্রস্তাবিত কমিটি জমা দিবার পুর্বে বিভিন্ন কর্মী ও জনসভায় যে সমস্থ বক্তব্য রেখেছেন তার সাথে বাস্তবের কোন মিল আমরা দেখতে পাচ্ছিনা।

 

আগামী প্রবন্ধে কমিটি ঘটনের পুর্বে উনারা যা বলতেন সেই বক্তব্য গুলিকে আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব। এ ছাড়াও এই কমিটিতে দলীয় সিদ্ধানের বাইরে কাজ করার জন্য অনেককে বহিস্কার করা হয়ে ছিল তারাও স্থান পেয়েছে।

 

কিন্তু কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের একটি সিদ্ধান্তে জানাযায়, বহিস্কৃত নেতাকর্মীরা সাধারন সদস্য পদ ফিরে পেতে পারে কিন্তু দলে কোন নেতৃত্ব পাবেনা।

 

সর্বশেষ শুধু এইটুকু বলতে চাই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মত কেন্দ্রীয় কমিটিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে কমিটি জমা দেওয়াটা অনুচিত বলে মনে করেন সাধারন নেতাকর্মীরা। তারা আশা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ উনাদের নিজস্ব লোকদ্বারা তদন্ত করে মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

ব্রেকিং নিউজঃ