| |

আমলাপাড়ার পুকুরটি ভরাট করে উচু ভুমি নির্মান করেছে লীজ গ্রহিতা নেপথ্যে শক্তি ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আশরাফ হোসাইন

আপডেটঃ 11:47 am | October 08, 2017

Ad

স্পষ্টভাষী ॥ কিছুদিন পুর্বেও আমলাপারার শেরি পুকুরটি ছিল শাপলা শালুক আর পদ্ম ফোটা টলটলে জলের একটি বিশাল পুকুর। পুকুরটির আয়তন ছিল ০২৩২৫ একর। হটাৎ পুকুরটি এক সনা লিজ নিল এডভোকেট রেজাউল করিম নামের এক ভদ্রলোক।

 

পেশায় আইন ব্যবসায়ী। ময়মনসিংহ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য ও বর্তমান প্রস্তাবিত মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক আশরাফ হোসাইন।

 

নেপথ্যে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবে আশরাফ হোসাইন এর ভাই লিজ নেওয়া পুকুরটিকে অল্প অল্প করে ময়লা ফেলতে ফেলতে এক সময় ময়লা আবর্জনা ফেলার গতি বাড়িয়ে দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেরি পুকুরটিকে ভরাট করে উচু ভুমিতে পরিনত করে।

 

আর এ কাজে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী ময়লা আবর্জনার ব্যবহারকারী যান বাহন। আমলাপাড়ার সেই ভরাট হয়ে যাওয়া শেরি পুকুরটিতে এখন স্থান পেয়েছে ইট, বালু, রড, সুরকির স্তুপ ও অস্থায়ী আবাস।

 

নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে এক সময়ের নামকরা এই পুকুরটি। পুকুরের ভরাট জায়গাটিতে নারীকেল গাছের চারা সহ বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা রোপন করা হয়েছে। যাতে করে ভবিষ্যতে এখানে একটি পুকুর ছিল তা বুঝা না যায়।

 

পুকুরের পাড় ঘেসে নির্মিত হচ্ছে বিভিন্ন হাইরাইজ বিল্ডিং। আমলাপাড়া এলাকার বয়োবৃদ্ধ ও প্রচীন স্থানীয় বাসিন্দাদের বলতে শোনাযায় শেরি পুকুরটিতে এক সময় আমরা সাতার কাটতাম। বিভিন্ন পুজা পার্বনে প্রতিমা বিসর্জন দিতাম।

 

আজ সেখানে পুকুরের আর অস্তিত্ব নেই। বর্ষার সময় বৃষ্টির পানি রাস্তা ও বাসাবাড়ীর গলি পথ থেকে পুকুরে এসে পরত। যার ফলে তখন রাস্তা ঘাটে বৃষ্টির পানি জমে থাকতো না।

 

এখন পানি পুকুরে নামতে না পারায় এলাকায় জলজটের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোন জলাশয় বা পুকুর ভরাট করা যাবেনা।

 

সেটি যদি সরকারী অথবা ব্যাক্তি মালিকানাধীনও হয়। কেউ যদি এ কাজটি করে তবে তাকে আইনের আওতায় এনে জলাশয় ও পুকুরকে পুর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

 

কিন্তু অদৃশ্য কারনে আমলাপাড়ার এই পুকুরটির ক্ষেত্রে আইনটি প্রযোজ্য নয়। বাংলাদেশ পানি আইন ২০১৩ তে বলা হয়েছে কঠোর আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে জলাধার দখলদার মুক্ত করতে হবে। তাতে বলায় হয়েছে, কেউ জলাধার বা পুকুর ভরাট করে স্থাপনা নির্মান করতে পারবে না। এমনকি জলাধারটি ব্যাক্তি মালিকানাধীন হলেও এই আইন প্রযোজ্য হবে।

 

এ ক্ষেত্রে ভরাটকৃত জলাধারটি পুনরুদ্ধার করে পুর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। নদী, জলাশয়, পুকুর ব্যবহার ও ভারাটিয়ারা যদি ব্যাক্তিস্বার্থে এ গুলো ভরাট করে তা হলে যথাযত আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

 

আমলাপাড়ার শেরি পুকুরটির ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য নয়। অনেকেই মনে করেন লিজকৃত পুকুরটির মালিকের ভাই বর্তমান সরকারী দলের নেতা হওয়াই বোধ হয় এর কারন। কিছুদিন পুর্বে ময়মনসিংহের বহুল প্রচারিত একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে ছিল দখলকৃত পুকুরের মালিকের ভাই আশরাফ হোসাইন পৌরসভার মেয়রের নির্বাচন করবেন।

 

কিন্তু একজন মেয়র প্রার্থীর পরিবার যদি পরিবেশ বিপর্যয় ও জননেত্রীর আদেশ অমান্যকারী হিসাবে চিহ্নিত হয় তা হলে সেই ঘোষিত মেয়র জনকল্যান ও আইনের বাস্তব কতটুকু প্রয়োগ করবে তা বোধ গম্য নয় বলে জন আলোচনায় আছে।

 

সরজমিন পরিদর্শন কালে দেখা যায়, আমলাপাড়া ভরাটকৃত শেরি পুকুরের উচু জায়গায় একটি সাইন বোর্ড লাগানো আছে। তাতে লেখা আছে “ ইহা সরকারী অর্পিত সম্পত্তি, ডিপি কেস নং ৫ (ক) ৮৩-৮৪, মৌজা ময়মনসিংহ টাউন, দাগ নং এস এ ৬১৫২, জমির পরিমান ০২৩২৫ একর, ইজারাদারের নাম মো: রেজাউল করিম”।

 

এ প্রসংঙ্গে বলতে চাই যে, যেহেতু এটি একটি অর্পিত সম্পত্তির পুকুর তা না লিখে এ ক্ষেত্রে “সরকারী অর্পিত সম্পত্তি ” লেখার মুল কারন হলো কোন এক সময় যাতে এখানে যে পুকুর ছিল তা বুঝা না যায়। ফলে জলাধার সংক্রান্ত আইনটিকে পাশ কাটিয়ে অর্পিত সম্পত্তি হিসাবে গ্রাস করা যায়।

ব্রেকিং নিউজঃ