| |

হালুয়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবায় ডাক্তার ১জন

আপডেটঃ 9:50 am | October 12, 2017

Ad

আব্দুল হক লিটন. হালুয়াঘাট ॥ ময়মমনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবায় ডাক্তার রয়েছে এক জন। পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছে না বলে রোগীদের অভিযোগ।

 

জনবলের অভাবে যন্ত্রপাতি অকেজো ও নষ্ট হয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ পরে আছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার ও জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমে বেহত অবস্থা হচ্ছে। উপজেলার প্রায় ৫ লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীর সেবায় মেডিক্যাল অফিসার ২১ জন থাকার কথা থাকলেও কাগজে পত্রে আছে ৭ জন। বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে ৭ জনের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১জন।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সনের ৯ জুলাই স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় করা হয়। উদ্বোধনের ৭ বৎসর পেরিয়ে গেলেও নামেই রয়েছে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

 

হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা পর্যাপ্ত পরিমাণে সেবা পাচ্ছে না, সাধারণ জ্বর, সর্দি কাশি ব্যতীত জটিল কঠিন রোগের চিকিৎসা সেবা এখানে দেওয়া হয়না। ফলে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলা প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনসাধারণ।

 

ভর্তিকৃত রোগীদেরও রয়েছে নানাবিধ অভিযোগ। ১০ অক্টোবর সকালে সরজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, মেডিক্যাল অফিসারের পরিবর্তে রোগী দেখছেন ২ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি কর্মকর্তা ১ জন মোহাম্মদ জাকারিয়া অপরজন আনিসুর রহমান। অপরদিকে মেডিক্যাল অফিসারদের প্রতিটি রুমে তালা ঝুলছে।

 

এক্সরে মেশিন ১৫ বছর ও অটোক্লেভ মেশিন প্রায় ১ বছর যাবৎ নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পঃ পঃ কর্মকর্তা আব্দুল কাদির ডাক্তার সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, এখানে ডাক্তার বেশীদিন থাকতে চায় না।

 

প্রতি মাসে ডাক্তার সংকটের ব্যাপারে আমরা প্রতিবেদন পাঠাচ্ছি। মেশিনগুলো মেরামত করার কোন উদ্যোগ নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, বর্তমানে হাসপাতাল নিয়ন্ত্রন হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং প্যাথলজির কালো থাবায় পড়ে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম।

 

অনবরত চলছে অনিয়ম দূর্নীতির মহোৎসব। অভিযোগ রয়েছে ডাঃ আব্দুল কাদের তার নিজ অফিসে বসে রিপ্রেজেন্টেটিভ ও প্যাথলজি মালিকদের নিয়ে প্রকাশ্যে ধূমপান সহ আড্ডায় মগ্ন থাকেন। আর সেই সুযোগে ডাক্তার বিহীন ভূতুরে হাসপাতালে রোগী দেখেন কর্মচারী থেকে আরম্ভ করে নার্স, আয়া ও উপ-সহকারী কমিউনিটি কর্মকর্তাগণ।

 

অভিযোগ রয়েছে ডাক্তার আব্দুল কাদেরের স্ত্রী জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে। সেবা নেই, তবুও সে সেবিকা। আছে শুধু হাজিরা খাতা মেইন্টেইন। মাস শেষে প্রায় ৩০ হাজার সরকারি টাকা উত্তোলন। প্রায় ১০ বৎসর যাবৎ চলছে এ অনিয়ম।

 

একদিকে কর্মে ফাঁকি অপরদিকে সরকারি টাকা আত্মসাৎ। হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স জাহানারা বেগম। জাহানারা বিগত ২০০৬ সনের ৩ রা ডিসেম্বর অত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। অত্র উপজেলায় একটি রোগীও নেই যাকে তিনি সেবা প্রদান করেছেন। তাকে কখনো হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্স হিসেবে পাওয়া যায় না।

 

এমনি অসংখ্য অভিযোগ অনিময় দূর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহার, ডাক্তার সংকট, এ্যাম্বোলেন্স সংকট ও অবৈধ সিন্ডিকেটের প্রভাবে হাসপাতাল পরিনত হয়েছে নৈরাজ্যের কসাই খানায়। উল্লেখিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।

ব্রেকিং নিউজঃ