| |

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই দেশ এগিয়ে যাবে : অধ্যাপক ডা: এম এ আজিজ

আপডেটঃ 11:22 pm | October 14, 2017

Ad

মো: নাজমুল হুদা মানিক ॥ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ কনফারেন্স রুমে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ এর বিপ্লবী মহাসচিব, দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এর আস্থাভাজন নেতা,ময়মনসিংহের গর্ব ও অহংকার অধ্যাপক ডাঃ এমএ আজিজ বিভিন্ন স্তরের চিকিৎসক ও ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন।

 

তিনি চিকিৎসক ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রতিক্রিয়াশীল চক্রসহ বিভিন্ন ষড়যন্ত্রকারীরা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। মাঠে ময়দানে ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয়।

 

এসব ষড়যন্ত্রকারীরা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯বার হত্যার চেষ্টা করেছে। তারপরও তারা থেমে নেই। তাদের ষড়যন্ত্র অভ্যাহত রয়েছে। তাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নিজেদের ভিতরে কোন ধরনের ভুল বুঝাবুঝি যাতে না হয়।

 

তিনি ডাক্তারদের উদ্যেশ্যে বলেন, জীবনের শেষ বিন্দু চেষ্টা দিয়ে রোগীদের সবা করতে হবে। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি রোগীদেরকে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা জানাতে হবে। ডা: আজিজ বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের চিকিৎসা সেবা উন্নত করতে ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেয়ার পদক্ষেপ গ্রহন করেছে।

 

এক সাথে ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেয়ার নজির বিশ্বের কোথাও নেই। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করছে। রোহিঙ্গা সমস্যা, বন্যা সহ বিভিন্ন সমস্যার কথা চিন্তা না করে তিনি ৪মাস যাবৎ লন্ডনে গিয়ে বসে আছেন। বর্তমানে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বিএনপির নেতারাও জানেনা খালেদা জিয়া কবে দেশে আসবে।

 

তিনি বলেন, বিএনপি সহ অন্যান্য দলের যারা বড় বড় কথা বলে, দেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে চায়, তাদের সব কথা আজ মিথ্যা বলে প্রমানিত হয়েছে। তিনি বলেন,দেশের উন্নয়নে সকলকে সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সকলকে মনে রাখতে হবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই দেশ এগিয়ে যাবে।

 

দেশের উন্নয়নের স্বার্থেই জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় আনতে হবে। তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা জনগনের নেত্রী। জনগনই ভোট দিয়ে তাকে আবার ক্ষমতায় আনবেন। ডা: আজিজ বলেন, যারা বলতো পদ্মা সেতু সম্ব নয়।

 

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাদের মুখে চুনকালি দিয়ে পদ্মা সেতু করা সম্বব এটি বাস্তবে প্রমান করে দিয়েছেন। জননেত্রী শেখ অসম্ববকে সম্বব করে প্রমান করেছেন আমরাও পারি।

 

ডা: আজিজ বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন, মায়ের মমতা নিয়ে তাদের আশ্রয়, খাবার, নিরাপত্তা, চিকিৎসা সেবা সহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়ে এটি বিশ্বে একটি নজির বিহীন ঘটনা।

 

আর এ জন্য তিনি বিশ্ব নেত্রী হিসাবে জনগনের কাছে সমাদুত হয়েছেন। তিনি রোহিঙ্গাদের সমস্যা নিয়ে জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছেন। এটি সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্ব মানবতা আজ শেখ হাসিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

 

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমান সহ অনান্য ধর্মের লোকদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছে এটি বাংলাদেশের সাধারন মানুষের মাঝেও ইতিবাচক প্রভাব পরবে। তিনি বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নিয়ে অনেকেই অনেক উস্কানী দিয়েছে। সব কিছু নস্যাৎ করে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
পুনর্মিলনীর স্মৃতি অক্ষয় হোক, পুরোনো সেই দিনের কথা ভুলবি কিরে হায়, সেই চোখের দেখা, প্রাণের কথা, সেকি ভুলা যায়! মোরা সুখের দুখের কথা কব প্রাণ জুড়াবে তায়, তোরা ছিলি, তোরা আছিস, জানি তোরাই থাকবি, আরেকটিবার আয়রে সখা প্রাণের মাঝে আয়” আবেগাপ্লুত ভাষায় কথাগুলো উচ্চারণ করলেন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের এম ১৬ ব্যাচের মেধাবী দেশবরেন্য ডাক্তারগণ।

 

দীর্ঘ ৩৮ বছর পর এ রকম ব্যতিক্রমধর্মী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে পুনর্মিলিত হতে পেরে নিজেদেরকে ধন্য মনে করছেন এম-১৬ ব্যাচের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তণ মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

 

বৃ¯পতিবার সকাল ১০টায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ ক্যা¤পাসে আনন্দ শোভাযাত্রা শেষে অডিটোরিয়ামে অত্যন্ত জাকজমকপূর্ণ পরিবেশে আয়োজন করা হয় উক্ত কলেজের এম-১৬ ব্যাচের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।

 

এম-১৬ ব্যাচেরই এক মেধাবী ছাত্র দেশবরেণ্য ডাক্তার স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর মহাসচিব জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন চিকিৎসক নেতা অধ্যাপক ডাক্তার এম এ আজিজ অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানান, আমাদের ব্যাচেরই এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অধ্যাপক ডাঃ শাহানা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে বিশ্বনেত্রীর সেবা প্রদান করছেন।

 

তিনি আনন্দে বিহবল হয়ে মেডিক্যাল ক্যা¤পাস জীবনের অনেক বিষয়ের স্মৃতিচারণ করেন। ডাঃ এম এ আজিজসহ দেশবরেণ্য ডাক্তারগণ দীর্ঘদিন পর একত্রিত হতে পেরে মহানন্দে মেতে উঠেন।

 

এম ১৬ ব্যাচের বিজ্ঞ ডাক্তারগণ পুর্নমিলনীতে মহামিলনের মহানন্দ নিয়ে বাকী জীবন মহানন্দে কাটিয়ে দিবেন এমন প্রত্যাশা তাদের। সারাদিনের অনুষ্ঠানমালা শেষে সন্ধ্যার পর ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ অডিটোরিয়ামে জমকালো সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।

 

বহু আকাঙ্খিত এম ১৬ ব্যাচের এই মিলন মেলায় সকাল ৮ টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গনে একটি মনোমুগ্ধকর র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। আনন্দ র‌্যালীতে উপস্থিত ছিলেন এম ১৬ ব্যাচের ছাত্র, ময়মনসিংহবাসীর অহংকার, বাংলাদেশ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব,

 

যাকে নিয়ে বাংলাদেশের ডাক্তার সমাজ অহংকার করতে পারে, ময়মনসিংহের কৃতি সন্তান, চরাঞ্চলের স্বপ্ন মাখা মুখ অধ্যাপক ডা: এম.এ আজিজ। র‌্যালী সমাপ্তের পর বন্ধুর সাথে বন্ধুর কোলাকুলি, গান, আড্ডা, কথা বলাবলি সে যেন এক মিলনমেলার প্রেমের বিহ্ববল বেজে উঠেছিল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে।

 

বাংলাদেশের শিল্প সাহিত্যের শৈল্পিক দিকগুলো মানবজীবনের সর্বক্ষেত্রের অনুভূতি ও বেঁচে থাকার পুঁজি। পরে অনুষ্ঠিত হয় অনুভূতি প্রকাশের পর্ব। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কারো কারো কথায় উঠে এল তাদের পুরোনো বন্ধুদের কথা।

 

১২ জন বন্ধুর মৃত্যু যেন তাদের স্মৃতি ভেলায় ভাসিয়ে গেছে। এর মাঝখান থেকে বক্তব্য দেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর মহাসচিব ডা: অধ্যাপক এম.এ আজিজ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন আজ থেকে ৩৭ বছর পূর্বে আমরা এই কলেজের ছাত্র/ছাত্রী ছিলাম। আজ পুনর্মিলনীতে এসে অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। অনেকের কথা মনে পড়ছে।

 

সেই দিনের সেই ছাত্র/ছাত্রীরা আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারী বেসরকারী হাসপাতালের ডাক্তার। অনেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছে। আমার চোখের সামনে অনেককে দেখে ভাল লাগছে।

 

আবার যাদের হারিয়েছি, যারা এখানে নেই তাদের জন্য খারাপ লাগছে। যারা বেঁচে আছে তারা যেন দেশের সেবা করে আরো অনেকদিন বেঁচে থাকে সেই দোয়াই করছি। ডা: সুভাষ চন্দ্র সরকার তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের এই মিলন মেলায় অনেক বন্ধুরাই আমার পাশে নেই। ছাত্রজীবনে মেডিকেলে পড়াশুনার সময় যে স্মৃতিগুলো আছে তা আমরা কখনো ভুলতে পারবো না।

 

মানুষ চিনদিন বাঁচেনা। আমরাও বাঁচবো না। কিন্তু এই যে, আমাদের ছাত্র জীবনের বন্ধুদের সাথে আজ দেখা হলো, কথা হচ্ছে এটা আমাদের ভাগ্যের ব্যাপার। তিনি তুলে ধরেন তাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের কথা এবং অনেক পুরোনো স্মৃতি।

 

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: মো: আনোয়ার হোসেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা: লক্ষী নারায়ণ মজুমদার, ডা: এ.আর.এম আবুল হোসাইন, ডা: এ.এফ.এম কামরুজ্জামান, ডা: কাজী আশরাফ উদ্দিন, ডা: এনামুর রহমান সহ আরো অনেকেই।

 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ এম ১৬ ব্যাচের ২ দিন ব্যাপী এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান গানে গানে, আলোচনায়, আড্ডায়, স্মৃতিচারণে ও পরদিন নৌ ভ্রমন ও ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাপ্তি হয় বলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ডা: লক্ষী নারায়ণ মজুমদার জানান।

 

এম ১৬ ব্যাচের প্রথম অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ডা: মঞ্জুরুল বারী। অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে আগত ১৬ জন বন্ধু নীল শাড়ী পড়ে নীলে নীলে সাজিয়েছিল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের এম ১৬ ব্যাচের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের প্রথম দিনটা।

ব্রেকিং নিউজঃ