| |

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্ত্রীর মৃত্যু

আপডেটঃ ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ২৪, ২০১৭

Ad

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের জ্যেষ্ঠপুত্র ও বর্তমান সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী শিলা ইসলাম লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। সৈয়দ আশরাফের স্ত্রীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক জানিয়েছেন।

 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ এর বরাদ দিয়ে জানাগেছে, লন্ডনের স্থানীয় সময় রোববার রাত ৩টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৯টা ১০ ) শিলা ইসলামের মৃত্যু হয়। ক্যান্সারে আক্রান্ত শিলা ইসলাম গত পাঁচদিন ধরে লন্ডনের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর।

 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফ এবং তাদের একমাত্র মেয়ে রীমা ইসলাম মৃত্যুর সময় শিলা ইসলামের পাশেই ছিলেন। লন্ডনে একটি গুজরাটি পরিবারে জন্ম নেওয়া শিলা পড়ালেখা করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ নটিংহ্যামে। এক সময় তিনি শিক্ষকতাও করেছেন।

 

ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর চলতি বছর এপ্রিলে জার্মানির একটি হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি হলে কয়েক দিন আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিলা ইসলামের মরদেহ বাংলাদেশে আনা হবে কি না জানতে চাইলে মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত তিনি জানেন না।

 

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের চাচাতো ভাই কিশোরগঞ্জ এড. সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু তার মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শীলা ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

 

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। শিলা ইসলাম লন্ডনের একটি স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, মেয়ে রীমা আশরাফসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সৈয়দ আশরাফের স্ত্রীর মৃত্যুতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ গভীর শোক ও মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে।

 

জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, তার ভাই শাফায়েতুল ইসলাম ও পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন। শিলা ইসলাম বাংলাদেশ তার জন্মভূমি ছিল না, কিন্তু তিনি ছিলেন বাংলার অকৃত্রিম সন্তান। মনের সবটুকু ভালোবাসা ঢেলে দিয়েছিলেন বাংলার মাটি আর মানুষকে।

 

কিশোরগঞ্জের মানুষকেও বড়ই আপন করে নিয়েছিলেন। তিনি শিলা ইসলাম জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী। ভাবী শিলা ইসলামের মৃত্যুতে শোকাহত শহরের খড়মপট্টির শাহ আবদুল বাসেতের পুরো পরিবার। তিনি বলেন, ‘শিশু কিশোর, বাচ্চারা তাকে খুবই ভালোবাসতো।

 

তিনিও পুরো সময় বাচ্চাদের সঙ্গে কাটাতেন। যেহেতু তিনি শিক্ষকতা করতেন, সেহেতু শিশুরাই ছিল তার জগত’। ‘একজন মন্ত্রীর স্ত্রী বলে কোনো আড়ম্বর তার ছিল না। তিনি ছিলেন খুবই সাদাসিধা, সরল। মধুর ভাষায় সবাইকে মোহিত করতেন’। শিলা ইসলামের সঙ্গে যাদেরই দেখা হয়েছিল, পরিচয় ছিল, তাদের সকলেই গভীর বেদনায় একই ধরনের কথা জানান।

 

আবেগময় ভাষায় স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতির ছেলে সংসদ সদস্য রেজোয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, ‘তার অমায়িক আচরণে সকলেই মুগ্ধ হয়েছেন। মানুষ হিসাবে তিনি উচ্চ মানবিক গুণ সম্পন্ন ছিলেন’। শিলা ইসলাম অসুস্থ থাকাকালে তার রোগমুক্তি কামনায় দোয়ার আয়োজন করেন কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।

 

তার মৃত্যুতে স্বজন হারানোর ছায়া নেমে এসেছে সকলের মাঝে। কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য শায়লা পারভিন সাথী বলেন, ‘আমরা গভীর বেদনায় তাকে সব সময় স্মরণ করবো। তিনি আমাদের মাঝেই বেঁচে থাকবেন’।

ব্রেকিং নিউজঃ