| |

ধলা সরকারী আশ্রয় কেন্দ্র মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ত্রিশালে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হলো কার্যাদেশ, দুদকে অভিযোগ

আপডেটঃ ১:০৮ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ৩০, ২০১৭

Ad

 

ফয়জুর রহমান ফরহাদ. ত্রিশাল ॥ সমাজসেবা অধিদফতরের নির্দেশ অমান্য করে ও কালো তালিকা ভূক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকেই দেয়া হলো ঠিকাদারী কাজ। এ কাজ পাইয়ে দিতে লেন-দেন হয়েছে মোটা অংকের একটি অর্থের। কালো তালিকা ভূক্ত প্রতিষ্ঠান হয়েও কি ভাবে আবার ঠিকাদারী পায় এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় একজন এ বিষয় নিয়ে অভিযোগ করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনে। এ ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউয়িনের ধলা গ্রামে অবিস্থত ধলা সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রে। খোজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারী আশ্রয় কেন্দ্রের ঠিকাদার সিরাজুল ইসলাম ও কেন্দ্রের কয়েকজন কর্মচারী মিলে ২১৬২ কেজি বিভিন্ন প্রকারের মালামাল অনিমতান্ত্রিক ভাবে চুরি করে বিক্রি করে। ঘটনাটি ঐ সময়ে বেশ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হলে আশ্রয় কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক (অঃদাঃ) মির্জা নিজুয়ারা সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পান এবং ৩ জানুয়ারী ৪১.০১.৬১৯৪.০০০.১৮/০০১.০৫.০২ স্মারক মূলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ১০ জানুয়ারী ৪১.০১.০০০০.০৬৪.১৮.০১২.১২.০৩ নং স্মারকে সমাজসেবা কার্যালয় ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ, শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ এহসানুল হক গফরগাঁও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ১৭ জানুয়ারী তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে আশ্রয় কেন্দ্রের সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেম খান, ঠিকাদার সিরাজুল ইসলাম ও শরীর চর্চা শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে গত ২৫ জানুয়ারী ৪১.০১.৬১০০.০০০.২৭.০০২.১২.৫৭ নং স্মারকে পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) সমাজসেবা অধিদপ্তর ঢাকা বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তিতে অধিদপ্তরের মহা পরিচালকের নির্দেশক্রমে তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) ঠিকাদার সিরাজুল ইসলামকে চুরির ঘটনায় সম্পৃত্ত থাকায় সিরাজুল ইসলাম খানের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ‘কালো তালিকাভূক্ত’ করা এবং সে বা তার পরিবারের সত্ত্বাধিকারে কোন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে সমাজসেবা অধিদফতরের কোন দরপত্রে অংশ গ্রহণ করতে না পারে এ বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য দরপত্র অনুমোদনকারী হিসেবে জেলা প্রশাসক ময়মনসিংহ বরাবরে গত ২ মার্চ ২৭নং পত্রে পত্র প্রদান করেন। উক্ত পত্রের কার্যার্থে উপ-পরিচালক, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ময়মনসিংহ এবং সহকারী পরিচালক, সরকারী আশ্রয় কেন্দ্র, ধলা, ত্রিশাল, ময়মনসিংহকে অনুলিপি প্রদান করা হয়। পরিচালক (প্রতিষ্ঠান)’র পত্রের প্রেক্ষিতে গত ৫ এপ্রিল ০৫.৪৫.৬১০০.০১৩.৫৫.০০৩.১৪-৩০৩ নং স্মারকে জেলা প্রশাসক ময়মনসিংহ উপ-পরিচালক, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও ধলা সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রের সহকারী পরিচালককে পত্র দেন। জেলা প্রশাসক ময়মনসিংহ গত ১জুন ৪১.০১.৬১০০.০০০.০৭.০০১.১২.৩৭১ নং স্মারকে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে খাদ্য আনুষাংগিক মালামাল সরবরাহের দরপত্র আহবান করেন। তৎপ্রেক্ষিতে কালো তালিকাভূক্ত ঠিকাদার মোঃ সিরাজুল ইসলাম ধলা সরকারী আশ্রয় কেন্দ্র ও ময়মনসিংহের সরকারী শিশু পরিবার (বালিকা)’র জন্য তার মেয়ের জামাতা আব্দুর রশিদ (বাদল) দরপত্র দাখিল করেন। ময়মনসিংহের সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আদেশকে অমান্য করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে চুরির দায়ে কালো তালিকাভূক্ত ঠিকাদার সিরাজুল ইসলামকে ধলা সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে খাদ্য ও খাদ্য আনুষাংগিক মালামাল সরবরাহের জন্য ৮৮,৪৪,৪৭০ টাকার দরপত্রে কার্যাদেশ প্রদানের জন্য গত ৩ আগষ্ট ৪১.০১.৬১৯৪.০১১.১৬.০০১.১২.১৩৮নং স্মারকে চুরির দায়ে কালো তালিকাভূক্ত ঠিকাদার সিরাজুল ইসলামকে কার্যাদেশ প্রদান করেন এবং তার মেয়ের জামাতা আব্দুর রশিদ (বাদল)কে ময়মনসিংহের সরকারী শিশু পরিবার (বালিকা)’য় ঠিকাদার হিসেবে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। বিষয়টির তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন ও সমাজসেবা অধিদফতরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ