| |

সরিষাবাড়ী পৌর কর্মচারী মারুফের হত্যাকান্ড নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

আপডেটঃ ১:১৬ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ৩০, ২০১৭

Ad

মোঃ রিয়াজুর রহমান লাভলু ॥ জামালপুরে সরিষাবাড়ী উপজেলায় পৌরসভার সনদ পরিদর্শক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মারুফ হাসানকে (৩৫) হত্যার ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য চিকিৎসক মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করায় আওয়ামী লীগের দু’পক্ষে সংঘর্ষ হয়েছে।

 

উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও পিংনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মোতাহার হোসেন জয়সহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

 

দলীয় সূত্র জানায়, সরিষাবাড়ী পৌরসভার সনদ পরিদর্শক ও আওনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মারুফ হাসান (৩৫) গত ২০ সেপ্টেম্বর সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মেন্দারবেড় গ্রামের আব্দুল গণির ছেলে মোবারক হোসেন রাজার (৩৩) হাতে জখম হন।

 

রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে একমাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আওনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সংবাদ সম্মেলন করে।

 

সংবাদ সম্মেলনে এ হত্যাকান্ডে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক চিকিৎসক মুরাদ হাসানের সরাসরি নির্দেশনা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। নিহতের বাবা মতিয়র রহমান ও বড় ভাই ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, মারুফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। মুরাদ হাসানের পক্ষে কাজ না করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

 

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বেল্লাল হোসেন এবং সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন জানান, মারুফকে জখমের আগেরদিন হামলাকারী সন্ত্রাসী রাজার বাড়িতে সাবেক সংসদ সদস্য গভীর রাত পর্যন্ত সভা করেছেন।

 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ হারুন-অর-রশিদ, সহ-সভাপতি আব্দুল লতিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি উপাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, পোগলদিঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামস উদ্দিন, পিংনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মোতাহার হোসেন জয় প্রমুখ।

 

এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ হারুন-অর-রশিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য মুরাদ হাসানের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে।

 

এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেলের আঘাতে অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত ছাত্রলীগ নেতা এস এ নিরবকে ময়মনিসংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পৌর ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাজ্জাত হোসেনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি (জিএস) মাহমুদুল হাসান দুখু অভিযোগ করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা করা হয়। এতে নিরব, সাজ্জাত, সুমন, মিল্টন, কপিল, খোকন ও অন্তরসহ কয়েকজন আহত হয়।

 

আহতদের হাসপাতালে ভর্তি হতেও বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জানান, সংবাদ সম্মেলন শেষ হতেই প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ওপর হামলা করে। এদিকে মারুফ হাসানের হত্যাকারীর ইন্ধনদাতাকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত যমুনা সার কারখানা এলাকায় লাগাতার আন্দোলন চলবে বলে তিনি জানান।

 

মারুফ হত্যাকান্ডের সাথে জড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য চিকিৎসক মুরাদ হাসান জানান, অভিযোগটি মিথ্যা। নিহত মারুফ আমারই নিবেদিত কর্মী ছিলেন।

 

এছাড়া সংবাদ সম্মেলন শেষে উস্কানিমূলক কথা বলায় সংঘর্ষ বাঁধে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম খান বলেন, সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

 

 

র‌্যাব-১৪, সিপিসি-৩, ভৈরব ক্যাম্প গোপনসূত্রে সংবাদ পায় যে, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানাধীন সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর উপর কতিপয় সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।

 

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে ভৈরব ক্যাম্পের স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি জুয়েল চাকমা এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল ২৮ অক্টোবর ২০১৭ ইং তারিখ আনুমানিক ১৪১০ ঘটিকার সময় উক্ত স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাইকারী ইসলাম উদ্দিন (১৯),

 

পিতা- মোঃ ইব্রাহীম, সাং-লালপুর, থানা-আশুগঞ্জ, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভিকটিম ০১। মোঃ সাইফুল ইসলাম (১৫), পিতা-আব্দুল কুদ্দুস, ০২। মোঃ বাদল (১৫), পিতা-মিন্টু মিয়া সর্বসাং- বিরাশার,

 

থানা ও জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়াদের নিকট থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনতাই করাকালে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামীকে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষনিকভাবে মোবাইলকোর্টের মাধ্যমে ০৬ (ছয়) মাসেরর বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।