| |

ত্রিশালে ৮শ শিক্ষকের শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে প্রতিবাদ লিপি প্রদান

আপডেটঃ 12:29 am | October 31, 2017

Ad

ফয়জুর রহমান ফরহাদ ॥ ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সাবেক দুর্নীতিবাজ,নারী কেলেংকারীর সাথে জড়িত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদের ত্রিশালে বদলী হওয়ায় তার বদলী প্রত্যাহারের দাবীতে ত্রিশালের ৮শ শিক্ষকের স্বাক্ষরে শিক্ষা মন্ত্রীর বরাবরে প্রতিবাদ লিপি প্রদান করেছেন।

 

এতে দুর্নীতিবাজ শিক্ষা অফিসারের পূনরায় ত্রিশালে বদলিতে শিক্ষক সমাজ চরম ক্ষোভ নিন্দা প্রকাশ করেছেন। জানাগেছে ২০১৪ সালে নূর মোহাম্মদ উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে ত্রিশালে যোগদান করেন।

 

যোগদানের পর হতে তিনি নানা ছলনায় অন্যায় আচরন, ঘোষকেলেংকারী, নিয়োগ বানিজ্য, নারীদের সাথে অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েন। তার দুর্নীতির মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে শিক্ষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৫ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান শাহীন সকল অভিযোগ তদন্ত করেন।

 

সে সময় তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ গুলো তদন্ত করে সত্য প্রমানীত হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে দোষী সাবস্থ্য করে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে রিপোট পাঠান। সে রিপোটের প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে সেসময় তাকে ষ্টেন্ড রিলিজ করা হয়।

 

এব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান-বিদায়ী শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমেদ একজন দক্ষ.সৎ ও ভাল শিক্ষা অফিসার হিসেবে ত্রিশালের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

 

ষড়যন্ত্রকারীরা ষড়যন্ত্র করে তাকে সরিয়ে আবার সেই দুর্নীতিবাজ শিক্ষা অফিসার নানা অপকর্ম করে যিনি ইতোপূর্বে ত্রিশাল থেকে টেন্ড রিলিজ হয়েছিলেন। তিনিই যদি আবার ত্রিশালের শিক্ষার দায়িত্ব পালন করেন তাহলে আবার তার কুকর্ম গুলো ত্রিশালের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপর প্রভাব পড়বে।

 

তিনি আরো জানান- সরকারী বিধি রয়েছে যদি একজন শিক্ষা অফিসার হিসেবে কোন উপজেলায় একবার চাকুরী করে থাকেন তাহলে সে আর সেই উপজেলায় বদলি হতে কিংবা চাকুরী করতে পারবেননা।

 

তা হলে এই দুর্নীতিবাজ শিক্ষা অফিসার কোন অপশক্তির দ্বারা ত্রিশালে পূনরায় পোষ্টিং নিলেন তা খতিয়ে দেখতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। অপর এক শিক্ষিকা জানান, উপজেলার সাধারন শিক্ষক শিক্ষিকার নুর মোহাম্মদের আগমনকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেননা।

 

নুর মোহাম্মদ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধবংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়েগিয়েছিলেন। বিদায়ী শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমেদ জানান-এ ব্যাপারে আমার কোন বক্তব্য নেই আমাকে যেখানে বদলি করা হয়েছে আমি রিলিজ হয়ে সেখানে যোগদান করবো।

 

ত্রিশাল পুনরায় আসার জন্য দুএকটি পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রিপোর্ট করিয়েছেন যা একজন সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি করতে পারেননা। আমার বিরুদ্ধে যে সকল মিথ্যে অভিযোগ দিয়েছেন তার মধ্যে সত্যের কোন লেমমাত্র নেই।

 

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি উপজেলা শাখার উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ খান,

 

দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম, প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক মশিউর রহমান, যুগ্ন-আহবায়ক মোজাম্মেল হোসেন প্রমূখ। এসময় ত্রিশাল উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা ঘোষখোর,

 

দুর্নীতিবাজ ও অনৈতিক কার্যকলাপের সাথে জড়িত সাবেক উপজেলা শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদের বদলি প্রত্যাহারের দাবী জানান। এ ব্যপারে সদ্য যোগদানকৃত শিক্ষা অফিসার নুর মোহাম্মদ সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।

ব্রেকিং নিউজঃ