| |

ময়মনসিংহে পাসপোর্ট জিম্মী করে ডিডি”র মুক্তিপন আদায় !

আপডেটঃ ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ৩১, ২০১৭

Ad

বদরুল আমীন ॥ ঘুষের টাকা না দিলে ময়মনসিংহ পাসপোর্ট অফিস থেকে পাসপোর্ট পাওয়ার কোন আশাই করা যায়না । স্থানীয় একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আজগর হোসেন রবীন ঘুষ না দিয়ে পাসপোর্ট পেতে গিয়ে নানা হয়রানির শিকার হয়েছেন।

 

পাসপোর্ট আটক করে পাসপোর্ট অফিসের ডিডি নূরুল হুদা আদায় করেছেন মুক্তিপন । যা সন্ত্রাসী কায়দাকে হার মানিয়েছে।

 

ময়মনসিংহে বসবাস করা আজগর হোসেন রবীন ডাক্তারের পরামর্শে ভরতে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য বিগত ০৭/০৮/২০১৭ইং ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করতে গেলে ৪টি (নিজ, স্ত্রী ও ২ সন্তান) পাসপোর্টের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমাদিলে সিনিয়র সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা সাহেব পাসপোর্ট খরচ বাবৎ আরো ১০ (দশ) হাজার টাকা দাবী করেন।

 

রবীন টাকা পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করেন। পাসপোর্ট আবেদন পত্র খরচের টাকা ছাড়া জমা না দেয়ায় তিনি বলেন ,নীচে গিয়ে ৫ (পাচ হাজার) টাকা জমা দিয়ে আবেদন রেখে যান।

 

এ সময় তিনি নিজেকে দৈনিক শাশ্বত বাংলা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জানালে তিনি অগ্রিশর্মা হয়ে তাকে তার স্ত্রী, কন্যা ও উপস্থিত লোকজনের সামনে অকথ্য ভাষায় গালমন্দসহ অপমান অপদস্থ করেন।

 

এর পর তিনি ৪টি পাসপোর্টের আবেদন অফিস স্টাফ নজরুল ইসলাম (অবসর প্রাপ্ত) এর সার্বিক সহযোগিতায় জমা দেন ও রশিদ পত্র গ্রহন করেন। উক্ত রশিদে পাসপোর্ট গ্রহনের সময় দেয়া হয় ২৮/৮/১৭ইং। আজগর হোসেন রবীন ২৯/৮/১৭ইং তারিখে পাসপোর্ট আনার তার নিজ মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পান যে তার পাসপোর্ট রেডী।

 

রবীন ৭/৯/১৭ ইং তারিখে গিয়ে রশিদ জমা দেন । ডেলিভারী ম্যান জিয়া তাকে, তার স্ত্রী ও কন্যার পাসপোর্ট দেন। আর বলেন আপনার পাসপোর্ট পরে নিতে হবে।রবীন বার বার অফিসে গিয়ে পাসপোর্ট পেতে ব্যর্থ হয়ে বিগত ১৩/৯/১৭ইং তারিখে উকিল নোটিশ প্রদান করেন।

 

তিনি আইনের বিধান মতে নোটিশের জবাব না দিয়ে বা তার পাসপোর্ট প্রদান না করে নিজস্বয়ং জবাব দেন। এতে উল্লেখ করেন ৩ কার্য দিবসের মধ্যে পাসপোর্ট গ্রহন করতে হবে। অন্যথায় ১৯৭৪ সনের পাসপোর্ট আইনের বিধান মতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের হুমকি দেন । বিধানমতে উকিল নোটিশের জবাব না দেয়ার কারনে রবীন বিগত ২৮/৯/১৭ইং তারিখে ফের উকিল নোটিশ পাঠান।

 

এই সময় কালে মিঃ নুরুল হুদার নিয়োজিত আইনজীবির মাধ্যমে প্রথম উকিল নোটিশের জবাব ২৭/৯/১৭ ইং তারিখে প্রদান করেন। মোঃ নুরুল হুদা সাহেব আজগর হোসেন রবীনের পিতাকে বিহারী আখ্যা দিয়ে পুলিশ সুপারকে পুন তদন্তের জন্য একটি পত্র দেন।

 

বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশ ১৯৭৩ এর ৬ ধারার কোন শর্ত ভঙ্গ করিলে পাসপোর্ট আবেদনকারীকে অবগত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু সিনিয়র সহকারী গরিচালক মোঃ নুরুল হুদা ব্যক্তি আক্রোশে অবগত না করে পূর্ণ তদন্তের জন্য পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) কে ও বিভিন্ন সংস্থায় পত্র দেন। যাতে মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ ছিল।

 

পত্রটি প্রশাসন গুরুত্বের সাথে স্বরজমিনে পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থা পূনঃ তদন্তে করে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের কোন সত্যতা পাননি। পূর্ন:তদন্তের রিপোর্ট পাসপোর্ট অফিস পাওয়ার পর রবীনকে পাসপোর্ট দেন নাই।

 

পরবর্তী সময়ে ডিডি ও ডিএডি জানান, লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার করে তাদেরকে কপি পাঠান পরে আজগর হোসেন রবীনকে পাসপোর্ট গ্রহন করতে হবে। অবশেষে রবীন মুক্তিপন হিসেবে তার উকিল নোটিশ প্রত্যাহার করে ৬/৭ দিন পাসপোর্ট অফিসে ধর্না দিয়ে ১৭/১০/১৭ইং তারিখে তার আবেদন পত্রে স্বাক্ষা কাে পাসপোর্ট গ্রহন করেন।

ব্রেকিং নিউজঃ