| |

আঃলীগ নেতা আমিনুল হক শামীমের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করে আঃলীগকে বিভাজন করার অপপ্রয়াস থেকে বিরত থাকুন

আপডেটঃ ১১:৩২ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ০৩, ২০১৮

Ad

স্টাফ রিপোর্টারঃ শাওন হত্যার প্রতিবাদে মহানগর আওয়ামীলীগের প্রতিবাদ সভায় ময়মনসিংহ জেলা আঃলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ সভাপতি এফ.বি.সি.সি.আই এর সাবেক পরিচালক ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আমিনুল হক শামীমের বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগ উত্থাপন করেছেন মহানগর আঃলীগের সাধারন সম্পাদক মোহিতুর রহমান শান্ত যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই এর জন্য আমরা আমাদের পত্রিকার পক্ষ থেকে অনুসন্ধান চালাই।

 

আমিনুল হক শামীমের বিরুদ্ধে ছাত্র থাকা অবস্থায় জামালপুরে তিনি ছাত্রদল করতেন বলে অভিযোগ উঠে কিন্তু আমাদের প্রতিনিধি জামালপুরে অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পারে ঘটনাটি সত্য নয়। আমিনুল হক শামীমের সবচেয়ে কাছের বন্ধু সহপাঠি বাংলাদেশ সরকারের পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি জামালপুরে আমিনুল হক শামীমের সাথে পড়াশোনা করেছেন বলে জানা যায়। উনি বলেন, শামীম কোনসময় ছাত্রদল করত না। জামালপুর জেলার সাবেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের সাবেক ও বর্তমান একাধিক নেতৃবৃন্দের সাথে যোগযোগ করা হলে তারা বলেন, শামীম কোনদিন ছাত্রদল করেছে বলে আমাদের জানা নেই।

 

সে খুব মিশুক প্রকৃতির ছেলে ছিল। সবার সাথে সমানভাবে মিশত ও আড্ডা দিত। এ ব্যাপারে আমিনুল হক শামীমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি কোনোদিন কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন না। ব্যবসায়িক জীবনে তিনি আওয়ামীলীগকে বিভিন্নভাবে অর্থনৈতিক সাহায্য করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করতেন বিধায় কোনো রাজনৈতিক পদে না থেকেও আওয়ামীলীগকে সাহায্য করেছেন।

 

ময়মনসিংহ জেলা মটরমালিক সমিতির মহাসচিব হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করে গেছেন। বিএনপির সাথে কোনো প্রকার সহযোগিতা না করে তিনি বিরুধী দল আওয়ামীলীগের বিভিন্ন কর্মসূচির সাথে মটর মালিকদের নিয়ে একাত্ততা ঘোষনা করেছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় যে, জেলা মটরমালিক সমিতির নেতৃত্বের প্রশ্নে তৎকালিন মটরমালিক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা হাজ্বী মকবুল হোসেন এমপির কাছে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ও সাধারন সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আহমেদ এবং জেলা যুবলীগের সে সময়কার সভাপতি আজকের ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান আমিনুল হক শামীমকে ময়মনসিংহ মটরমালিক সমিতির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য একটি সুপারিশ পত্র প্রদান করেছিলেন। যার ফটোকপি আজও আমিনুল হক শামীমের কাছে রয়েছে।

 

তিনি যদি বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকতেন তাহলে অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, নাজিম উদ্দিন আহমেদ ও ইউসুফ খান পাঠান আমিনুল হক শামীমের পক্ষে সুপারিশ পত্রটি প্রদান করত না। এতেই প্রমাণ হয় যে, আমিনুল হক শামীম আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল। আমিনুল হক শামীম যদি ছাত্রদল করতেন তবে ময়মনসিংহ জেলা মটরমালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ ফারুকী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শ্যামল দত্ত, ময়মনসিংহ জেলা মটরযান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ সালাম এবং সাধারন সম্পাদক আব্দুল সালাম ১৯৯৬ সালে ১৭ই মার্চ রবিবার “দৈনিক বাংলার বাণী”, ২৬শে ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬ “দৈনিক ভোরের কাগজ” এবং ২৭শে ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬ বৃহস্পতিবার “দৈনিক ইত্তেফাক” পত্রিকায় বিভিন্ন সময় আমিনুল হক শামীমের পক্ষে বিবৃতি দেন।

 

বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, ময়মনসিংহ জেলার মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থে কথা বলতে গিয়ে ময়মনসিংহ জেলা মটরমালিক সমিতির মহাসচিব আমিনুল হক শামীম ও দিপু বসাক বিএনপি সরকারের আমলের মন্ত্রী, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মির্জা আব্বাসের নির্দেশে কারাবন্দী হয়েছেন। এমনকি ১৯৯২ সালে বিএনপির মাস্তানরা তৎকালিন সরকারের মদদে মহাখালি আন্তজেলা বাস টার্মিনাল দখল করে এবং ময়মনসিংহ মটরমালিকদের মালিকানাদীন গাড়িগুলি ১৯৯৬ সালের বিএনপি সরকার বিরোধী অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বে ৯ তারিখে ২২টি ময়মনসিংহ মটর মালিক সমিতিভুক্ত বাস আটক করে মহাখালি টার্মিনালে রাখে।

 

প্রশ্নহল আমিনুল হক শামীম যদি বিএনপি, যুবদল অথবা ছাত্রদল করত মির্জা আব্বাস তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিতনা। ২৭ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬ সালে বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ জেলা মটর মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ আমিনুল হক শামীম ও দিপু বসাকের মুক্তির দাবিতে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে অর্ধ দিবস হরতাল ডাকে। হরতাল সফল করার সমর্থনে এক বিশাল মশাল মিছিল করে ময়মনসিংহ জেলা মটর মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ। জেলা মটরমালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের দাবি করেন তৎকালিন বিরোধী দল আওয়ামীলীগের চলমান আন্দোলনের সাথে একাত্ততা ঘোষনা করায় আমিনুল হক শামীম ও দিপু বসাককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

শামীম যদি ছাত্রদল অথবা বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকত তাহলে আওয়ামীলীগের আন্দোলনের সাথে সে কোনো অবস্থাতেই একাত্ততা ঘোষনা করত না। যতদূর মনে আছে আমিনুল হক শামীম ও দিপু বসাকের মুক্তির জন্য সেই সময়কার আন্দোলনের সময় ময়মনসিংহ শহরের মোড়ে মোড়ে পথসভা করে ময়মনসিংহ জেলা মটরমালিক সমিতি। সেই সমস্ত পথসভায় নান্দাইল থেকে নির্বাচিত বর্তমান এমপি আনোয়ারুল আলম তুহিনকে বক্তিতা দিতে দেখা গেছে। তুহিন ছিলেন সে সময় আঃলীগের সাবেক সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি জাহানারা খানের ছেলে।

 

গফরগাও থেকে আঃলীগের বার বার নির্বাচিত এমপি মরহুম আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ এর বড় ছেলে বর্তমান এমপি বাবেল গোলন্দাজের বড় ভাই জগলুকে শামীম ও দিপু বসাকের পক্ষে জেল মুক্তির জন্য রাজপথে আন্দোলন করতে দেখা গেছে। একজন বিএনপি সমর্থিত ব্যক্তির জন্য আঃলীগের এ সমস্ত নেতৃবৃন্দ কোনো অবস্থাতেয় আন্দোলন অংশগ্রহন করত না। তাছাড়া আঃলীগের বিভিন্ন জনসভা ও কর্মসূচিতে আমিনুল হক শামীমকে পরিবহন ও অর্থ দিয়ে সাহায্য করতে দেখা গেছে। তাই আমিনুল হক শামীমের বিরুদ্ধে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগটি সর্বৈব্য মিথ্যা। আমিনুল হক শামীম স্থানীয়ভাবে আঃলীগের প্রাথমিক সদস্য।

 

তার বিরুদ্ধে বিএনপির রাজনীতির সাথে সংযুক্ত থাকার যে অভিযোগটি উত্থাপিত হয়েছে তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়নতা থেকে উপস্থাপিত। আমিনুল হক শামীমের পক্ষে বাংলার বাণী, ভোরের কাগজ ও দৈনিক ইত্তেফাকে জেলা মটরমালিক সমিতি ও ময়মনসিংহ জেলা মটরযান কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে যে সমস্ত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছিল তার ফটোকপি এই লেখার সাথে সংযুক্ত করা হইল।

ব্রেকিং নিউজঃ