| |

দুর্ঘটনা রোধে চালক ও পথচারী উভয়ের সচেতন হতে হবে

আপডেটঃ ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ | জুন ০৭, ২০১৮

Ad

প্রদীপ ভৌমিকঃ দুর্ঘটনা মানেই মৃত্যুফাঁদ। প্রতিনীয়ত ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা। এর মাত্রা এত ব্যাপক যে, এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে প্রতি ৬০ থেকে ৬৫ জন মানুষ দূর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারায় না হয় আহত অথবা পঙ্গুত্ব বরণ করে প্রতিদিন। বার্ষিক হিসেবে পরিসংখ্যান ফলাফল প্রাণহানী হচ্ছে প্রায় ২৫ হাজার। আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করছে ৫০ হাজার জন। আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রতিবছর ৪০ হাজার কোটি টাকা। সড়ক দূর্ঘটনার জন্য ৪২ শতাংশ দায়ী পথচারী।

 

আর বাকি ৫৮ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয় চালকদের অদক্ষ্যতা গাফিলতি, বেপোরোয়া গাড়ি চালানো, অভারট্রেকিং ও রাস্তার ভগ্নদশা। তাছাড়া ফিটনেস বিহীন গাড়িও দূর্ঘটনার ব্যাপারে সহায়ক। পৃথীবির অন্যান্য দেশে দূর্ঘটনা ঘটলে সরকার দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষতিপূরণ প্রদান করে কিন্তু বাংলাদেশে এ ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশের সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এটা যেন গনপরিবহনের নিত্যদিনের রুটিন ওয়ার্ক। দুঃখ প্রকাশ করতে গেলে প্রতিদিন বহুবার সরকারকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।

 

আর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে দেশের অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ডের বাজেট সংকুচিত করে। একজন ডাক্তারের ভুলে একজন রোগীর মৃত্যু হয় কিন্ত একজন ড্রাইভারের ভূল ও গালিলতির জন্য একাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। আমাদের দেশের ড্রাইভারের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টমশ্রেণী পাশ। হেল্পারের যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণী। ২১ বৎসর বয়স্ক যে কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে পারে। কিন্তু একজন দক্ষ ড্রাইভার সৃষ্টির জন্য যা করণীয় বা যে প্রশিক্ষনের দরকার তা আমাদের দেশে নেই।

 

হত্যা মামলা পরিচালনা করতে যে সমস্ত আইনের দরকার উদ্দেশ্যে প্রনোদিতভাবে ৩০২ ধারায় যদি কেউ কাউকে হত্যা করে তাহলে আদালত ইচ্ছা করলে তাকে মৃত্যুদন্ড দিতে পারে। ৩০৪ ধারায় বিচারকার্য সম্পন্ন করে আদালত অপরাধীর যাবৎজীবন সাজা দিতে পারে। কিন্তু সড়ক দূর্ঘনায় যদি কেউ মারা যায় তাতে ড্রাইভারের দোষ থাকলেও অপরাধীর ৩ বৎসরের কারাদন্ড হয়। তারপরও যা আপোসযোগ্য ও মীমাংসাযোগ্য। অন্যদিকে মোটরযান অধ্যাদেশের ১২৮ ধারা অনুসারে ক্ষতিপূরন চেয়ে মামলা করার অধিকার ভোক্তভোগীর ও তার আপনজনের রয়েছে।

 

কিন্তু পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা সেই আইন মানতে নারাজ। তারা প্রয়োজনে রাষ্ট্র ও নাগরিককে জিম্মি করতেও দ্বিধা করেনা। যার প্রমাণ অতীতে একজন ড্রাইভারকে শাস্তি দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মটরযান মালিক শ্রমিকরা ঘটিয়েছিল। তাই দুর্ঘটনার হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে একটি শক্তিশালী সংস্থা গঠন করে গনপরিবহনের চলাচল নীয়ন্ত্রনে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি পথচারী ও যাত্রীদের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। দূর্ঘটনা রোধে মটরযান চালক ও পথচারী উভয়ের সমানভাবে সচেতন হতে হবে। অন্যথায় দূর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়।

ব্রেকিং নিউজঃ