| |

ব্রহ্মপূত্র নদ খনন ময়মনসিংহ শহরের রাস্তা-ড্রেন প্রশস্তসহ বিভিন্ন দাবীতে নাগরিক আন্দোলনের স্মারকলিপি পেশ

আপডেটঃ ৭:১৫ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৭, ২০১৮

Ad

স্টাফ রিপোর্টারঃ বাংলাদেশের ৮ম ময়মনসিংহ বিভাগ প্রতিষ্ঠা পর এই প্রথম দেশে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত বিভাগীয় শহর গড়ার জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকা সত্বেও এই বিভাগের বয়স তিন বছর প্রায় সমাগত, কিন্তু তিন বছরে কয়েকটি বিভাগীয় অফিস স্থাপন ছাড়া বিভাগীয় শহরে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন ও পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছেনা। তাই প্রধানমন্ত্রীর আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে এবং এ অঞ্চলের দীর্ঘ লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে অবিলম্বে ব্রহ্মপূত্র নদ খনন, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন দ্রুত বাস্তবায়ন, শহরের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাস্তাগুলো চারলেনসহ শহরের সকল রাস্তা, ড্রেন-খাল ৫০বছরের চিন্তা মাথায় রেখে প্রশস্তকরণ, যানজটের অন্যতম কারণ শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া রেললাইনটি সরিয়ে শহরের দক্ষিণে স্থাপনসহ বিভিন্ন দাবীতে মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলন ও উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ বিভাগীয় কমিশনার মাহমুদ হাসানের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেছেন। স্মারকলিপি গ্রহনকালে বিভাগীয় কমিশনার মাহমুদ হাসান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিভাগের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত আন্তরিক। তাই প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ক্রমন্বয়ে বাস্তবায়নে পদক্ষেপ হচ্ছে।
ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলন ও উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের দেয়া স্মারকলিপি অন্যান্য দাবীগুলোর মধ্যে রয়েছে- জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুর-তারাকান্দি হয়ে বঙ্গবন্ধু যমুনাসেতু পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ও ডাবল রেললাইন স্থাপন করে প্রতি ঘন্টায় যাত্রীবান্ধব ট্রেন চালু করতে হবে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরে বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য ফুটপাত ও রাস্তার একাংশ অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে, ময়মনসিংহ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যাল স্থাপন, নেত্রকোণা ও শেরপুরে মেডিকেল কলেজ স্থাপন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওপেন হার্ট সার্জারী ইউনিট চালু, ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, চার জলায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও টেক্সটাইল কলেজ স্থাপন, ময়মনসিংহে আরো একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ শেরপুরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে। ময়মনসিংহ বিভাগের প্রতি জেলায় আধুনিক সময়োপযোগী পর্যটন কেন্দ্র ও হোটেল স্থাপন করে বিভাগের ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারনসহ দর্শনীয় স্থান সমূহে যাতায়াত পর্যটন বান্ধব করে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে হবে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোজাম্মেল হক ও নূরুল আলম, ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলন ও উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহান খান ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম, কাজী আজাদ জাহান শামীম, ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শিব্বির আহমেদ লিটন, মনিরা সুলতানা মনি, শহীদুর রহমান শহিদ, ময়মনসিংহ সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি এম আয়ুব আলী, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম, জেলা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডিাস্ট্রির সহ-সভাপতি শংকর সাহা, রোকেয়া আফসারী শিখা প্রমূখ।
এছাড়াও আরো অন্যন্য দাবীগুলোর মাছে রয়েছে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন জামালপুর পর্যন্ত সংযোগ করে ট্রেনের কামরার সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। আরো দুটি নতুন ট্রেন চালু করতে হবে। ট্রেনের টিকেট কালোবাজারী বন্ধ করতে হবে। হালুয়াঘাট, নালিতাবাড়ী ও ধানুয়া কামালপুর ইমিগ্রেশন সহ পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল স্থল বন্দর নির্মাণ করতে হবে। আন্তঃজেলার দুরপালার গাড়িগুলো চরপাড়া দিয়ে না এসে বাইপাস দিয়ে গাড়ি চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। বিভাগীয় শহরে জনবহুল গুরত্বপূর্ণ মোড়ে ফুট ওভারব্রীজ ও ফ্লাইওভার নির্মাণ জরুরী। ময়মনসিংহ বিভাগে অর্থনৈতিক জোন, সকল জেলা শহরে আধুনিক ডিজিটাল শিল্প অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া অপরূপ ব্রহ্মপুত্র নদের উপর কমপক্ষে আরও তিনটি সেতু নির্মাণ করতে হবে। ময়মনসিংহে আধুনিক চক্ষু হাসপাতাল, ডায়াবেটিক হাসপাতাল এবং মা ও শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাসহ ঐতিহাসিক সূর্যকান্ত হাসপাতাল (এস.কে)’কে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ডিজিটাল মা ও শিশু হাসপাতালে রূপান্তরের জোড় দাবী জানাচ্ছি। বিভাগের প্রতিটি জেলায় জেলা কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল নির্মাণ করতে হবে। বিভাগীয় শহরসহ বিভাগের প্রতি জেলা শহরে আধুনিক শিশুপার্ক ও চিড়িয়া খানা নির্মাণ করতে হবে। বিভাগীয় সদরে ডাক ও জীবন বীমা ডিভিশনাল কার্যালয় স্থাপন করতে হবে। ময়মনসিংহ শহরের প্রাণ কেন্দ্র থেকে পতিতালয়টি স্থানান্তরসহ পতিতালয়ের ভিতরে অবৈধ মদের দোকান/ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। ময়মনসিংহ শহরে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, হাই কোর্ট বিভাগের সার্কিট বেঞ্জ স্থাপন, ময়মনসিংহ মেট্রোপলিটন আদালত স্থাপন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় শ্রম আদালত, ময়মনসিংহ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ভবন থেকে জেলা জজ আদালত ভবন পর্যন্ত চলন্ত সিঁড়িযুক্ত ফ্লাইওভার ব্রীজ নির্মাণ করতে হবে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরের রফিক উদ্দিন ভূইয়া ষ্টেডিয়ামসহ আরো দুটি আন্তর্জাতিকমানের স্টেডিয়াম করতে হবে। পরিবেশ দূষন, খাদ্যে ভেজাল, বিষ মিশ্রণ, ঔষধে ভেজাল, খাল-বিল-নদী-পুকুর দখল মুক্তকরণসহ, প্রাইভেট হাসপাতাল, ফার্মেসী ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ, রিএজেন্ট, অস্বাস্থ্যকর অনুমোদনবিহীন ক্লিনিক, সরকারী হাসপাতালে ও আদালত এলাকায় দালাল কিছু ব্যবসায়ী একদর নামক ফর্মুলায় মুনাফার জুলুম, ইচ্ছেমত বেশী দামে পন্য বিμয় ও মজুতদারী পন্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা সমস্যার সমাধানে নিয়মিত কার্যকর মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দাবি জানাচ্ছি। ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরসহ নেত্রকোণা ও শেরপুরে সাংস্কৃতিক পল্লী স্থাপন করতে হবে। ময়মনসিংহের বিশ্বখ্যাত পাট এর ঐতিহ্য ও গুরুত্ব ফিরিয়ে আনতে জাতীয়ভাবে মহাপরিকল্পনা উত্থাপন করতে হবে। আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, ময়মনসিংহ সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিস সহ বিভিনড়ব সাব রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিসে বিভিনড়ব প্রভাবশালী ব্যক্তির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে এবং এরা দলিল ও ভূমি নাম খারিজের ক্ষেত্রে সংশিষ্ট ব্যক্তিদের নিকট হইতে মাত্রাতিরিক্ত অবৈধ টাকা আদায় করে।
সিন্ডিকেটকে তাদের চাহিদা মত টাকা না দিলে দলিল রেজিস্ট্রি বা নামজারি কোনটাই হয় না। আমরা এই সকল সিন্ডিকেট কর্মকান্ডের অবসান চাই। ময়মনসিংহে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর স্থাপনসহ ময়মনসিংহ বিভাগ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য ‘ময়মনসিংহ বিভাগ উনড়বয়ন কর্তৃপক্ষ’ প্রতিষ্ঠা জরুরী।
উল্লেখিত দাবী সমূহ বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিভাগীয় কমিশনার মাহমুদ হাসারেন প্রতি অনুরোধ জানান জেলা নাগরিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।