| |

শেরপুর সীমান্তে হাতি ও মানুষের বাঁচা মরার লড়াই চলছে দেড় যুগ ধরে একটি হাতির মৃতদেহ উদ্ধার!

আপডেটঃ ৫:৩৯ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৯, ২০১৮

Ad

মো. আবু রায়হান, শেরপুর ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি: শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ৩টি উপজেলা ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী সীমান্ত অঞ্চলের দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় হাতি আর মানুষের মধ্যে চলছে বেঁচে থাকার লড়াই। প্রায় দেড় যুগ ধরে এই সমস্ত বন্য হাতির আক্রমনে প্রাণ হারায় এই সীমান্ত অঞ্চলের লোকজন। আবার কখনও হাতিও মারা মরছে। দীর্ঘ এই দেড় যুগে শতাধিত লোকের প্রাণ হানি এবং বহু সংখ্যক লোক পঙ্গুত্ব বরণ করেছে বন্য হাতির আক্রমনে। আবার দীর্ঘ ওই সময়ের মধ্যে হাতির নিহতের সংখ্যাও কম নয়। ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক হাতি মারা গেছে। এছাড়া হাতির আক্রমনে ফসল খেয়ে সাবার এবং গুড়িয়ে দিয়েছে অসংখ্য বাড়ি ঘর। নি:স্ব হয়েছে অনেকেই। এমনিক হাতির আক্রমন থেকে জীবন বাঁচাতে হাতির আক্রমন্তাক অঞ্চল ছেড়ে অন্যত্রে পারি জমিয়েছে। অর্থাৎ বন্য হাতির খাবারের সংকট দেখা দিলেই খাবার সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসে। আর এমন সময়ে ঘটে হাতি ও মানুষের বাঁচা মরার লড়াই। দীর্ঘ এই দেড় যুগেও হাতি আর মানুষের নিরাপদে বেঁেচ থাকার সঠিক কোন কূল কিনারা হয়নি। হাতির আক্রমন থেকে রক্ষা পাওয়া জন্য যে ব্যবস্থা (ফ্যান্সিং সোলার সিস্টেম) নেওয়া হয়েছে তার সুফল পাচ্ছে না অত্রাঞ্চলের লোকেরা। কারণ হিসাবে জানা যায়, ফ্যান্সিং সোলার সিস্টেম পূর্বের ন্যায় এখন আর কাজ করছে না। তাই অত্রাঞ্চলের মানুষেরা জীবন বাঁচাতে অনেক সময় বিদ্যুৎ এর তার টানিয়ে রাখে। আর এই সমস্ত বন্যহাতির দল লোকালয়ে আসার সময় বিদ্যুৎতের তারে জড়িয়ে, আবার কখনো গর্তে পড়ে হাতিগুলি মারা যাচ্ছে বলে জানা যায়। প্রয়োজন যেমন আইন মানতে চায় না, তেমনি হাতির আক্রমন থেকে মানুষ বাঁচার জন্য বিভিন্ন কলা-কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। আর বন্যহাতির দল খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে আসলে মানুষের তৈরী করা ফাঁদে জীবন হারাচ্ছে। আর সীমান্তে এভাবেই হাতি আর মানুষের মধ্যে চলছে বাঁচা-মরার লড়াই। তাই বিজ্ঞ মহল মনে করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার্থে বন্যহাতির খাবারের জন্য প্রয়োজন অভয়াশ্রম। তাহলেই বন্যহাতির খাবারের প্রয়োজনে আর লোকালয়ে নেমে আসবে না। ফলে হাতির আক্রমন থেকে রক্ষা পাবে মানুষ, তাদের ফসলাদি এবং ঘর-বাড়ি। প্রকাশ থাকে যে, ২০০১ সাল থেকে ভারত থেকে খাবারের সন্ধানে নদী পথে দলে দলে বন্য হাতি বাংলাদেশের অভ্যান্তরে প্রবেশ করে। কিন্তু পরবর্তীতে হাতিগুলি আর খাবার সংকটের কারণে ভারতে ফিরে যায় না। প্রবেশকৃত বন্য হাতির দলগুলি বাংলাদেশের অভ্যান্তরেই থেকে যায়। এই সমস্ত বন্যহাতির দল কখানো পাহাড়ের গাছপালা খেয়ে পাহাড়েই থাকে। আবার পাহাড়ে লতা-পাতা বা খাদ্যের সংকট দেখা দেয় তখনি লোকালয়ে এসে খাবারের জন্য তান্ডব চালায়। এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে দীর্ঘ সময় ধরে অত্র সীমান্ত অঞ্চলে।

উল্লেখ্য, গতকাল শেরপুরের ঝিনাইগাতী গারো পাহাড় থেকে একটি বন্যহাতির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গজনী বিটের ভেরভেরি এলাকা থেকে ওই মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিভিন্ন সূত্র জানায়, ভেরভেরি এলাকার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত রেখার মাঝামাঝি বাংলাদেশ অভ্যন্তরের একটি খোলা মাঠে কয়েকজন রাখাল একটি বন্যহাতির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে। পরে বিষয়টি বন বিভাগকে অবহিত করা হয়। এমন সংবাদ পেয়ে বন বিভাগের গজনী বিটের কর্মকর্তা ও বন্য প্রাণি ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা এসে বন্যহাতির মৃতদেহটি উদ্ধার করেন।

বন্য প্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ জানান, মৃত হাতিটির বয়স আনুমানিক ২০/২৫ বছর হবে। এটি একটি মাদি হাতি।
দেড় যুগের বিরাজমান হাতি ও মানুষের মধ্যে যে বাঁচা-মরার লড়াই তার কারণ চি‎িহ্নত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন এমন প্রত্যাশা অত্রাঞ্চলবাসীর।
এব্যপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা জানান, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু উপজেলার পরিষদের পক্ষে সর্ম্পূণ সমাধান করা সম্ভব না। এটা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।